হ্নীলা মৌলভী বাজারের মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্কে সহায়-সম্বল ও সংসার তছনছ!

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ২ years ago

বার্তা পরিবেশক : টেকনাফের হ্নীলায় প্রেমের সম্পর্ক ও পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ের পর মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রীর একাধিক অনৈতিক কর্মকান্ডে সংসারে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া প্রবাসীর বিপূল পরিমাণ টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র তছনছ করে স্কুল পড়–য়া ছেলের ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়ায় জনমনে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলেও পরস্পর বিরোধী অভিযোগ তোলা হচ্ছে। প্রবাসী স্বামী তাদের টাকা, অলংকার ও আসবাবপত্র ফেরত পাওয়ার দাবী জানাচ্ছে।

প্রবাসী ফারুক জানান,২০০৭সালে উপজেলার হ্নীলা মৌলভী বাজার দক্ষিণ পাড়ার রশিদ আহমদের মেয়ে ইয়াছমিন আক্তারের সাথে স্থানীয় মৃত আব্দুস সামাদের পুত্র আমি ফারুকের সাথে প্রেমের সম্পর্কের জেরধরে পারিবারিক সম্মতিতে আমাদের বিয়ে হয়। আমাদের সংসারে মোঃ ফারদিন নামে এক ছেলে সন্তানের আগমন ঘটে। বর্তমানে সে প্রাইমারী স্কুল পড়–য়া। ২০১৪ সালের মে মাসে আমি জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়া প্রবাসে চলে আসি। এখানে সেটেল হওয়ার পর জুলাই মাস হতে আমি স্ত্রী ও পরিবারের চাহিদা পূরণের জন্য বভিন্নি ব্যক্তি ও হুন্ডি মারফতে খরচের টাকা পাঠাতাম। এছাড়া তার নামে একাউন্ট খুলে ঘর তৈরী হলে দেশে স্থানীয়ভাবে ফিরে আসার জন্য তার ব্যাংক একাউন্টে প্রায় ২৪লক্ষ টাকা প্রেরণ করি। এছাড়া তার ব্যবহারের জন্য ৮ভরি ওজনের বিভিন্ন ধরনের অলংকার তৈরী করে দেওয়ার পাশাপাশি নতুন দালান ঘর করার জন্য ৩গাড়ি ইট, ১গাড়ি ভাঙ্গা ইট, ২গাড়ি বালি ও ৩০বস্তা সিমেন্ট কিনে দিই।

এই টাকা আমি না আসা পর্যন্ত জমা রাখার জন্য নির্দেশ দিই। আমার বাড়ি করার উপকরণ সমুহ তার ভাই-বোনদের বিলিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বাহিরে বিক্রি করে দেয়। আমার পরিবারের লোক দিয়ে তা রক্ষার চেষ্টা করলে স্ত্রী তাকে বিভিন্নভাবে ক্ষতি করার জন্য চেষ্টা অভিযোগ তুলে আমার আতœীয়-স্বজন কাউকে ভিটা-বাড়িতে ঘেঁষতে দেয় না।

এভাবে চলতে চলতে ২০২৩সালের শুরুর দিকে গভীর রাতে আমার ঘরে সাবরাংয়ের এক ব্যক্তির সাথে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয় লোকজনের হাতে স্ত্রী ধরা পড়ে। যা ভিডিও সহকারে জমা রয়েছে। প্রবাস জীবনে স্ত্রীর এমন সংবাদে আমার মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। তার নিকট হতে আমার টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মনস্থির করলেও সংসারের একমাত্র ছেলের দিকে থাকিয়ে তা হয়ে উঠেনি। তার চরিত্র সংশোধন ও ব্যাংকের জমানো টাকা যাতে খরচ না করে এবং তার ভেতরে ভীতি সৃষ্টির জন্য আমার মা ছমুদা খাতুনকে বাদী করে এবং আমার স্ত্রী ইয়াছমিনকে বিবাদী করে স্থানীয় ২নং ওয়ার্ড মেম্বার বেলাল উদ্দিনের নিকট সালিশ দায়ের করা হয়। বার বার নোটিশ দেওয়ার পর সে হাজির না হওয়ায় আমার মাকে উচ্চতর আদালতের শরণাপন্ন পরামর্শপত্র প্রদান করেন।

স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার বেলাল উদ্দিন জানান,অভিযুক্ত মেয়ের চারিত্রিক বৈশিষ্ট সম্পর্কে এলাকার সবাই জানেন। তার বিরুদ্ধে আমার নিকট সালিশ দায়ের করা হলে উপস্থিত না হওয়ায় স্বামীপক্ষের লোকজনকে উচ্চ আদালতের আশ্রয় নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়।

এরপর হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদে উপরোক্ত বিষয় এবং বিগত ২৫/১০/২০২২ইং তালাকনামা প্রদান কার্যকর ও সালিশ দায়ের করা হয়। তাতে ৩বার নোটিশ জারী করা হলে সেই সালিশেও সে হাজির না হওয়ায় হ্নীলা ইউপির স্মারক নং-সুত্র:-হ্নীলা/ইউপি/টেক-২১/২৩ইং মূলে তালাক-নামা কার্যকর হয়েছে মর্মে লিখিত আদেশ প্রদান করেন। ইতিমধ্যে ইয়াছমিন আক্তার আলী আকবর পাড়ার রোজারঘোনার সিএনজি চালক মোঃ ফারুকের সাথে আবারো অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। আমার পাঠানো টাকা দিয়ে তাকে গাড়ি কিনে দেয় আর টাকা ধার দেয়। তারা প্রায় সময় একান্ত সময় কাটানোর জন্য কক্সবাজার যাতায়াত করে। যা নিয়ে মৌলভি বাজার উত্তর মাথা ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় অনাকাংখিত ঘটনার পর এলাকার মানুষের আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

চলতি বছরের ৩০আগস্ট রাতে এই ইয়াছমিন রোজারঘোনার জাফর আলমের পুত্র সিএনজি চালক নুরুল আমিনের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবী জানায়। তা নিয়ে প্রাক্তন স্ত্রী ও নুরুল আমিনের বাড়ির লোকজন ইয়াছমিনকে মারধর করে। ৩১ আগষ্ট দুপুরের দিকে পুলিশী সহায়তায় ইয়াছমিনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

উপরোক্ত বিষয়ে ইয়াছমিনের ভাই শফিকের নিকট জানতে চাইলে বলেন, ফারুকের সাথে আমার বোনের বিয়ে হয়। তাদের মধ্যে কিছু বিষয়ে মতবিরোধ হলে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সিএনজি চালক নুরুল আমিনের সাথে পরিচয়, যোগাযোগ ও সম্পর্ক হয় বলে জেনেছি। এরই সুত্রধরে নুরুল আমিন টাকা নেয়। ঐদিন রাতে তার নিকট হতে টাকা আনতে গেলে তাকে চরম মারধর করে আহত করার ঘটনা ঘটে।

প্রবাসী ফারুক বলেন,সে নষ্ট চরিত্রের মেয়ে আমি আর ছেলের সাথে প্রতারণা করে নষ্টামী করে বেড়াচ্ছে। আমি আমার ব্যাংক একাউন্টে পাঠানো ২৪লক্ষ টাকা, ৮ভরি স্বর্ণালংকার, ঘরের আসবাবপত্র ফেরত পেতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, আইন-শৃংখলা বাহিনী এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আন্তরিক সহায়তা ও হস্তক্ষেপ কামনা করছি। ###