টেকনাফ টুডে ডেস্ক |
গির্জা ও বিলাসবহুল পাঁচতারকা হোটেলসহ বিভিন্ন স্থানে কয়েক দফা বোমা হামলার ঘটনার পর শ্রীলংকাজুড়ে কারফিউ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত পুরো দেশে কারফিউ বলবৎ থাকবে। এছাড়াও সোম ও মঙ্গলবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
দেশটির প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুভান বিজয়বর্ধনে দুপুরে কলম্বোতে সাংবাদিকদের বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কারফিউ জারির এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
কারফিউ জারির পাশাপাশি গুজব ছড়ানো বন্ধে সেখানে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যমগুলোও বন্ধ রাখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোসহ অন্যান্য এলাকার তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে কয়েক দফা বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা এএফপি ও ডেইলি মিররের খবরে বলা হয়েছে।
রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির ক্যাথলিক গির্জায় তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া কলম্বোর মূল কেন্দ্রে অবস্থিত তিনটি বিলাসবহুল হোটেল সিন্নামন গ্রান্ড, কিংসবুরি ও শ্যাংরি লা হোটের তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে।
তবে হামলার ধরন নিয়ে এখন পর্যন্ত পরিষ্কার ধারনা পাওয়া যায়নি। প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে রাজধানীর একটি গির্জায়। প্রায় আধঘণ্টা পরে পরবর্তী হামলাগুলো ঘটে।
কলম্বোর জাতীয় হাসপাতালের পরিচালকের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এছাড়াও চারশতাধিক লোক এ বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন।
এখন পর্যন্ত হামলার ঘটনায় কেউ দায় স্বীকার করেনি। হামলার শিকার তিন হোটেল এবং একটি গির্জা রাজধানীতে হলেও বাকিগুলো নিগমবো ও উত্তর কলম্বোয় অবস্থিত। এসময় হাজার হাজার লোক ইস্টারের প্রার্থনারত ছিলেন।
খবরে বলা হয়েছে, কলম্বোর কোচচিকাদো অঞ্চলের সেন্ট অ্যানথনি এবং রাজধানী থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে নিগমবোতে সেন্ট সেবাস্তিয়ান ও আড়াইশ কিলোমিটার দূরে আরেকটি গির্জায় হামলা হয়।
সূত্র জানায়, উদ্ধারকারীরা হতাহতদের নিরাপদ জায়গা সরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
নিগমবো অঞ্চলের কাতাওয়াপিতিয়ায় সেন্ট সেবাস্তিয়ান গির্জার ভেতরে বিস্ফোরণে ধ্বংসের ছবি দেখা গেছে এটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে। এতে গির্জার ফ্লোরে রক্ত বয়ে যেতে দেখা গেছে। আক্রান্তদের সহায়তা সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে বলা হয়েছে।
ফেসবুক পেজে ইংরেজিতে লেখা একটি পোস্টে লেখা রয়েছে, আমাদের গির্জায় একটি বোমা হামলা হয়েছে। যদি আপনাদের পরিবারের সদস্যদের কেউ সেখানে থাকেন, দয়াকরে এগিয়ে আসুন এবং সাহায্য করুন।
হতাহতদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকরাও রয়েছেন বলে দেশটির স্থানীয় দৈনিকের খবরে বলা হয়েছে। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রীলংকায় কেবল ছয় শতাংশ মানুষ ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী।
এ হামলার ঘটনার পর শ্রীলংকার সরকার ইতিমধ্যে জরুরি বৈঠক ডেকেছে। দেশটির অর্থনৈতিক সংস্কারবিষয়ক মন্ত্রী হার্শা ডি সিলভা বলেন, কয়েক মিনিটের মধ্যে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা চলছে।
তিনি বলেন, আমি মানুষের মরদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখেছি। বিদেশি নাগরিকসহ বহু লোক এতে হতাহত হয়েছেন। দয়া করে সবাই ঘরের ভেতরে ও শান্ত থাকুন
শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলা, দুই বাংলাদেশির খোঁজ মিলছে না
শ্রীলংকায় একযোগে গির্জা ও বিলাসবহুল হোটেলে বোমা হামলার ঘটনার পর থেকে এক শিশুসহ দুই বাংলাদেশি পর্যটকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। রোববার দুপুরে ঢাকায় এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।
