বিশেষ প্রতিবেদক : টেকনাফে মেয়ে বিয়ে দেওয়ার জন্য খেয়ে ইয়াবা পাচার করতে গিয়েই আইন-শৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে এক ব্যক্তি। এক্সরে করার পর ঔষুধ খেয়ে ৩দিন পর ইয়াবার চালান বের করেছে পুলিশ।
জানা যায়, ১৬সেপ্টেম্বর সকালের দিকে সীতাকুন্ড থানার ভাটিয়ারী বাসষ্টেশন এলাকার হাসপাতালে অভিনব কায়দায় খেয়ে ইয়াবা পাচারকারী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়াস্থ কোনার পাড়ার নুরুল আমিনের পুত্র জহির উদ্দিনের পেট থেকে ১হাজার ৫শ ৬০পিস ইয়াবা বড়ি বের করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাদে জোহর সীতাকুন্ড থানার একদল পুলিশ ভাটিয়ারী ষ্টেশন হতে সন্দেহভাজন অবস্থায় গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদকালে পেঠে ব্যথার কথা বলে কৌশলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন তার আচরণ সন্দেহজনক হলে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। উক্ত হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা কৌশলে জিজ্ঞাসাবাদ চালালে ধৃত ব্যক্তির পেটে ইয়াবা আছে বলে স্বীকার করেন।
এরপর এক্সরে করেও তার পেঠের ভেতরে ইয়াবা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও পেট থেকে ইয়াবা বের করতে সময় লাগবে বলে জানান চিকিৎসকেরা। শেষ পর্যন্ত আজ শুক্রবার পেটের ভিতর বিশেষ কায়দায় রাখা ১হাজার ৫শ ৬০ পিস ইয়াবা বের করা হয়।
সীতাকুন্ড থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সুমন বনিক স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, এই ঘটনায় থানায় মাদক আইনের মামলায় ওই যুবককে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে আটক ব্যক্তির গ্রামের বাড়িতে খোঁজ-খবর নিলে স্থানীয়রা জানায়, ইয়াবাসহ আটক ব্যক্তি আগে মৎস্য ঘাটে মাঝিগিরির কাজ করতো। ৬/৭ বছর মালয়েশিয়া চলে যায়। ৫/৬ আগে চলে আসে। তার ঘরে পুইত্যানী নামে বিয়ের উপযুক্ত এক মেয়ে রয়েছে। টেকনাফ সদর ইউপির মহেশখালীয়া পাড়ার জনৈক পান বিক্রেতা যুবকের সাথে ঐ মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়। কিন্তু পিতার হাতে টাকা না থাকায় এলাকার চিহ্নিত কিছু মাদক কারবারীর খপ্পরে পড়ে এই পথে পা বাড়িয়েছে।
এলাকার আরেক দল মানুষ জানিয়েছে, টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দাদের বেশীর ভাগই মানুষ বেকার। মাদক কারবারী চক্র এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসহায়-দরিদ্র মানুষকে মাদকের চালান বহনে বাধ্য করাচ্ছে। যা মারাতœক অপরাধ। ###
