ফরিদুল আলম : হ্নীলায় আওয়ামী লীগ নেতার ভোগ-দখলীয় জমি জবর দখল করেছে জামায়াত-বিএনপি নেতারা। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে আদালত।
জানা যায়, উপজেলার হ্নীলা মৌলভী বাজারের আলী আকবর পাড়ার মৃত মোহাম্মদ লাল মিয়ার পুত্র ও উপজেলা তাঁতী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি দিল মোহাম্মদের খরিদা ও আমোক্তারনামামূলে প্রাপ্ত দক্ষিণ হ্নীলা মৌজার আরএস ৩০১নং খতিয়ানের আরএস দাগ ৪৪৮, ৪৪৪/১২২৯ নং দাগের তুলনামূলক বিএস ৪৪৮নং বিএস খতিয়ানের বিএস-১১৩, ১১৪, ১১৫, ১১৬ নং দাগে .০৫ শতক বা (১৫ কড়া)। উক্ত জমি নিয়ে ২০১৬ সালে ২ আগষ্ঠ স্থানীয় হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা মীর কাশেমের পুত্র বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম গংয়ের বিরুদ্ধে জমি জবর-দখলের অভিযোগে সালিশ দায়ের করে। বিচারের এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের সম্মতিতে বিরোধীয় জমি নিয়ে আইনী মতামত গ্রহণের জন্য সিদ্বান্ত নেওয়া হয়। কক্সবাজার আইন কলেজের অধ্যাপক এডভোকেট মোহাম্মদ বাকের হতে আইনী মতামত এলেই শুনানীর দিন ধার্য্য করে উভয় পক্ষকে আইনী মতামতের কপি প্রদান করা হয়। রায় ডিগ্রীনামা করার দিন ধার্য্য করেন ২০১৭ সালে ৪ই মে। কিন্তু আইনী মতামতে দিল মোহাম্মদের পক্ষে রায় আসায় আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শন করে ইউনিয়ন পরিষদ কৌশলে প্রায় ৮মাস ধরে কালক্ষেপন করে। সর্বশেষে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারী আইনী মতামতে গরমিল রয়েছে মর্মে বাদীর আবেদন খারিজ করে দেন। এরপর বিবাদীরা গত ২২ মার্চ দা, কিরিচ, লাঠি-সোঠা নিয়ে জবর দখলের সময় দিল মোহাম্মদের বড় বোন খালেদা বেগম, স্ত্রী মমতাজ বেগম, রেহেনা আক্তার, ছেলে আফসার উদ্দিন, ভাগিনা আব্দুর রহমান ও ভাতিজা আব্দুল্লাহকে আহত করে। এর সুবিচার চেয়ে আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যানের নিকট সুবিচার পায়নি।
এদিকে বাদী দিল মোহাম্মদ বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ আমলে জামায়াত-বিএনপির লোকজন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান-প্যানেল চেয়ারম্যান যোগ-সাজশ করে আইনী মতামতের সাথে আবেদনের মিল না থাকার অজুহাতে আবেদন খারিজ করেন। এই ব্যাপারে সুবিচারের জন্য থানা পুলিশ, উপজেলা চেয়ারম্যান, এমপি বরাবর ধর্ণা দিলেও কোন সুবিচার পায়নি।
সর্বশেষে গত ৪ এপ্রিল কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে দিল মোহাম্মদ ফৌঃ কার্যবিধির ১৪৪ ধারা মামলা দায়ের করেন। আদালত বিষয়টি সরেজমিনে দেখে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অফিসার্স ইনচার্জ টেকনাফ মডেল থানাকে নির্দেশা প্রদান করেন। এরই সুত্রধরে টেকনাফ মডেল থানার এএসআই শাহজাহান ৭ এপ্রিল দুপুরে বিরোধীয় স্থানে গেলে বিবাদীরা কৌশলে লুকিয়ে থাকে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা বিবাদীপক্ষ কৌশলে গা ঢাকা দেওয়ার সত্যতা স্বীকার করেন।
জমির মালিক ভূক্তভোগী দিল মোহাম্মদ তার এক টুকরো জমি ফেরত পাওয়ার জন্য দলীয় নেতা-কর্মীসহ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা কামনা করেছেন।
