রোহিঙ্গা ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে টেকনাফ কক্সবাজার আঞ্চলিক সড়কের বেহাল দশা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ |
দেশের দক্ষিণ পূর্বাাঞ্চলীয় সীমান্ত জনপথ পর্যটন শহর টেকনাফ কক্সবাজার আঞ্চলিক সড়কের বেহালদশা। উখিয়া-টেকনাফের ১৫টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিত ১১লাখ রোহিঙ্গা ৬ লাখ স্থানীয় বাংলাদেশী অতিরিক্ত যানবাহন, জিও এনজিওদের পরিবহন গাড়ী, প্রাইভেট গাড়ী, ট্রাক পরিবহন ও স্থল বন্দরের আমদানি পরিবহন ট্রাকের ছাপ এবং পদভারে টেকনাফ কক্সবাজার সড়ক চৌচির হয়ে গেছে। সড়কের উভয় পাশ্বে খানাখন্দক এবং বাজার, দোকান স্থাপিত হওয়ায় সড়ক যাতায়াত এখন রীতিমতো ঝুঁকিতে পরিনত হয়েছে। নিত্যদিন সড়কে যানজাট লেগেই থাকে। টেকনাফ থেকে কক্সবাজার যেতে যেখানে ২ ঘন্টা সময় লাগে সেখানে বর্তমানে পৌছতে সময় লাগে ৪ ঘন্টা। এ অবস্থায় অনেকেই কক্সবাজার আদালতে হাজিরা বা মামলা পরিচালনা করতে বিলম্ব হয়ে পড়ে। ফলে যাত্রী সকল আর্থিক ও শারিরীকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ৮৭ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে প্রায় সড়ক রোহিঙ্গা ও এনজিওদের পদভারে জর্জরিত। যার কারণে দীর্ঘ সড়ক যোগাযোগ এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। আজ এমন অবস্থায় পৌছেছে যে, উভয়মূখীর একটি বাস অন্য একটি বাস অথবা ট্রাককে সাইট দিতে পারেনা। অনেক সময় এ কারণে যানজাটের সৃষ্টি হয়। প্রায় রোহিঙ্গাদের আশ্রিত ক্যাম্প ও বাজার সড়কের পাশ্বে। এছাড়া পাহাড়ী ঢলের বৃষ্টির পানি সরাসরী সড়কের উপর দিয়ে চলে যাওয়ার কারণে সড়কটি দক্ষিণ সীমান্ত উপজেলা উখিয়া-টেকনাফের প্রায় ৬লাখ বিভিন্ন পেশাজীবি কর্মজীবি মানুষ ১২ লাখ রোহিঙ্গার কারণে চরম ক্ষতিগ্রস্থ ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। টেকনাফ কক্সবাজার আঞ্চলিক সড়কের পাশ্বে অবস্থিত মরিচ্যা বাজার, কোটবাজার, উখিয়া বাজার, পালংখালী বাজার, হোয়াইক্যং বাজার, মিনাবাজার, খারাংখালী বাজার, মৌলভী বাজার, হ্নীলা বাজার, লেদা বাজার ছাড়াও আরো অসংখ্য ছোটখাটো বাজার সড়কের পাশ্বে বেঙের ছাতার ন্যায় গজে উঠেছে। যার কারণে সড়কটি যাতায়াতে চরম ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। ১৫ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গা কাজের সন্ধানে এলাকায় ও বাজারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে। অবাধ যাতায়াতের কারণে যানবাহন থাকে তাদের দখলে। বিশেষ করে টেকনাফ পৌর শহরটির অবস্থা আরো করুণ। রোহিংগা শ্রুমিক, টমটম, অটোরিক্সা, সিএনজি, ছাদের গাড়ীর চালক প্রায় রোহিঙ্গা। টেকনাফ পৌর ষ্টেশানটি বিভিন্ন যানবাহন ও পরিবহনের বাস ষ্টেশনে পরিনত হয়েছে। ফুটপাট, ভাসমান দোকান, বাস কাউন্টার তেলেরড্রাম, মাছ বাজার ও তরিতরকারী বাজার ষ্টেশানটি দখল করে নিয়েছে। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত দফায় দফায় যানজাট লেগেই থাকে। এ সময় কোন মুমূষরোগী সহজে সরকারী হাসপাতালে যেতে বাঁধার সম্মূখীন হয়। যাত্রীসহ এ অবস্থায় দুর্ভোগের শিকার হয়। পথচারীরা পর্যন্ত নিজ গন্থব্য স্থানে যেতে পারে না। এসময় স্কুলগামী ছাত্র/ছাত্রী ও সরকারী চাকুরীজিবিরা নির্ধারিত সময়ে প্রতিষ্ঠানে পৌছতে বিলম্ব হয়। অন্যকোন বিকল্প সড়ক না থাকতে পৌর এলাকার জনগণ ও যাত্রী সকল নিধারুন ভোগান্তির মধ্যে পড়ে। অপর দিকে টেকনাফ পৌর শহরের কুলালপাড়া থেকে উত্তর নাইট্যং পাড়া উঠনি সড়ক পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কের এখন বেহাল দশা। সড়ক চৌচির হওয়ার কারণে যাত্রী সকল চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ মধ্যে মধ্যে সড়কে জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করলে ও এটি বেশীদিন থাকেনা। ফলে পূনরায় হয়ে যায় খানাখন্দক। ভূমি অফিস, জেলা পরিষদ মার্কেট, টেকনাফ ষ্টেসান ও কাস্টমস অফিসের সামনে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়কটি এখন বেহাল অবস্থার মধ্যে রয়েছে। অনেকের মতে এ সড়কটি মরণ ফাঁদে পরিণত হলেও সংশ্লিষ্টরা বেখবর। উল্লেখ্য উখিয়া-টেকনাফের অলিতে গলিতে বেশুমার উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু সে তুলনায় আঞ্চলিক সড়কের কোন ধরনের উন্নয়ন হয়নি। অথচঃ এ সড়ক দিয়ে সড়ক ও যোগাযোগমন্ত্রী প্রতিনিয়তই যাতায়াত করেন, কিন্তু কেন? যেন এ দৃশ্যটি মন্ত্রীর চোখে পড়েনা, স্থানীয় সচেতন জনগণ এ নিয়ে চিন্তিত। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ দশ বছরে দেশের সর্বদক্ষিণ সীমান্তের একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা টেকনাফ কক্সবাজার সড়কের উন্নয়নের ছোয়া লাগেনী। টেকনাফ উপজেলা আওমীলীগের সভাপতি সাবেক সংসদ অধ্যাপক মোঃ আলী বলেন, দেশের সীমান্ত এলাকার যোগাযোগ মাধ্যম ও সীমান্ত পর্যটন শহর টেকনাফ কক্সবাজার সড়কটি উন্নয়ন অত্যান্ত জরুরী হয়ে পড়েছে।