বিশেষ প্রতিবেদক : হ্নীলার পূর্ব রঙ্গিখালী গেইট সংলগ্ন নাফনদীতে বিজিবি জওয়ানেরা অভিযান চালিয়ে আইস ও ইয়াবা বোঝাই কাঠের নৌকা জব্দ করেছে। এই পয়েন্ট দিয়ে প্রায় সময় স্বশস্ত্র মাদক কারবারী গ্রুপ মাদকের চালান খালাস করে থাকে। বড় ধরনের একটি চালান ছিনতাইয়ের ঘটনায় কয়েকটি গ্রুপের মধ্যে তুঘুলকি কান্ড চলছে। তদন্ত স্বাপেক্ষে চালান খালাস ও ছিনতাই অপরাধে জড়িতদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবী উঠেছে।
সুত্র জানায়,১৯ মার্চ ভোররাত সোয়া ৩টায় টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের হ্নীলা বিওপির বিশেষ টহলদল মিয়ানমার থেকে মাদকের চালান আসার সংবাদ পেয়ে হ্নীলা পূর্ব রঙ্গিখালী গেইট আনোয়ার প্রজেক্ট সংলগ্ন নাফনদীর খেরের দ্বীপে কৌশলে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর ২জন চোরাকারবারী কাঠের নৌকা নিয়ে শূণ্যরেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করলে তাদের দাড়ানোর জন্য চ্যালেঞ্জ করে। তখন তারা নৌকা ঘুরিয়ে মিয়ানমারের দিকে চলে যাওয়ার সময় বিজিবি জওয়ানেরা ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে ধাওয়া করলে চোরাকারবারী গ্রæপের সদস্যদ্বয় নাফনদীতে ঝাঁপ দিয়ে মিয়ানমারে চলে যায়। এরপর নৌকাটি আয়ত্তে নিয়ে তল্লাশী চালিয়ে ৫কোটি ৭লক্ষ টাকা মূল্যমানের ১কেজি ১৪ গ্রাম আইস,৩০লক্ষ টাকা মূল্যমানের ১০হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।
টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার জানান, জব্দকৃত মাদক পরবর্তীতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মিডিয়া কর্মীদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করার জন্য ব্যাটালিয়ন সদরে জমা রাখা হয়েছে।
এদিকে গত ১৭ মার্চ এশার নামাজের সময় পূর্ব রঙ্গিখালী,ঊলুচামরী কোনাপাড়ার মাদক কারবারীদের মাদকের চালান খালাস করে নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন লবন মাঠের শ্রমিক ও অস্ত্রধারীরা ছিনতাই করে। এসময় মাদকের চালান বহনকারীরা বািঁধা দিতে গেলে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে আতংক সৃষ্টি করে। এরপর ৪জন এই মাদকের চালান ভাগ-বাটোয়ারা করে। পরদিন মাদক চালানের মালিকেরা এই ঘটনা খতিয়ে দেখলে অনেকে ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় তুঘুলকি কান্ড চলছে। এই মাদকের চালান খালাস, ছিনতাই ও উদ্ধার এবং পূর্ব শত্রæতা হাসিলের ঘটনায় ভবিষ্যতে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।
এছাড়া এই দূর্গম সড়কের পাশে কলেজ, দোকান-পাট গড়ে উঠায় মাদক কারবারী সিন্ডিকেটের সদস্যরা সন্ধ্যার পর পরই আশ-পাশের এলাকায় অবস্থান নেয়। মিয়ানমারের মাদক কারবারীরা খেরের দ্বীপে অবস্থান নেয়। এরপর সীমান্তরক্ষী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অবস্থান নিশ্চিত করার পর সংকেত দিলে মাদকের চালান নিয়ে বীরদর্পে চলে যায়। এই পয়েন্টে মাদক কারবারী স্বশস্ত্র গ্রæপের অপতৎপরতার কারণে হ্নীলা এমএমসি কলেজের নৈশ প্রহরী পর্যন্ত নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে জানা গেছে। তাই তদন্ত স্বাপেক্ষে মাদকের চালান খালাস ও ছিনতাইয়ে জড়িতদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবী উঠেছে। ##
