চকরিয়ায় গোয়ালঘর থেকে গরু উদ্ধার ; আওয়ামী লীগ নেতার পরিবারকে ফাঁসানোর অভিযোগ!

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ১ বছর আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক,চকরিয়া : চকরিয়া উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের পুকপুকুরিয়া এলাকার জসিম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির বাড়ির গোয়ালঘর থেকে পুলিশ ২টি বাছুরসহ ৪টি গরু উদ্ধার করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় লোকজনের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে থানা পুলিশের একটি টিম ওই এলাকায় গিয়ে গরু গুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।
বাড়ির মালিক জসিম উদ্দিন ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর ছোট ভাই।

এদিকে বাড়ির গোয়ালঘর থেকে গরু উদ্ধারের ঘটনাটি স্থানীয় কুচক্রী মহলের পরিকল্পিত সাজানো নাটক বলে অভিযোগ তুলেছেন জসিম উদ্দিনের স্ত্রী সেলিনা আক্তার। তিনি দাবি করেন, গভীর রাতে বাইর থেকে দুটি গরু এনে কতিপয় মহল আমার বাড়ির গোয়ালঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে কৌশলে উদ্ধার নাটক সাজিয়েছে।

সেলিনা আক্তার বলেন, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তাঁর ভাসুর গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে আমার স্বামী জসিম উদ্দিনকেও একাধিক মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। অথচ আমার স্বামী কোন রাজনীতির সাথে জড়িত নয়। তারপরও সে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার এড়াতে ৪মাসের বেশি সময় ধরে তাঁর স্বামী জসিম উদ্দিন বাড়িতে থাকে না। ছোট দুই ছেলে মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে থাকেন তিনি।

বুধবার রাতে ছেলে মেয়েকে নিয়ে আমি বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলাম। এরইমধ্যে রাতের যেকোনো সময় এলাকার কতিপয় কুচক্রীমহল পরিকল্পিত ভাবে বাইর থেকে দুটি গরু এনে আমার বাড়ির উঠানে গোয়ালঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে দরজায় তালা লাগিয়ে যায়। গতকাল সকালে ফজরের নামাজ পড়ে যখন আমি বাড়ির দরজা খুলছিলাম, তখন ৮/১০ জন অপরিচিত মানুষ এসে আমার বাড়ির উঠানে জড়ো হয়। এসময় আমি তাদের কাছে জানতে চাই, কেন আমার বাড়িতে এসেছেন, তখন তাঁরা বলে, আপনার বাড়িতে চোরাই গরু আছে।

সেলিনা আক্তার দাবি করেন, যেখানে আমার স্বামী জসিম উদ্দিন রাজনৈতিক মামলার আসামি হওয়ায় ভয়ে পাঁচ মাস ধরে বাড়িতে থাকে না, সেখানে কীভাবে আমার গোয়ালঘরে চোরাই গরু আসবে উল্টো তাদের প্রশ্ন করি। এরইমধ্যে গতকাল সকাল সাড়ে আটটার দিকে চকরিয়া থানার পুলিশ এসে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে দুইটি গরু উদ্ধার করে। এসময় পুলিশ আমার পালিত দুটি গরুর বাছুরও নিয়ে যায়।

সেলিনা আক্তার অভিযোগ করে বলেছেন, আমার ভাসুর গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চারবারের চেয়ারম্যান। ৩২ বছর ধরে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও আহবায়ক ছিলেন। মুলত তাঁর সম্মানহানি করার জন্য এবং নতুন করে মামলায় জড়িয়ে আমার স্বামীসহ পরিবার সদস্যদের হয়রানি করার জন্য কতিপয় মহল পরিকল্পিত ভাবে আমার বাড়ির গোয়ালঘরে রাতের আঁধারে গরু ঢুকিয়ে দিয়ে কৌশলে এই উদ্ধার নাটক সাজিয়েছে। এধরণের মানহানিকর ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন ও এলাকার সর্বস্তরের জনগণের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ওসি মো: মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, হারবাং থেকে চুরি হওয়া দুটি গরু ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এব্যাপারে গরু মালিক অভিযোগ দায়ের করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ##