হ্নীলায় দেড় লাখ ইয়াবার চালান লুটপাটে তোলপাড় চলছেই ; চিহ্নিত গডফাদার শামসুদ্দিনসহ অজ্ঞাতদের ধরবে কে?

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

বিশেষ প্রতিবেদক : গত মাসের মধ্যবর্তী সময়ে ইয়াবার একটি বড় ধরনের চালান পাচারের সময় প্রভাবশালী কর্তৃক ছিনতাইয়ের ঘটনায় সর্বত্র তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। অব: মেজর সিনহা হত্যাকান্ডের ঘটনায় উদ্বিগ্ন সময়কে পুঁিজ করে বহাল তবিয়্যতে থাকা মাদক কারবারীদের চালান বহন করতে গিয়েই প্রকাশ্য দিনের বেলায় দেড় লাখ ইয়াবার চালান লুটের সচেতনমহলে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, গত মাসের ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টারদিকে হ্নীলা ষ্টেশনের এক সিএনজি চালক লেদায় রিজার্ভ ভাড়া যায়। সেখানে পেশাদার মাদক বহনকারী সিএনজি চালক যোগানের ভেতরে করে ১৫কার্ড তথা দেড় লাখ ইয়াবার চালান এবং দুই রোহিঙ্গা যাত্রী নিয়ে হ্নীলা উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পথিমধ্যে ইলিয়াছ নামে এক যুবক সিগন্যাল দিয়ে গাড়িতে উঠে। কিছু দূর আসার পর রোহিঙ্গা যাত্রীদের নামি দিয়ে ইলিয়াছ নামে যাত্রী কৌশলে সিএনজি চালককে মরিচ্যাঘোনায় নিয়ে যায়। যাত্রী ইলিয়াছ নেমে গাড়ির যোগানে থাকা ইয়াবার চালান বের করে দিতে বলে। তখন চালক নিরুপায় হয়ে ঝুঁকির মুখে ইয়াবার চালান দিয়ে দেয়।

এই ঘটনার পরই সিএনজি চালকের যোগ-সাজশে এই ইয়াবার চালান ছিনতাই হয়েছে মর্মে সিএনজি চালককে হুমকি ধমকি দেওয়ায় সে প্রাণ ভয়ে কক্সবাজার পালিয়ে যায়। ইয়াবার চালান আনা এবং ছিনতাইয়ে প্রভাবশালী চক্রের কাছের লোকজন জড়িত থাকায় বিষয়টি কৌশলে ধামা-চাপা দিলেও স্থানীয় মানুষের মনে এই কঠিন সময়ে প্রকাশ্যে এই ধরনের ঘটনায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

উপরোক্ত বিষয়ে টেকনাফ টুডে পালিয়ে থাকা সিএনজি চালকের সাথে কথা বললে জানায়, ছিনতাই হওয়া দেড় লাখ ইয়াবা চালানের মধ্যে হোয়াইক্যং পশ্চিম সাতঘরিয়া পাড়ার মোহাম্মদ হোছনের পুত্র আলোচিত ইয়াবা কারবারী শামসুদ্দিনের ৮০হাজার এবং হ্নীলার অপর এক ইয়াবা কারবারীর ৭০হাজার পিস ইয়াবার চালান রয়েছে। তাই এই ধরনের একটি ঘটনায় সংশ্লিষ্টরা প্রভাবশালী হওয়ায় সহজে কেউ মুখ খুলতে না পারলেও সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এই ঘটনার সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। এই সিএনজি চালক দীর্ঘদিন ধরে এই প্রভাবশালী মাদক কারবারীদের চরনদার ছিল। উক্ত সিএনজি চালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকাশ্য দিবালোকে সমাজ,দেশ ও রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত প্রভাবশালীদের তথ্য বেরিয়ে আসবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ইং সালের ১৫সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টারদিকে র‌্যাব-৭,টেকনাফ ক্যাম্পের কমান্ডার লেঃ মির্জা শাহেদ মাহতাব ইয়াবা বিক্রির গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি চৌকষ আভিযানিক দল নিয়ে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পশ্চিম সাতঘরিয়া পাড়ার মোহাম্মদ হোছনের পুত্র আয়াছ উদ্দিনের বসত-বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রয়কৃত নগদ ৬৬লাখ ৩৫হাজার ৯শ ৫০টাকা ও ৩০হাজার পিস ইয়াবা বড়ি, ৩টি মোবাইল, ৩টি সীমসহ মোঃ আয়াছ উদ্দিন (৩২) কে আটক করে। এই ঘটনায় তার অপর দুই ভাই মোঃ আইয়ুব (৩৬) ও মোঃ সামসুদ্দিন (২২) কে পলাতক আসামী করে সংশ্লিষ্ট মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

এই ঘটনার পর হতে ইয়াবা বিক্রি করে কোটিপতি বনে যাওয়া শামসুদ্দিন বিদেশ পালিয়ে যায়। সেখানে কিছু দিন অবস্থান করার পর দেশে এসে আতœগোপনে চলে যায়। এরপর এলাকায় গঠণ করা তার বাহিনী পরিচালনার জন্য আবারো সিন্ডিকেট ভিত্তিক ইয়াবা চোরাচালান শুরু করে। তার ভাই আইয়ুব আলী যোগ দেয় এই গ্রæপে। পশ্চিম সাতঘরিয়া পাড়া, কাঁচার পাড়া, পশ্চিম মহেশখালীয়া পাড়া ও পূর্ব মহেশখালীয়া পাড়ার ৪/৫টি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পাহারাদার বসিয়ে এখনো মাদকের এই অপতৎপরতা চালাচ্ছে। চলতি বছরের ২৮জুলাই ভোরে মিয়ানমার হতে আসা বড় ধরনের একটি মাদকের চালান ভাগ-বাটোয়ারা করতে গিয়েই দু’পক্ষের গোলাগুলিতে ৪জন মারা যায়। এই ঘটনায় শামসুদ্দিন,আইয়ুব আলী সিন্ডিকেটের লোকজন রয়েছে বলে স্থানীয় একাধিক সুত্রের দাবী।

এই সীমান্তে সর্তকতার পর মাদক চোরাচালানের পয়েন্ট পরিবর্তন করে লেদায় অবস্থিত রোহিঙ্গা এবং কতিপয় স্থানীয় লোকজনকে ব্যবহার আবারো শুরু করে মাদক ব্যবসা। সর্বশেষ যৌথভাবে এই মাদকের চালান নিজেদের আয়ত্তে¡ আনার সময় ছিনতাইয়ের শিকার হয়।

উপরোক্ত বিষয়ে অভিযুক্ত শামসুদ্দিনের বক্তব্য জানার জন্য বার বার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

এদিকে কিছু মানুষ মাদক বিরোধী কথা বার্তা বললেও এসব অপরাধে সম্পৃক্তরা প্রতাপশালী হওয়ায় কেউ কারো বিরুদ্ধে মুখ খুলছেনা। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রæত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা কামনা করছে মাদক বিরোধী সুশীল সমাজ। ###