মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
গরীবের একমাত্র সম্বল হচ্ছে বাঁশ। গৃহনির্মাণের একমাত্র উপায় বাঁশ। বাঁশ ছাড়া গৃহনির্মাণের বিকল্প কোন পথ নেই তাদের। টেকনাফে বাঁশ উৎপাদনের কোন ব্যবস্থা নেই। তাই ভোক্তারা মিয়ানমার বাঁশের প্রতি নির্ভরশীল। সীমান্ত বাণিজ্যের আওতায় মৌসূমে মিয়ানমার থেকে প্রচুর পরিমাণ বাঁশ আমদানি হলেও বাঁশের দাম আগুন। টেকনাফ স্থল বন্দর দিয়ে বাঁশ আমদানি করার নিয়ম থাকলেও এ বাঁশ বিকল্প পথ টেকনাফ পৌর শহরের কায়ুকখালী খাল দিয়ে বাঁশ আমদানি হচ্ছে, দীর্ঘদিন থেকে। মিয়ানমার থেকে সরাসরী গৃহনির্মাণ সামগ্রী বাঁশ ও ওমপাতা আমদানি হচ্ছে এ খাল দিয়ে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টেকনাফ সীমান্তে বাঁশ ও ওমপাতা ব্যবসায়ীর কাছে ভোক্তারা একপ্রকার জিম্মি। সরকারী কর ছাড়া বিভিন্ন সংস্থাকে নজরানা দিয়ে বাঁশ আমদানি হয়ে আসছে। তবে কি পরিমাণ মিয়ানমার থেকে বাঁশ আমদানি হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানে কিনা সন্ধেহ রয়েছে। এ নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বাঁশ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়মানুযায়ী প্রতি বাঁশের দাম নির্ধারণ করা এবং বাঁশ বাজার প্রতিষ্ঠানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন করা নিয়ম থাকলেও এ নিয়ম প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননী। ফলে এ বাঁশ ব্যবসায়ীরা এ সুযোগকে পুঁজি খাটিয়ে ভোক্তাদের কাছ থেকে ইচ্ছামাফিক দাম হাতিয়ে তাদের পকেটভারী করছে। গত ২৯ মে গেল ঘূর্ণিঝড় মোরা’র আক্রমনে গোটা টেকনাফে কাঁচাঘর সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে যায়। এ প্রেক্ষিতে বাঁশ ব্যবসায়ীরা বাঁশের মূল্য হঠাৎ বৃদ্ধি করে দিয়েছে। এর পূর্বে একশত বাঁশ বিক্রি হতো ৩ হাজার টাকা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩৭ থেকে ৪ হাজার টাকা। প্রতি বাঁশের সরকারী ভাবে কাস্টমস্ কর ১ টাকা ২০ পয়সা। এছাড়া বিভিন্ন এজেন্সিকে নজরানা দিয়ে আসা বাঁশের অতিরিক্ত দাম ভোক্তাদের ঘাড়ের উপর ছাপিয়ে দিচ্ছে। এর পাশাপাশি গৃহনির্মাণ সামগ্রী ঢেউটিন ও তারে দামও সমান তালে চলছে। বিকল্প গৃহনির্মাণের ছ্উানি পলিথিন হিসাবে গরীবেরা ব্যবহার করলেও এটিও তাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। সরকারীভাবে বাজার মনিটরিং ব্যবহার নিয়ম থাকলেও এ নিয়ম শুধু কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ। বাস্তবে এর সুফল পাচ্ছেনা ভোক্তারা। এ দৃশ্য দেখলে মনে হয়, বাজার নিত্যপণ্য নিয়ন্ত্রনে অভিভাবক নেই। আজ এমন অবস্থা চলছে বাঁশ বাজারে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন সচেতন ভোক্তা আক্ষেপ করে বলেন, আমরা অর্থাৎ ভোক্তারা আর্থিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছি। আমাদের স্বার্থ নিয়ে কেউ চিন্তা করেন না। যাদের আর্থিক অবস্থা ভাল নয়, তারা শুধু গৃহনির্মাণে বাঁশ ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে গৃহনির্মাণ করছে। সুতারাং এ নিয়ে প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের ভেবে দেখা প্রয়োজন বলে অনেকের অভিমত।
