মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী : চিংড়ী ও লবণ একটি অর্থকারী ফসল। এশিল্পকে বাঁচাতে এবং নিজেকে সাবলম্বী করতে অধম্য এ যুবক ও চাষীরা আগাম লবণ মাঠে নেমেছে। লবণ মাঠ তৈরীর পর মাঠে আগাম লবণ উৎপাদিত হচ্ছে। লবণের দাম বাজারে স্থিতিশীল থাকায় চাষীরা লবণ উৎপাদনে কোমর বেঁধে কাজ করছে। টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা, টেকনাফ পৌর এলাকা, টেকনাফ সদর, সাবরাং ও শাহপরীরদ্বীপসহ ৫ ইউনিয়নে প্রায় ৫ হাজার ১০ একর জমির চেয়ে বেশী লবণ উৎপাদন হয়। নাফ নদীর উপকূলীয় এলাকায় লবণ উৎপাদিত হয়। লবণ উৎপাদনে এখন ভরা মওসূম। তাই চাষীরা লবণের ন্যায্য দাম পেতে চাষীরা এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী জেলার অন্যান্য এলাকার চেয়ে টেকনাফে প্রতি কানিতে লবণ মওসূমে ৪শত মন লবণ উৎপাদিত হয়। পানির ঘনত্ব ও মাঠির উর্ভরতার কারণে এখানে লবণ বেশী উৎপাদিত হয়। টেকনাফ সীমান্তে যে ক’জন লবণ উৎপাদনকারী মালিক রয়েছে, তার মধ্যে আব্দুর রহমান অন্যতম। সে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মৌলভী পাড়ার হাজী ফজল আহমদের পুত্র। প্রায় ৩শত কানি লবণ মাঠে শতাধীকে শ্রæমিক লবণ, উৎপাদনে নেেেমছে। ৫ বছর ধরে ধারা বাহিকভাবে লবণ চাষ করেই যাচ্ছে। ২০১৫ ও ২০১৬ এ গেল দুই বছরে আশাতীত লবণ উৎপাদন কোটি কোটি টাকা আয় করেছে। লবণ উৎপাদন করে রহমান এখন সাবলম্বী। সে ইয়াবা ব্যবসাকে মনে প্রাণে ঘৃণা করে এ পেশাকে সে ভাগ্যপরিবর্তনের একমাত্র নিরাপদ মনে করছেন। এ পেশাকে উন্নয়ন দুরগড়ায় পৌঁছাতে হলে সরকারী পৃষ্টাপোষকতা ও ঋণ নিতান্ত প্রয়োজন বলে সে জানান। মাঠে এখন লবণ উৎপাদন হচ্ছে। মূল্য ঠিক থাকায় চাষীদের মূখে আগাম হাসি ফুটেছে। মৌলভীপাড়ার পূর্বে নাফ নদীর তীরে ৩ শত কানি জমিতে লবণ উৎপাদন পুরোদমে চলছে। যুবক রহমান বলেন, সুদিনে চলে লবণ উৎপাদন এবং বর্ষা মওসূমে চলে চিংড়ী চাষ। প্রায় ৩শত কানি জমিতে এভাবে দুই মওসূমে লবণ ও চিংড়ী চাষ করে সে আর্থিকভাবে সফলতা অর্জন করেছেন। তার অভিলশ দেশীয় শিল্প বিপ্লবের মাধ্যমে এ সফলতা অর্জন সম্ভব। অন্য কিছু নয়। প্রায় শতাধিক লবণ উৎপাদনকারী শ্রæমিক মাথার ঘাম পায়ে পেলে লবণ ও চিংড়ী শিল্প বিপ্লবকে বাঁচাতে অভিরাম কাজ করে যাচ্ছে। আর এ কাজের তদারকী এবং অর্থযোগান দিচ্ছেন, জমির মালিক রহমান। এক প্রশ্নের জবাবে রহমান বলেন, এ শিল্পকে বাঁচাতে এবং উৎপাদনের সুবিধার্থে মৌলভীপাড়ার পূর্বসীমানা থেকে নাফনদীর বেড়ীবাঁধ পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নে দীর্ঘ প্রতিরক্ষাবাঁধ কাম রাস্তা নির্মাণ করে এলাকায় সে প্রশংসিত হয়েছেন। এ অধম্য সাহস নিয়ে এ যুবক সুদীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ এ শিল্প বিপ্লবেকে বাস্তবে পরিনত করতে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার দৃঢ় সংকল্প এ শিল্প উন্নয়নে ভবিষ্যতে একজন শিল্পপতি হওয়া আশংখা। এ চিন্তাধারা নিয়ে সে সামনে হাঁটি হাঁটি পা পা করে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌছার চেষ্ঠা করছে। তার মতে ইয়াবার অর্থে বড় লোক হওয়া যায়। সম্মান ও শান্তি নেয়। অবৈধ উপার্জনে মানবিক প্রশান্তি ও স্বাধীনতা আছে। তাই শেষ পর্যন্ত রহমান লবণ ও চিংড়ী শিল্পকে একমাত্র নিরাপদ পেশা হিসাবে বেঁচে নিয়েছেন। মনোনিবেশ তার একমাত্র প্রত্যাশা। এ প্রত্যাশা পূরণে অধম্য এ যুবক সকলের দোয়া ও সহযোগিতা চেয়েছেন। সম্প্রতি এ প্রতিবেদক মৌলভী পাড়া নাফনদীর তীরে লবণ মাঠ পরিদর্শন করে দেখা যায়, অসংখ্যা চাষীরা লবণ উৎপাদনে নেমেছে মাঠের পরিচালক মোঃ ইয়াছিন জানায়, আমি ৫ বছর যাবৎ আবদু রহমানের ৩শত একর লবণ ও চিংড়ী চাষ উৎপাদনে দেখা শুনা করে আসছি। গত বছর আবহাওয়া ভাল থাকায় সাফল্যের সাথে লবণ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি। ভবিষ্যতে আবহাওয়া ভাল থাকলে এ বছরও তার চেয়ে বেশী লবণ উৎপাদন হবার সম্ভবনা রয়েছে। হেড মাঝি মোঃ সেলিম জানায়, ১২০ জন লবণ চাষী নিয়ে গত নভেম্বর মাসে মাঠ তৈরির পর এখন লবণ উৎপাদিত হচ্ছে। সম্পূর্ণ পলিথিনের মাধ্যমে সাদা স্বাস্থ্য সম্মত লবণ উৎপাদিত হচ্ছে। বাংলাদেশ কুটির শিল্প (লবণ) টেকনাফ উপজেলা ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান এর সত্যতা নিশ্চিৎ করে বলেন, রহমান একজন পেশাগত চাষী, সে লবণ ও চিংড়ী উৎপাদন বিপলবে তার যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।
