মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে অন্যান্য ইউনিয়নের চেয়ে হ্নীলা একটি সচেতন ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নে নামি দামী রাজনৈতিক পরিবারের স্বনামধন্য লোকজন অতীতে গোটা টেকনাফে নেতৃত্ব দিয়েছিল। তারই প্রভাব এখনো চলছে। রাজনৈতিক গুরু বড় বড় আমলা ও শিক্ষক এখান থেকে সৃষ্টি হয়েছিল। সাংসদ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে সোপান ছিল এই হ্নীলায়। অথচঃ সেই হ্নীলা এখন, যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে নানা অপকর্ম এবং অপরাধের স্বর্গ রাজ্যে পরিনত হয়েছে। ইয়াবা ও মাদকের কালো টাকার মালিক বনে গেছেন, নি¤œশ্রেণীর লোকেরা। নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব আজ ওদের হাতে। সৎ যোগ্য ও আদর্শবান নের্তৃস্থানীয় লোকেরা ঘরে বসে নিতর অবস্থায় জীবন যাপন করছে। আবার অনেকেই আতœসম্মানের স্বার্থে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছে। ইয়াবা/মাদক কারবারীরা কালোটাকার মালিক বনে যাওয়ায় আজ তাদের চলছে রামরাজত্ব । অত্যাধুনিক আলিশান বাড়ী, গাড়ী ও জায়গার মালিক বনে গেছেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। অল্প সময়ে গোটা হ্নীলায়, আবাসনে দৃশ্যপঠ পাল্টে গেছে। এ নিয়ে চলছে প্রতিহিংসা পরায়ন সামাজিক ও অসমাজিক কার্যক্রম। নব নব আবিস্কার হচ্ছে, অপকর্ম ও অপরাধ প্রবনতা। তারই প্রভাবে সামাজিকভাবে গুরুদের কদর ও সম্মান কমে যাচ্ছে। কতিপয় রাজনৈতিক দলের নেতা, কর্মী, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজপ্রতি ইয়াবা ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট ও পৃষ্ঠপোষকতার কারণে স্বনামধন্য হ্নীলা এখন তার অতীত ঐতিহ্ন্য হারাতে বসেছে। এর জন্য দায়ী কারা? অনেকেই এর জন্য দায়ী করছে ইয়াবা/মাদক কালোটাকার মালিকদের। তাদের মাধ্যমে নানা অপকর্ম ও অপরাধ প্রবনতা বাড়ছে। এমন অভিযোগ এলাকার সচেতন জনগণ ও সুশীল সমাজের। মানসম্মানের স্বার্থে নীরবে নিতর অবস্থায় চেয়ে আছে সমাজের গুরুরা। এই নিয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।
হ্নীলা ইউনিয়নে যে কয়টি পাড়া আছে, তার মধ্যে রাখাইন পাড়া নামে একটি চৌধুরী পাড়া আছে। এটি প্রধান অাঞ্চলিক সড়কের পূর্বে ও নাফ নদীর তীরে তার অবস্থান। গোটা হ্নীলায় ইয়াবা ব্যবসার পাশা পাশি রাখাইন পাড়ায় চলছে রমরমা বাংলা মদ বাণিজ্য। এখানে অনেক বাড়ীতে তৈরী হয় বাংলা মদ। তৈরী হয়েছে বাংলা মদের ছোট বড় কারখানা। সন্ধা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে বাংলা মদের আসর বসে। এসময় মোটর সাইকেল থাকে এ সড়কে ব্যস্ত। ড্রাইবার থেকে শুরু করে উঠতি বয়সের যুবকেরা থাকে বেশীরভাগ মাদকাসক্ত । এছাড়া সমান তালে চলে ইয়াবা সেবনও। চৌধুরী পাড়া নামে খ্যাত রাখাইন পাড়া থেকে গোটা টেকনাফ বাংলা মদ অভিনব কৌশলে পাচার হয়ে যাচ্ছে। চাহিদা থাকায় সরবারহও বেশী থাকে। সন্ধা হলেই বিভিন্ন যানবাহন ও পরিবহনের আড়ালে বাংলা মদ কৌশলে পাচার হয়। সূত্র জানায়, চৌধুরী পাড়া এবং ওয়াব্রাং সীমান্ত নাফ নদীর তীরে বিধায় মিয়ানমার থেকে অনায়সে চলে আসে ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান। ইয়াবা কারবারীরা রাখাইন পাড়ায় বাংলা মদ সেবনের নামে নিয়ে আসে ইয়াবা ও স্বর্নের চালান। কতিপয় রাখাইন ও ইয়াবা কারবারীর যোগসাজশের মাধ্যমে ইয়াবা মাদক ব্যবসা ও পাচার কাজ চলে। অপরদিকে ওয়াব্রাং সীমান্ত এলাকাটি প্রত্যান্ত এলাকা হওয়ায় ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান নিরাপদে চলে আসে। মধ্যে মধ্যে আইন শৃংখলা বাহিনী ও সীমান্ত রক্ষীর অভিযানে ইয়াবা মাদক জব্দ হলেও অপরাপর সময়ে প্রবেশ অব্যাহত থাকে। এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। এখানে আইন শৃংখলা বাহিনীর দৃশ্যমান মাদক বিরোধী অভিযান না থাকায় মাদক কারবারীরা বেপরওয়া হয়ে এ ব্যবসায় নেমে পড়ে।
অনুসন্ধানের সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, হ্নীলার ইয়াবা/মাদক কারবারীরা প্রধান সড়কের পরিবর্তে হ্নীলা বাহারছড়া পানখালী পাহাড়ী গিরিপথকে ইয়াবা পাচারের নিরাপদ রুট হিসাবে ব্যবহার করছে। এ পথের বেশীরভাগ ইয়াবা/মাদকের চালান বাহারছড়া এলজিইডি সড়ক হয়ে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে হাতবদল হয়ে চলে যাচ্ছে।
অপেক্ষা করুন বেরিয়ে আসছে, ভয়ঙ্কর তথ্যের জন্য। যোগাযোগ করুন (০১৮১৮০৮৭৩০৪) এ নম্বরে। নাম গোপন করা হবে।
