এম.জিয়াবুল হক : আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহামুদ স্বপন এমপি বলেছেন, তৃনমুলে নেতাকর্মীরা হচ্ছেন সংগঠনের প্রাণ। তৃনমুলের নেতাকর্মীরা নিবেদিত। শেখ হাসিনার বিশ্বাস ও আস্থা রয়েছে তৃনমুলের নেতাকর্মীদের উপর। তৃনমুলের ঐক্যের কারণে শেখ হাসিনা অতীতে অনেক বিপদ সংকটাপন্ন বৈতরণী অতিক্রম করেছে, তেমনি তাঁর সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুঁিড়র অপবাদ থেকে মুক্ত করে একটি উন্নতশীল দেশের কাতারে পৌঁছে দিয়েছে। তাই দলের সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে যে কোন পরিস্থিতিতে আওয়ামীলীগকে কেউ হারাতে পারবে না। গতকাল বুধবার ২৭ জুলাই দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার প্রস্তাবিত মাতামুহুরী সাংগঠনিক থানা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইলিশিয়া জমিলা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মাতামুহুরী সাংগঠনিক থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা।
মাতামুহুরী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিন বাবুলের সঞ্চালনায় সম্মলনে প্রধান অতিথি হুইপ আবু সাঈদ আল মাহামুদ স্বপন এমপি আরও বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেশ চালান না, তিনি ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য দেশ পরিচালনা করেন। তাঁর দূরদর্শী দেশ পরিচালনায় আজ বাংলাদেশের মানুষ খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ণ। এসব অগ্রগতি বিএনপির ভাল লাগেনা। তারা সব সময় দেশে অরাজকতা তৈরী করতে চান। মানুষকে ভুল বুঝাতে চেষ্ঠা করে।
তিনি বলেন, দেশবাসির সামনে দৃশ্যমান নিজেদের টাকায় স্বপ্নের পদ্মসেতু নির্মাণ করে শেখ হাসিনা বিশ্ববাসিকে দেখিয়ে দিয়েছেন। এভাবে কক্সবাজার জেলাতেও বড় বড় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। অথচ আমার দলের কিছু সুবিধাবাদি লোক বিএনপির সাথে গোপনে আঁতাত করে তৃণমুল নেতাকর্মীদের অবহেলা করেন। পদবী পেলে অথবা দল থেকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলেই অনেক নেতার মনে অহংকার এসে যায়। অথচ জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৃণমূল নেতৃত্বকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই বললো অহংকার নয় জননেত্রী উন্নয়ন সাধারণ মানুষের প্রচার করুক।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সিরাজুল মোস্তাফা। সম্মেলনের উদ্বোধক ছিলেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান। সম্মাণিত অতিথির বক্তব্য দেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সাংসদ আলহাজ্ব জাফর আলম, কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি, জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম, যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট রনজিত দাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুর রহমান মাবু, জেলা আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক লায়ন কমরউদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এটিএম জিয়াউদ্দিন চৌধুরী, আবু হেনা মোস্তাফা কামাল, আমিনুর রশিদ দুলাল, মিজানুর রহমান, এডভোকেট উন্মে কুলছুম মিনু, মাতামুহুরী উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সভাপতি এসএম জাহাংগীর আলম বুলবুল, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন হক জেসি চৌধুরী।
সম্মেলন শেষে ইলিশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হয়। কাউন্সিল সভায় সভাপতি পদে দুইজন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা ও মাস্টার আবদুল জলিল এবং সাধারণ সম্পাদক মহসিন বাবুল ও মকছুদুল হক ছুট্ট প্রতিদ্বন্দিতা করেন। ভোট গ্রহণ শেষে রাত সাতটায় কেন্ত্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপির উপস্থিতিতে ফলাফল ঘোষনা করেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী। সম্মেলনে কাউন্সিলরদের ভোটে আলহাজ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা পুনরায় সভাপতি ও চকরিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মকছুদুল হক ছুট্টু নতুন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
এর আগে মিছিলে আর স্লোগানে মুখরিত হয়ে ইলিশিয়া জমিলা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাজার হাজার দলীয় নেতাকর্মী উপস্থিত হয়ে সম্মেলন সফল করেন।##
