টেকনাফে একই দিনে উদ্ধার হলো বিলুপ্ত প্রায় মেছো বাঘ ও হিমালয়ান শকুন

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ২ years ago

নুরুল করিম রাসেল, টেকনাফ টুডে ডটকম :

টেকনাফে একই দিনে উদ্ধার হয়েছে বিলুপ্ত প্রায় একটি মেছো বাঘ ও একটি শকুন। মেছো বাঘটি দমদমিয়া নেচার পার্কে অবমুক্ত করা হয়েছে অপরদিকে শকুনটি কিছুটা দূর্বল থাকার কারনে ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কে রাখা হয়েছে।

 

টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান উপরোক্ত তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি জানান, টেকনাফ পৌরসভার বাস স্টেশনের একটি দোকান থেকে মেছো বাঘের বাচ্চা উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।
২৪ জানুয়ারি সকালে টেকনাফ পৌরসভার সমশু হাজী মার্কেটের একটি দোকান থেকে মেছো বাঘটি উদ্ধার করা হয়।

দোকানদার আরাফাত হোসেন বলেন, সকালে দোকান খুলতে এসে দেখতে পাই একটি বিড়ালের বাচ্চার মত। পাশের দোকানের লোকজন এসে দেখে তারা মেছো বাঘের বাচ্চা বলে সনাক্ত করেন। পরবর্তীতে বন বিভাগের লোকজন এসে মেছো বাঘের বাচ্চাটি উদ্ধার করে বন বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।

টেকনাফ সদর বিট অফিসার আবুল কালাম সরকার বলেন, সকালে গোপন সংবাদের জানতে পারি একটি মেছো বাঘের বাচ্চা টেকনাফ পৌরসভা বাস স্টেশনে সমশু হাজী মার্কেটে একটি দোকানে মেছো বাঘের বাচ্চা পাওয়া গেছে। সঙ্গে সঙ্গে খবর পেয়ে বন বিভাগের একটি টিম সেখানে গিয়ে বাঘের বাচ্চাটি উদ্ধার করে বন বিভাগে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে মেছো বাঘের বাচ্চাটি সুস্থ রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাণীটির সবার কাছে ‘মেছো বাঘ’ হিসেবে পরিচিত। ধারনা করা হচ্ছে মেছো বাঘের বাচ্চাটির খাদ্যের অভাবে লোকালয়ে নেমে আসে।

অপরদিকে দুপুরে টেকনাফ পৌরসভার ট্রানজিট জেটি সংলগ্ন বেড়ী বাঁধ এলাকা থেকে স্থানীয় এক ব্যক্তি শকুনটি পেয়ে বন বিভাগকে হস্তান্তর করেন। পরে সেটি বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কে রাখা হয়েছে।

রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, শকুনটি বিলুপ্ত প্রায় হিমালয়ান প্রজাতির শকুন। শকুনটি বয়সের কারনে ও কিছুটা শীতে কাবু হয়ে মাটিতে নেমে আসে বলে ধারনা করছেন তিনি। তিনি আরো জানান, একসময় দেশে এই প্রজাতির শকুন প্রচুর পরিমানে দেখা গেলেও এখন তা অনেকটা বিলুপ্ত প্রায়। এর আগে শাহপরীরদ্বীপে আরো একটি এই প্রজাতির শকুন উদ্ধার করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।