টেকনাফ টুডে ডেস্ক : মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন এবং বাংলাদেশের পণ্যের বাজার সৃষ্টি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরকালে সোমবার রাতে রাষ্ট্রদূতদের এক সম্মেলনে এসব নির্দেশনা দেন তিনি। এ সময় বিদেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুযোগ-সুবিধা সংরক্ষণ, যে কোনো প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো এবং সমস্যায় পড়লে দূতাবাসের সহযোগিতা নেয়ার জন্য সচেতনতা তৈরির দিকনির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল কথা হল ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্র“তা নয়’। সে মোতাবেক মুসলিম দেশ তো বটেই, সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের তাগিদ রয়েছে। তবে মুসলিম দেশগুলোর ক্ষেত্রে আলাদা নজর দেয়া দরকার আমাদের নিজেদের স্বার্থেই।
সেটা হল ধর্মীয় ভ্রাতৃত্ববোধের অতিরিক্ত হিসেবে মুসলিম, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আমাদের রেমিটেন্সের প্রধান উৎস। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের আরব-অনারব দেশগুলো তাদের বেশিরভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যই, বিশেষত বস্ত্র ও পোশাক আমদানি করে থাকে।
বাংলাদেশ আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে মধ্যপ্রাচ্যে শৌখিন হস্তশিল্প ও তৈরি পোশাকের বাজার ধরতে পারে। এ কারণেই মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন, বাংলাদেশি পণ্যের বাজার বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রচেষ্টার যে নির্দেশনা শীর্ষ কূটনীতিকদের প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
বস্তুত বর্তমান সময়ে গোটা বিশ্ব একটি পল্লী। এখানে সবাই সুখে-দুখে একে-অপরের পাশে দাঁড়ায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে কোনো দেশ একা চলতে পারে না। ফলে সব দেশেরই লক্ষ্য থাকে নিজের পক্ষের মিত্রের সারি দীর্ঘ করা। আমাদের স্বাধীনতার পর মুসলিম দেশগুলো বিভিন্ন সময়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
এটি হয়েছে আমাদের শ্রমিকদের নিয়োগ দেয়া, আমাদের দেশে বিনিয়োগ করা এবং বিভিন্নভাবে সমর্থন-সহযোগিতার মধ্য দিয়ে। আর অভিন্ন ভ্রাতৃত্ববোধ ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন কারণে স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু ইসলামি দেশগুলোর সংগঠন ওআইসির সম্মলনে, এমনকি পাকিস্তান যেতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি।
ওআইসির সদস্যপদ নেয়ার পর থেকে সেই পথচলা এখনও অক্ষুণ্ন রয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে ওআইসি, যার সর্বশেষ ও কার্যকর নজির রোহিঙ্গা ইস্যু।
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রতিবেশী ভারত-চীনের সহায়তা না পেলেও ওআইসি বাংলাদেশের পাশে রয়েছে, এমনকি আন্তর্জাতিক আদালতে এ সংক্রান্ত মামলা পরিচালনা করছে গাম্বিয়ার মাধ্যমে। ফলে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদারের বিকল্প নেই।
দুর্ভাগ্যের বিষয়, বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন, এমনকি নেতৃত্বের আসনে থাকলেও মুসলিম দেশগুলোর ক্ষেত্রে তেমনটি দেখা যায় না। অথচ উদারপন্থী মুসলিম দেশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য সংকটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা মধ্যস্থতায় ভূমিকা রাখতে পারি।
এ জন্য মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের দিকে নজর দিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ব্র“নাই ও ইন্দোনেশিয়াসহ এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোয় শ্রমশক্তি প্রেরণ, তাদের কাছ থেকে বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য রফতানির সুযোগ আমাদের নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী সে নির্দেশনাই দিয়েছেন কূটনীতিকদের। এ ছাড়া জোরদার সম্পর্কের কারণে মুসলিম দেশগুলো থেকে সহজ শর্তে ও স্বল্প সময়ে অতি প্রয়োজনীয় তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আনা আমাদের উদীয়মান অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
