শ.ম.গফুর, উখিয়া :
উখিয়ার পার্শ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে এক হতদরিদ্র সামী পরিত্যক্তা মহিলার ছাগল হত্যার ঘটনায় তোলপাড় চলছে। কোন আক্রোশে ছাগল হত্যা করে ক্ষেতের ফসল খাওয়ার প্রতিশোধ নিল? নাকি অনিচ্ছাকৃত হামলায় ছাগলের মৃত্যু হল?এমন প্রশ্নের ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। তবে আশচর্যজনক হলেও সত্য যে, ছাগলের মালিক লায়লা বেগম সামী পরিত্যক্তা ৩ সন্তানের জননী। মানুষের বাড়িতে ঝিঁয়ের কাজ করে কোন রকমেই জীবনযাপন করছেন। কোনদিন কাজ না পেলে উপোস থাকতে হয় লায়লাদের। খেয়ে না খেয়ে ৩ সন্তানের ভবিষ্যৎ চেয়ে ধারদেনা করে দুটটি ছাগল লালন করছিলেন। ছাগলটি ঘুমধুম হেডম্যান পাড়ার পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন ব্যক্তির মালিকানাধীন বাগানে চরত। সন্ধ্যায় ফিরে আসতো। প্রতিদিনের মত গত শুক্রবার ছাগলটি চরতে গিয়ে ফিরে না আসায় সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোজাঁখুজি করেও সন্ধান পাননি। পরদিন শনিবার অন্য এক বাগান মালী মারফত খবর পান ছাগলটি ঘুমধুমস্থ রেড়িয়েন্ট গ্রুপের বাণিজ্যিক বাগানের সীমান্ত চৌহদ্দির দক্ষিণ – পুর্ব পার্শ্বের কাটাতারে মৃত অবস্থায় আটকে আছে। তখনই লায়লা বেগম স্থানীয় কিছু লোকজন নিয়ে মৃত ছাগলটি উদ্ধার করে বাগান মালিক কর্তৃপক্ষের লোকজনের নিকট অবগত করে ছাগল মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে উল্টো লায়লা বেগম কে নানা অশালীন গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেয়।ছাগলের গাঁয়ে ধারালো “দা “র কুপ রয়েছে। অসতর্কবশত ‘দা ‘র কুপের ছাগলের মৃত্য হয়েছে ধারণা করা হয়। ছাগলটি রেডিয়েন্ট গ্রুপের বাগান পাহারায় নিয়োজিত রোহিঙ্গা ও স্থানীয় শ্রমিকদের কেউ দায়ের, কুপ মেরে হত্যা করে। একমাত্র সহায় সম্পদ ছাগলটির এমন করুন মৃত্যুর জন্য বাগান কর্তৃপক্ষ কে দায়ী করে লায়লা বেগম ঘুমধুম ইউপির ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ড মেম্বার কামালউদ্দিন ও আবদুল করিম এবং ঘুমধুম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি খালেদ সরওয়ার হারেজ কে অবহিত করে প্রতিকার চেয়ে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে ঘুমধুম তদন্ত কেন্দ্র পুলিশ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। এতে ঘুমধুমস্থ রেডিয়েন্ট গ্রুপের প্রজেক্ট ডিরেক্টর হাসান জাহিদ চৌধুরী ও অজ্ঞাত বাগান কর্মচারীদের বিবাদী করা হয়। এ ব্যাপারে রেডিয়েন্ট গ্রুপের বাগান প্রকল্প পরিচালক হাসান জাহিদ চৌধুরী জানান, ছাগলটি কে মেরেছে তার প্রমাণ আছে? আর অভিযোগ যখন দিয়েছে দেখা যাক কি হয়। ঘুমধুম তদন্ত কেন্দ্র পুলিশের ইনচার্জ মোঃ এরশাদ উল্লাহ জানান, তদন্ত পুর্বক প্রসিকিউশন দেওয়া হইবে। বিষয়টি দুঃখজনক। নেহায়েত হতদরিদ্র মহিলার সহায় সম্পদ ছাগলটি হারিয়ে ফাঁড়িতে বিলাপ করে কান্নাকাটি করেছে বলে জানতে পারি।
শ.ম.গফুর, কক্সবাজার
