মোঃ রফিকুজ্জামান : বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ, ১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে পাকিস্তানকে পরাজিত করে এই দেশের আত্মপ্রকাশ। যার ইতিহাস স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে অনন্তকাল। যা নিয়ে আমরা গর্ব করি, বাঙালির বীরত্ব নিয়ে উজ্জীবিত হয়, বাংলাদেশের মানুষের সাহস ও দেশপ্রেম নিয়ে পুলকিত হয়। অথচ তার অনেক কিছুই বর্তমান তরুণ প্রজন্ম দেখতে পায়নি বা সম্ভবও হয়নি । তারপরও বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ, আন্দোলন, ইতিহাস ঐতিহ্য দেখে সত্যি হিসেবে ধরে নিয়ে আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলতে তুলতে বলি হ্যাঁ হ্যাঁ সত্যি আমরা বীর, অসীম আমাদের সাহস, কি অপরিসীম আমাদের দেশ প্রেম! আমরাই এগিয়ে যাচ্ছি , আমারই এগিয়ে যাবো, আমরাই দেখিয়ে দিয়েছি , আমরাই দেখিয়ে দিবো বিশ্বকে কি অপরিসীম আমাদের ক্ষমতা! ইত্যাদি ইত্যাদি ।
হ্যাঁ সত্যিই তো গর্ব করার মতো আমাদের কত কিছু আছে । আমাদের আছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো প্রেরণা, আমাদের আছে ধানের শীষের মিশে থাকা মাটি মানুষের অঙ্কিত শহীদ জিয়ার ছবি, আমাদের মাঠ ভরা সোনালী ফসল, আছে গুলা ভরা ধান গোয়াল ঘরে গরু! আমাদের আছে কবিদের কাব্যিক ছন্দ, নজরুলের বজ্র কন্ঠ , জারিগান সারিগান , পাক-পাখালির কলতান , গায়কের মিষ্টি সুর! সত্যি কি মধুর কি মধুর!
স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভিন্ন উপায়ে পট পরিবর্তনের পর পর আমরা পেয়েছি বিশ্ব রাজনীতিতে দাপিয়ে বেড়ানো জননেত্রী শেখ হাসিনার মতো নেতৃত্ব, আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কোমল আঁচল! আমাদের আছে ড.মোহাম্মদ ইউনূস এর মতো নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ, আছে স্যার ফজলে হোসেন আবেদ এর মতো নির্দেশনা ! আরো আরো কত জন কতো কিছুই আমাদের আছে হয়তো আমার অগোচরে থেকে গেলো , কিন্তু এত দিন পর এসেও হয়তো আমাদের নেই একটা সত্যিকারের সভ্য জাতি! যারা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য নিঃস্বার্থে কাজ করে , নিজেকে অন্যের উপকারে বিলিয়ে দিবে! যারা সত্যি সত্যি দেশকে নিয়ে সভ্যতার স্বর্ণশিখরে আরোহণ করবে।
করোনা নামক মরণঘাতী ভাইরাস যখন যমদূত হিসেবে আবির্ভূত হয়ে পুরো আধুনিক বিশ্বকে দিশাহারা করে দিয়েছে। উন্নত বিশ্ব নামক মোড়লদের নাকের ডগায় জামাঘুষি দিয়ে যাচ্ছে অবলিলায়, প্রকৃতি খেকো আধুনিক মানব সভ্যতাকে যখন করে দিচ্ছে পঙ্গু ঠিক তখনই এহেন ভয়াবহ পরিণতির কথা উপেক্ষা করে বাংলাদেশের অতি নিপীড়িত, দারিদ্র্যের আঘাতে জর্জরিত, হতদরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ হওয়া ত্রাণ আত্মসাতের খেলায় মেতে উঠেছে তথাকথিত সমাজসেবক, জনদরদী,ফুলের মতো পবিত্র চরিত্রের নামধারী জনপ্রতিনিধি বা নেতৃত্বস্থানীয় লোভাতুর তণ্ডুল উচক্কা , সহজ কথায় চাল চোর।
পৃথিবীর চারপাশে থাকালে শুনা যাচ্ছে শুধু মানুষের কান্নার রোল, খেতে না পারা মানুষের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে, কেই কেউ খেতে না পেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে আবার কেউ কেউ নিজের সন্তানদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে অতিসম্প্রতি এক মা তার সন্তানদের গঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা গঠিয়েছে এমতাবস্থায়ও সরকারি বরাদ্দ হওয়া গরিবের পেটের খাবার চুরি করে আত্মসাত করে চলেছে জনপ্রতিনিধি নামক কিছু কিছু কুলাঙ্গাররা । এক সংবাদ পত্রের খবরে আসছে এক সাপ্তাহে ৩৩০০ বস্তা চাল চুরি করেছে তারা।
এদের মরণের ভয় নেই, সম্মানহানির কোন ভয় নেই কারণ এদের লাজ শরম কিছু নেই , এদের মনে দয়া মায়া মমতা বলতে কিছুই নেই , এরা চতুষ্পদ জন্তুর চেয়ে অধম। গরু , ছাগল,ভেড়া ও এদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই! এদের একটাই লক্ষ – চাই , আরো চাই, আরো বেশি চাই , যত পাই তত খাই।
ভয়াবহ এক করোনা ভাইরাস এই জাতিকে অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে যাবে । যারা এতদিন ভালো মানুষ, জনদরদী, আপমর জনসাধণের পরম বন্ধু বলে বলে মিষ্টি কথা বলে ভোট চাইতো , সমর্থন চাইতো তাদের ভালো মানুষীর কালো মুখোশ উন্মোচন করে দিবে এই করোনা । মানুষ বুঝে নেবে কারা প্রকৃত ভালোবাসা দিয়ে দেশের ও দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে, অন্যদের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করে দেয় আর সেই সাথে চোর বাটপার, সার্থলোভী , দেশদ্রোহী,কৃপণ ও মানুষের অনিষ্টকারীদের বৈকট করে ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করবে । ধ্বংস তাদের অনিবার্য, ইতিহাস তাদের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করবে।
সর্বশেষ বাংলাদেশ সরকারের কাছে আকুল আবেদন গরিব অসহায় মানুষের পেটের খাবার যারা চুরি করে আত্মসাত করেছে বা করে যাচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে এমন শাস্তির ব্যবস্থা করুন যেন তারা পৃথিবীতে আর কখনো এমন গর্হিত কাজ করার সাহস না করে , পরকালেও মহান বিচারপতি আল্লাহ পাক তাদের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন যেন তারা তাদের অন্যায় আচরণের ফল ভোগ করবে।
যেতে যেতে বলি হে আল্লাহ আমাদের এই গরীব রাষ্ট্রকে আপনি আপনার রহমতের করুনা দিয়ে মহামারী করোনার হাত থেকে রক্ষা করুন আমীন।।