সকালে ইস্টার সানডের প্রার্থনারত অবস্থায় এই হামলায় এখন পর্যন্ত ১৮৫ জন নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে ৩৫ বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।
শাহরিয়ার আলম বলেন, দুজন বাঙালি আন অ্যাকাউন্টেড। তাদের পরিবারের অন্যরা অ্যাকাউন্টেড। আমরা তাদের অবস্থা জানার চেষ্টা করছি। যত তাড়াতাড়ি ট্রেস করা যাবে, আমরা তাদের পরিবারকে জানাব।
ওই দুইজনের নাম পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেননি প্রতিমন্ত্রী । তিনি বলেন, ওই দুইজনের খোঁজে কলম্বোর হোটেল ও হাসপাতালগুলোতে খোঁজ করা হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে শাহরিয়ার আলম বলেন, চারজন বাংলাদেশির একটি দল কলম্বো গিয়েছিল টুরিস্ট হিসেবে। তাদের মধ্যে দুজন ঠিকঠাক থাকলেও একটি শিশুসহ দুজনের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান, বাংলাদেশিদের তথ্য পাওয়ার সুবিধার জন্য কলম্বোয় বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোসাম্মত মাহমুদা বেগমকে ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।
মাহমুদা বেগম বলেন, ঘটনার পর থেকে শ্রীলঙ্কায় অবস্থানরত সব বাংলাদেশির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের খোঁজ খবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।
বাংলাদেশি কারও কোনো সহযোগিতা বা তথ্যের প্রয়োজন হলে +94712406313 নম্বরে ফোন করে মাহমুদার সঙ্গে কথা বলতে পারবেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার ব্রিফিংয়ে বলেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রীলঙ্কায় এই হামলার ঘটনায় নিন্দা ও শোক জানিয়েছেন। তারা শ্রীলঙ্কার মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কা একটি দীর্ঘ সময় সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার পর শান্তি অর্জিত হয়েছিল। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসেবে আমরা শ্রীলঙ্কার পাশে আছি, থাকব। এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না হয় সেজন্য আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে এখন পর্যন্ত হামলার ঘটনায় কেউ দায় স্বীকার করেনি। হামলার শিকার তিন হোটেল এবং একটি গির্জা রাজধানীতে হলেও বাকিগুলো নিগমবো ও উত্তর কলম্বোয় অবস্থিত। এসময় হাজার হাজার লোক ইস্টারের প্রার্থনারত ছিলেন।
খবরে বলা হয়েছে, কলম্বোর কোচচিকাদো অঞ্চলের সেন্ট অ্যানথনি এবং রাজধানী থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে নিগমবোতে সেন্ট সেবাস্তিয়ান ও আড়াইশ কিলোমিটার দূরে আরেকটি গির্জায় হামলা হয়।
সূত্র জানায়, উদ্ধারকারীরা হতাহতদের নিরাপদ জায়গা সরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
নিগমবো অঞ্চলের কাতাওয়াপিতিয়ায় সেন্ট সেবাস্তিয়ান গির্জার ভেতরে বিস্ফোরণে ধ্বংসের ছবি দেখা গেছে এটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে। এতে গির্জার ফ্লোরে রক্ত বয়ে যেতে দেখা গেছে। আক্রান্তদের সহায়তা সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে বলা হয়েছে।
ফেসবুক পেজে ইংরেজিতে লেখা একটি পোস্টে লেখা রয়েছে, আমাদের গির্জায় একটি বোমা হামলা হয়েছে। যদি আপনাদের পরিবারের সদস্যদের কেউ সেখানে থাকেন, দয়াকরে এগিয়ে আসুন এবং সাহায্য করুন।
হতাহতদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকরাও রয়েছেন বলে দেশটির স্থানীয় দৈনিকের খবরে বলা হয়েছে। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রীলংকায় কেবল ছয় শতাংশ মানুষ ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী।
এ হামলার ঘটনার পর শ্রীলংকার সরকার ইতিমধ্যে জরুরি বৈঠক ডেকেছে। দেশটির অর্থনৈতিক সংস্কারবিষয়ক মন্ত্রী হার্শা ডি সিলভা বলেন, কয়েক মিনিটের মধ্যে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা চলছে।
তিনি বলেন, আমি মানুষের মরদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখেছি। বিদেশি নাগরিকসহ বহু লোক এতে হতাহত হয়েছেন। দয়া করে সবাই ঘরের ভেতরে ও শান্ত থাকুন।
