হ্নীলায় পাহাড়ে অপহরণের চেষ্টাকালে রাখাল আর বনদস্যুদের মধ্যে সংঘর্ষে ২জন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৩ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : টেকনাফের হ্নীলায় পাহাড়ে গরু চরাতে গিয়েই এক রাখাল বনদস্যু দলের খপ্পরে পড়ে। এতে দুপক্ষের সংঘর্ষে দার কোপে রফিক ডাকাত রক্তাক্ত এবং রাখাল জাফর আলম গুলিবিদ্ধ হয়ে মুমূর্ষাবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

জানা যায়, ২৬ আগস্ট সকাল ৯টারদিকে উপজেলার হ্নীলা দক্ষিণ আলীখালীর মৃত জলাল আহমদের পুত্র জাফর আলম (১৭) গরু নিয়ে আলীখালী বড়ছড়ার পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছলে উক্ত গ্রামে বসবাসরত পুরান রোহিঙ্গা মোহাম্মদ ইউছুফের পুত্র ডাকাত রফিকের নেতৃত্বে বনদস্যুদের স্বশস্ত্র একটি গ্রæপ গতিরোধ করে। ডাকাত দল রাখাল জাফরকে ধরে নিতে চাইলে জাফরের হাতে থাকা দা দিয়ে ডাকাত রফিকের মুখে এক পাশে অনবরত ২/৩ কোপ দিলে সে ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে যায়। এসময় ডাকাত দলের অপর সদস্যরা ক্ষুদ্ধ হয়ে রাখাল জাফরকে মাটিতে ফেলে পেটের মধ্যে উপর্যুপরি বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করলে পেটের নাড়ি-ভূঁড়ি বেরিয়ে যায়। এরপর কান্নাকাটি ও গুলিবর্ষণের আওয়াজ শুনে পাশর্^বর্তী মাঠ ও ক্ষেতে কর্মরত লোকজন জড়ো হয়ে ঘটনাস্থলে গেলে ডাকাত দল রক্তাক্ত ডাকাত রফিককে কাঁধে করে বনের ভেতরে নিয়ে যায়। গ্রামের লোকজন রক্তাক্ত রাখাল জাফরকে কোন প্রকারে উদ্ধার করে আলীখালী এনজিও হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রæত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়।

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার খবর পেয়ে হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। উক্ত বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। প্রকৃত দূবৃর্ত্ত কারা তা সনাক্ত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের উর্ধ্বতন মহলের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এদিকে গুলিবিদ্ধ রাখাল জাফরের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় কক্সবাজার সদর হাসপাতাল হতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা রাখাল জাফরকে চমেকের আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অপরদিকে রক্তাক্ত ডাকাত রফিকের অবস্থাও সংকটাপন্ন। তাকে রাতের আঁধারে রঙ্গিখালী এলাকার পাহাড়ের পাদদেশ থেকে বের করে উন্নত চিকিৎসার জন্য গয়ালমারা অথবা কুতুপালং হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহ খানেক আগে গুলিবিদ্ধ রাখালের একটি গরু পাহাড়ি ডাকাত দল জবাই করে খেয়ে ফেলে। এরপর ১০হাজার টাকা চাঁদা নেয়। অবশেষে আজ ধরে নিতে গিয়েই দুপক্ষের মধ্যে এই নৃংশস ঘটনা ঘটে। এই ডাকাত রফিকের নেতৃত্বে গত ১৫আগস্ট রাত ১১টারদিকে একদল স্বশস্ত্র ডাকাত আলীখালী রাস্তার মাথায় এসে মিয়ানমার থেকে আসা মাদকের চালান খালাস করে নিয়ে যায়। স্থানীয় মাদক কারবারী ও প্রভাবশালী মহল এসব অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এছাড়া হোয়াইক্যং ও হ্নীলা ইউনিয়নের পাহাড়ের পাদদেশে চাষাবাদ ও গরু চরাতে হলে পাহাড় কেন্দ্রিক দূবৃর্ত্তদলকে নির্দিষ্ট অংকের চাঁদা দিতে হচ্ছে বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে। ডাকাত দল আরো দম্ভ করে হুমকি দিয়ে বেড়ায় মেম্বার, চেয়ারম্যান ও প্রশাসন কাউকে আমরা ভয় করিনা। আমাদের দাবীকৃত চাঁদা না দিলে গরু চরানো যাবেনা এবং চাষাবাদও করা যাবেনা বলে হুমকি দেয়। এতে অনেকে নিরুপায় হয়ে সহায় সম্বল বিক্রি করে টাকা দিচ্ছে বলে জানা গেছে। ###