নিজস্ব প্রতিবেদক : টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে পূর্ব পরিচয়ের সুত্রধরে বেড়াতে গিয়ে অপহরণের শিকার হলেও গভীর রাতে পালিয়ে আসার পর পরিজন ও নিজ জীবন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন।
ভিকটিম জানান,গত ২৭আগষ্ট সকাল ১০টারদিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউপির নয়া বাজারের মৃত আবুল মঞ্জুরের পুত্র সেলিম স্থানীয় মৃত ফজর আলীর পুত্র শামীমকে লম্বাবিল বেড়াতে নেওয়ার অজুহাতে ডেকে নিয়ে যায়। উভয়ের মধ্যে সুসম্পর্কের জেরধরে শামীম সরল বিশ্বাসে বেড়াতে যায়। লম্বাবিল দুইতলা বিশিষ্ট মুরগীর ফার্মের উত্তর পাশের রাস্তা দিয়ে পশ্চিমে পাহাড়ের পাশে একটি ঘরে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর ১০/১২জন লোক এসে শামীমকে বেঁধে হাতে পায়ে শেঁকল বেঁধে অন্য একটি ঘরে নিয়ে বেধড়ক মারধরের পর আটকে রাখে। গত ২৮আগস্ট রাতের প্রথম প্রহরের দিকে দূর্বৃত্ত দল অন্য শামীকে অজ্ঞান করে অন্য একটি অপারেশনে চলে গেলেও ভোররাত ৪টারদিকে শামীম জেগে দেখেন তার পায়ের পরানো শেঁকলের একটি আন্টা খোলা দেখতে পেয়ে সাহস করে চেষ্টা চালিয়ে শেঁকলমুক্ত হয়। ঘরটি চারদিকে তালাবদ্ধ হওয়ায় শামীম পালানোর পথ খুঁজে না পেয়ে ছাদের উপর গিয়ে প্রাণ হাতে নিয়ে পাহাড়ের দিকে লাফ দেয়। এরপর কোন প্রকারে অনেক কষ্টের বিনিময়ে ভোর সকালে বাড়িতে এসে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় ডাক্তারের মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলা হয়। এই ভিকটিম শামীমের পরিচিত সেলিম একজন লবণ শ্রমিক এবং চাষী হলেও মূলত সে পাহাড়ি ডাকাত দলের সোর্স হয়ে কাজ করছে বলে দাবী করেন। সে পালিয়ে আসা ডাকাত দলের সদস্যরা রাতে হানা দেওয়ার ভয়ে পরিবার ও তার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে বলে জানান।
স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার বাদশা মিয়া জানান,সাম্প্রতিক সময়ে গত ৪/৫দিন ধরে কম্বনিয়া পাড়া, মরিচ্যাঘোনা ও পশ্চিম মহেশখালীয়া পাড়ার চিহ্নিত কিছু অপরাধী রোহিঙ্গা অপরাধীদের সাথে নিয়ে পশ্চিম কালচার পাড়ার পাহাড়ি পথ বেয়ে হাসান্যার টেক এলাকায় অবস্থান নিতে স্থানীয় লোকজন দেখে আমাকে অবহিত করলে আমি এলাকাবাসীকে সজাগ থাকার পরামর্শ দিই। মূলত চলতি মাসের আন্দোলন পরবর্তী সময়ে এই জনপদে আইন-শৃংখলা বাহিনীর নিয়মিত টহল জোরদার না থাকায় বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সদস্যরা নানা ধরনের অপকর্মে নেমে পড়েছে বলে আশংকা করা হচ্ছে। এসব দমন করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আইন-শৃংখলা বাহিনীর নিয়মিত টহল জোরদার করা জরুরী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এসব অপরাধীরা সড়কে যানবাহন ডাকাতি অথবা বিত্তশালী পরিবারে লুটপাট ও হামলা চালাতে পারে। তাই স্থানীয় গ্রামবাসীকে সজাগ থেকে তাদের প্রতিহত করার বিকল্প নেই বলে মত প্রকাশ করেছেন। ##
