টেকনাফ প্রতিনিধি :
টেকনাফে মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাজী মাষ্টার আব্দুস শুকুরের বসত বাড়ীতে হামলায় ঘটনায় ৩ সন্ত্রাসীকে আদালতে প্রেরন করেছে পুলিশ।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাইন উদ্দিন খান সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান হামলার ঘটনায় আটককৃতদের বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজার আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।
আসামীরা হচ্ছে মো: কালু প্রকাশ বামবুইল্লাহ(৪৮), শাহ আলম(৩৫) ও শফিক (২৮)।
বসত ভিটায় হামলার ঘটনায় ধৃতরাসহ ৭ জন জ্ঞাত ও ৪/৫ জন অজ্ঞাত আসামীর বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় বুধবার মামলাটি দায়ের করা হয়।
জানা যায়, গত বুধবার দুপুরে টেকনাফের সর্বজন শ্রদ্ধেয় (অব:) প্রধান শিক্ষক ও মুক্তিযোদ্ধা পৌরসভার অলিয়াবাদ এলাকার বাসিন্দা আব্দুস শুকুরের বসত ভিটায় দা-কিরিচ সহ দেশীয় অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসী।
এসময় পেশাদার সন্ত্রাসী ও একসময়ের কুখ্যাত ডাকাত সর্দার বামবুইল্লাহর নেতৃত্বে তার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী ইয়াবা ও মানব পাচারের গডফাদার গোদারবিল এলাকার মকবুল আহমদ লেড়ুর পুত্র টেকনাফ থানা হামলা মামলার আসামী ভূমিদস্যূ ও গরু চোর চক্রের সদস্য শাহ আলম, শফিক, বামবুইল্ল্যার ছেলে ইয়াবা ব্যবসায়ী ইসমাঈল, আব্দুল মোনাফের ছেলে গাছ খেকো তজিল আহমদ ও কবির আহমদসহ সন্ত্রাসীরা অতর্কিতে হামলা চালিয়ে বসত বাড়ির ঘেরাবেড়া, গাছ পালা কেটে ফেলে, বাড়ির লোকজনের উপর হামলা চালিয়ে গুরুত্বর আহত করে। এমনকি সন্ত্রাসীরা বাড়িতে ঢুকে লুটপাত চালায়। এতে বাড়ির কয়েক লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়।
মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার আব্দুস শুকুর জানান, ১৯৬৬ ইং থেকে অলিয়াবাদ এলাকায় নিজ ক্রয়কৃত জমিতে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু কখনো এ ধরনের ন্যাক্যার জনক ঘটনা ঘটেনি।
কয়েক বছর আগে কালু প্রকাশ বামবুইল্লা নামক ব্যক্তিটি তার বসত ভিটার পাশে কিছু জমি ক্রয় করে সীমানায় জমি দখলের অনবরত চেষ্টা চালাতে থাকে। কোন একসময় রাতের অন্ধকারে সে শিক্ষকের বসত ভিটায় অবৈধভাবে খুটি পুতে দেয়। তা সরাতে বললে সন্ত্রাসীদের নিয়ে হামলা চালায়। ওই ব্যক্তির আগমনের পর থেকে এলাকায় শান্তি শৃংখলা বিঘ্নিত হয়ে আসছিল বলে জানান তিনি ।
এছাড়া এলাকা সূত্রে জানা যায়, তার বাড়িতে নানা অসামাজিক কর্মকান্ডে এলাকার মানুষ অতিষ্ট।
বামবুইল্লার স্ত্রীকে কয়েকবার এলাকার লোকজন অসামাজিক কাজের সময় হাতে নাতে ধরে শায়েস্তা করে বলে জানা যায়। শুধু তাই নই এই বামবুইল্লার বসত বাড়িটি বর্তমানে ইয়াবা পাচারকারী ও রোহিঙ্গাদের ঘাটিতে পরিণত হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, হামলার হোতা গোদারবিল এলাকার হাশেমের পুত্র বামবুইল্লা ছিল একসময় গোদারবিল এলাকার ত্রাস। একটি সংঘবদ্ধ বাহিনী গঠন করে সে চুরি ডাকাতিসহ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। পরে আইন শৃংখলা বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে সে বিদেশে পালিয়ে যায়। কয়েক বছর পর সেখান থেকে ফিরে সাধু সেজে অলিবাবাদ এলাকায় বসবাস করতে থাকে। তার পূর্বের অপরাধ ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে সে অলিয়াবাদ এলাকায় জমি কিনে সেখানে নতুন বসতি গড়ে। কিন্তু কয়লা ধুইলে যায়না ময়লা তদ্রুপ সেখানেওে সে প্রতিবেশীদের শান্তিতে থাকতে দেয় নি। আশেপাশের প্রতিবেশীদের বসতভিটা দখল সহ নানা ফন্দি সে করতে থাকে। আর এতে সে গেোদারবিল এলাকার মকবুল আহমদের পুত্র শাহ আলমের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী গোপনে গড়ে তোলে। এই সন্ত্রাসী বাহিনীকে ব্যবহার করে সে ভূমিদস্যূতা শুরু করে। এই ভূমিদস্যূ চক্রে অলিয়াবাদ এলাকার গফুর আলম নামে তাদের অপর এক সহযোগী রয়েছে। প্রশাসন ও আইনের হাত থেকে রক্ষা পেতে গফুর আলম কাজ করে থাকে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে এই চক্রের হাতে বহু মানুষ জমি জমা হারিয়েছে ও হয়রানীর শিকার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে গফুর আলম সন্ত্রাসীদের জামিনের জন্য বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবী ও নিন্দার ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
