টেকনাফ টুডে ডেস্ক : টেকনাফের হ্নীলা ঈদে বন্ধুদের সাথে ফূর্তি করার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে বন্ধুদের সাথে মদ আনতে গিয়েই নিখোঁজ রোহিঙ্গা সালমান শাহ গ্রুপের সদস্যের ছুরিকাঘাত ও রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা যায়,২৩এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টারদিকে উপজেলার হ্নীলা হোয়াকিয়া পাড়া ঈদগাহ মাঠের দেওয়ালের পূর্ব পাশে একটি ছুরিকাঘাত ও রক্তাক্ত মৃতদেহ দেখতে পেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ চারদিকে হৈ চৈ পড়ে যায়। বিষয়টি চৌকিদার দফাদারেরা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলীকে অবহিত করা হলে তিনি টেকনাফ মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করেন। নিহত যুবক নয়াপাড়া রেজিষ্টার্ড ক্যাম্পের ই-ব্লকের ৯৭২নং শেডের ৩নং রোমের বাসিন্দা করিম উল্লাহর পুত্র মোঃ হাশিম (২০) ওরফে খরইগ্যা বলে সনাক্ত করা হয়। বিকালের দিকে টেকনাফ মডেল থানার এসআই হোছাইন এবং এসআই ফায়সালের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এবং নিহত যুবকের মা-বাবা ও স্ত্রী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। বিকালের দিকে মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরীর পর পোস্টমর্টেমের জন্য পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
ঈদের দিন আছরের সময় নিহত হাশিমসহ চার বন্ধু বেড়ানোর কথা বলে বের হয়। কিছুক্ষণ পর থেকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় একটি সুত্রের দাবী তারা ঈদের দিন আনন্দ ফূর্তির করার জন্য হ্নীলা চৌধুরী পাড়া রাখাইন পল্লীতে মদ কিনতে আসে। এরপর থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। অবশেষে সকালে তার শরীরে ছুরিকাঘাত ও রক্তাক্ত মৃতদেহ পাওয়া যায়। এক সময় সে ক্যাম্পের ডাকাত সালমান শাহ গ্রুপের সদস্যদের সাথে চলাফেরা করত বলে স্থানীয় ক্যাম্প বাসিন্দাদের দাবী।
এদিকে নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন ব্লকের চিহ্নিত অপরাধীরা মিলে একটি সিন্ডিকেট বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি, খুন, অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্যে জড়িত। তাদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ক্যাম্প কেন্দ্রিক অপরাধী চক্রের সদস্যদের মুখোশ উম্মোচন করা যাবে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ রোহিঙ্গাদের অভিমত।
এদিকে হ্নীলা চৌধুরী পাড়া এলাকায় ২০/২৫টি পরিবারে দেশীয় মদ উৎপাদন করে বিভিন্ন লোকজনকে মাসোহারা দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে টেকনাফ, বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও পাশর্^বর্তী গ্রামে সরবরাহ দিয়ে আসছে। এরফলে আইন-শৃংখলার অবনতি ঘটছে। এসবের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তৎপরতা না থাকায় মাদক উৎপাদন, বিপনন ও সেবন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটে আসছে।
হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান,সকালে চৌকিদার-দফাদারের মাধ্যমে একটি অজ্ঞাত পরিচয়ী যুবকের মৃতদেহ দেখতে পাওয়ার বিষয়টি অবগত হওয়ার পর টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জকে অবহিত করা হয়েছে। রোহিঙ্গা অবাধে ক্যাম্প থেকে বের হয়ে যত্রতত্র যেতে পারার কারণে অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্য, খুন, যানবাহন ছিনতাই করে মারধরের ঘটনা ঘটে আসছে। এলাকার শান্তি-শৃংখলার স্বার্থে এসব অপরাধ দমনে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহায়তা কামনা করছি।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ আব্দুল আলিম জানান,পুলিশ খবর পেয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য প্রেরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রাথমিকভাবে নিহত যুবক ডাকাত সালমান শাহ গ্রæপের সদস্য বলে জানা গেছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টের পর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ###
