বাহারছড়ায় খুচরা ও পাইকারী ইয়াবা পাচারকারীরা আতংকে, তবে ধরাছোঁয়ার বাইরে

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ইয়াবা এক সর্বনাশা নাম, মানব সমাজ ধ্বংসের তাগিদে এই ইয়াবা এখন ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে। তাই এ নিয়ে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে বিভিন্ন শ্রেণীর বিশেষজ্ঞ, অবিভাবক মহল ও প্রশাসনকে। এই সর্বনাশা ইয়াবা দেশে এত সহজে ভয়াবহ রুপ ধারণ করবে তা কেউ ভাবতেও পারেনি, যার প্রভাব পড়েছে বাংদেশের যুব ও ছাত্র সমাজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে। বর্তমানে দেশে ইয়াবার চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। ইয়াবা পাচারে বাংলাদেশ বিশাল ঝুঁকিতে থাকা সত্বেও মুলত ইয়াবা ব্যাবসায়ী বা ইয়াবা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে দেখা যায় না প্রশাসনের চোখে পড়ার মত কোনো কর্মতৎপরতা। যার ফলে তারা দিন দিন হয়ে উঠতেছে আরও নিয়ন্ত্রণহীন বেপরোয়া।

তবে সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আইন শৃঙ্গলা বাহিনীর এক যুগে ইয়াবা ও মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করায় ও গত কয়েকদিনে প্রায় অর্ধশত মাদক ব্যবসায়ী বন্দুক যুদ্ধ বা ক্রসফায়ারে নিহত হওয়াই রীতিমত আতংকে দিন কাটছে টেকনাফ বাহারছড়ার স্থানীয় খুচরা ও পাইকারী ইয়াবা ব্যবসায়ীদের। যারা এক সময় ইয়াবার টাকা দিয়ে দামী বাইক কিনে হর্ণে বাজিয়ে রাস্তা মাতিয়ে রাখত, গত কয়েক দিন যাবত আইন শৃঙ্গলা বাহিনীর মাদক বিরুধী কঠোর অভিযানে ফলে তাদের কে বেশ কয়েক দিন যাবত রাস্তার মধ্যে তেমন বাহাদুরি করতে দেখা যাচ্ছে না। তবে ফাঁকে ফাকেঁ তাদের অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা যায়, আর থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

আর ইয়াবা পাচারে টেকনাফ বাহারছড়া একটি সুবিধাজনক এলাকা হওয়ার সুবাধে বর্তমানে এখানে তালিকাভূক্ত ইয়াবা গডফাদার ছাড়াও অনেক ছোট বড় ব্যবসায়ী গড়ে উঠেছে, যারা প্রতিদিন খুচরা ও পাইকারী দামে ইয়াবা বিক্রি করে আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যাচ্ছে।

খুচরা ইয়াবা বিক্রির জন্য তাদের রয়েছে নিদ্রিষ্ঠ বিভিন্ন আস্তানা, সাথে আবার অনেকে বিক্রি করে গাঁজা, বিয়ার,মদ,ফেনসিডিল,সহ বিভিন্ন মাদক দ্রব্য। অথচ মাদক ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে কিভাবে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে তা বাহারছড়ার অভিবাবক ও সতেচন মহলের প্রশ্ন।

অনুসদ্ধানে দেখা যায় বাহারছড়ায় অনেক ছোট বড় ইয়াবা ব্যবসায়ী রয়েছে,যারা নির্বিগ্নে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তার মধ্যে কয়েকজন বিভিন্ন সময় কিছু ব্যবসায়ী ইয়াবা সহ আটক হলেও বেশীভাগ ব্যবসায়ীর পেছনে গোয়েন্দা নজরদারী না থাকায় তারা সব সময় থেকে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

যার ফলে উপকূলীয় বাহারছড়ার ইয়াবা ব্যবসায়ীরা একদিকে যেমন দিন দিন আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যাচ্ছে, তেমনি ইয়াবার কারণে দিন দিন ধ্বংস হচ্ছে স্থানীয় উঠতি তরুণ, তরুণী, যুব, ও ছাত্র সমাজ।

আর ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাহারছড়ার নোয়াখালী পাড়ার মোঃ আবদুল্লাহ, আমির হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, ফজল করিম, সিরাজুল ইসলাম, কেফাইয়ত উল্লাহ, হলবনিয়ার বি,এন,পি নেতা ইলিয়াছ হেলালী, হায়দার আলী, মো:আবছার, মো: হাসান, নুরুল আলম, কাদের পাড়ার মজিবুর রহমান, মনোয়ারা বেগম, মোহাম্মদ নূর, চকিদার পাড়ার আনোয়ার, ভাগিনা আনোয়ার হোসেন, মিজানুর রহমান, উত্তর শীলখালীর রফিক উল্লাহ, সাহেদা বেগম, বি,এন,পি নেতা ছাবের আহমদ, এস কে বশর, শফি আলম, রোহিঙ্গা বসর, পুরানপাড়ার তাহের মিয়া, মোঃ ছৈয়দ(ভুলু), মোঃ ওসমান, বাঘা বলি, আবদু রহিম, জাগের বলি, মাথা ভাঙ্গার মো: করিম, হেলাল উদ্দীন, শামলাপুর এলাকার গুরা শামশু, রোহিঙ্গা রফিক উল্লাহ, জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ রফিক, সোনা মিয়া, কালা গুন্ডা, আবুল কাসেম, সোলতান সওদাগর, জাহাজপুরার মোঃ আলী, রশিদ আহমদ, শরীফ মিয়া, জসীম মিয়া ও কামাল উদ্দীন।

উল্লেখিত ব্যক্তিদের মধ্যে একাধিক জনের বিরুদ্ধে ইয়াবা মামলাও রয়েছে, আবার অনেকে ইয়াবা সহ আটক হয়ে বর্তমানে জেলে রয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়। অভিযুক্তরা বেশী ভাগ মাছ ব্যবসা, নারিকেল ব্যবসা, ও সুপারি ব্যবসার আড়ালে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ইয়াবা পাচার করে বলে জানা যায়।

তাদের মধ্যে অনেকে জীবন এখন বিলাসবহুল, অথচ গত কয়েক বছর আগেও তারা ছিল সামান্য জেলে ও বিভিন্ন ফল ব্যবসায়ী, পোনা ব্যবসায়ী, মাছ ব্যবসায়ী। তাছাড়া টেকনাফ বাহারছড়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকা ভোক্ত বেশ কয়েকজন চিহ্নিত ইয়াবা গডফাদার রয়েছে যারা দাপটের সাথে তাদের অবৈধ ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ফলে একদিকে এই অঞ্চলে যুব সমাজের যেমন বাড়ছে ইয়াবা ব্যবসা ও সেবনের চাহিদা অন্য দিকে অভিবাবকরা শঙ্গিত হয়ে পড়ছে তাদের ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যত নিয়ে। অনেক অভিবাবক মনে করেন বাহারছড়ায় যদি আইন শৃঙ্গলা বাহিনী ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই কোনো ব্যবস্থা না নেয় তাহলে বাহারছড়ায় ইয়াবা সেবন ও ব্যবসা ভয়াবহ রুপ ধারণ করবে বলে আশংঙ্গা প্রকাশ করেন।

তাই বাহাছড়ার শিক্ষিত ও সতেচন মহলের দাবী চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীদেরকে গোয়েন্দা নজরদারীতে এনে সুযোগনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এই ব্যাপারে বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কাঞ্চন কান্তি বলেন বাহারছড়া ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।