ছৈয়দ করিম রণী : টেকনাফের হ্নীলায় পাহাড়ের পাদদেশে পানের বরজে কাজ করার সময় পাহাড়ি দূবৃর্ত্ত দলের হাতে অপহৃত দরিদ্র পরিবারের যুবককে ধার-কর্জ্জ ও এলাকাবাসী হতে আদায়কৃত চাঁদার ২লাখ টাকা দিয়ে মুক্ত করা হয়েছে।
জানা যায়,১১জুলাই বিকালে মুক্তিপণ দাবীদারদের কথামত ২লাখ টাকা নিয়ে উপক‚লীয় বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজপুরা ঢালার ১টি স্থানে রেখে চলে আসলে একজন বৃদ্ধা এসে টাকার বান্ডেল নিয়ে যায়। সন্ধ্যার দিকে ভিকটিম হ্নীলা আলী আকবর পাড়ার হাকিম আলীর পুত্র তোফায়েল আহমদ (১৯) কে শীলবনিয়া পাড়া পাহাড়ের পাদদেশ হতে বের করে দেয়। পরে ভিকটিমকে আনতে যাওয়া লোকজনের হস্তগত হলে টেকনাফ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
উল্লেখ্য, গত ৯জুলাই সকাল ১০টারদিকে উপজেলার হ্নীলা ইউপির মরিচ্যাঘোনার বড়বিলে নিজ পানের বরজে কাজ করার সময় পাহাড় থেকে নেমে আসা স্বশস্ত্র ১৫/২০ জনের মুখোশধারী ডাকাত দল এসে পানের বরজ ঘেরাও করে। এসময় তোফায়েলকে অপহরণ করে নিয়ে যেতে চাইলে পাশে থাকা অপর ৫/৬জন লোকে বাঁধা দিয়ে সামনে এগুতে চাইলে ৪টি বন্দুক বের করে ১রাইন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করলে ভয়ে অন্যরা পালিয়ে গেলে তোফায়েলকে নিয়ে ডাকাত দল পাহাড়ের ভেতরে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার এক দল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রবল বৃষ্টি আর দ‚র্গমতার কারণে অভিযানে যেতে পারেনি। পরদিন ১০জুলাই সকালের দিকে পাহাড়ি দূবৃর্ত্ত দল ভিকটিমের বাড়িতে ফোন করে ৫লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। অসহায়-দরিদ্র পরিবারটি তখন নিরুপায় হলে স্থানীয় ইউপি মেম্বার বশির আহমদসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় বিভিন্ন জনের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলন করে এবং ৫০/৬০হাজার টাকা ধার করে ২লাখ টাকা সংগ্রহ করে। পরে দর কষাকষিতে ২লাখ টাকায় দাড়ালে মুক্তিপণ দাবীদারদের কথা মত স্থানে টাকা দিয়ে আসলে ভিকটিমকে মুক্তি দেয়।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার এই ঘটনার সত্য নিশ্চিত করে জানান,বিষয়টি টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করা হয়েছে। আশাকরি ভিকটিম বাড়িতে এসে পৌঁছলে ঘটনার বিস্তারিত বিররণ জানতে পারব।
স্থানীয় কিছু দ‚বৃর্ত্ত আর রোহিঙ্গাদের সমন্বয়ে গঠিত অপরাধী চক্রের কারণে টেকনাফের সর্বস্তরের মানুষ অপহরণ আতংক ও মুক্তিপণ বাণিজ্য নিয়ে এক অজানা আতংকে ভোগছে। তা থেকে টেকনাফ বাসীকে বাঁচাতে প্রশাসন ও জনতার সমন্বয়ে পাহাড়ে চিরুনী অভিযান পরিচালনার দাবী তুলেছেন। ###
