বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় এনজিওগুলিকে ৩০ লক্ষ মার্কিন ডলার দিয়েছে জাতিসংঘ কেন্দ্রীয় জরুরি তহবিল-সার্ফ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : জাতিসংঘ কেন্দ্রীয় জরুরি তহবিল – সার্ফ, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা মানবিক সংকট মোকাবেলায় কর্মরত তিনটি জাতীয় এনজিও (ব্র্যাক, ফ্রেন্ডশিপ, রিচিং পিপল ইন নিড) এবং দুটি আন্তর্জাতিক এনজিও (সেইভ দ্যা চিলড্রেন এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন)-কে ৩০ লক্ষ মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। প্রতিটি সংস্থার জন্য বরাদ্দকৃত অনুদানের পরিমান ১লক্ষ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার থেকে ৮ লক্ষ ৪৫ হাজার মার্কিন ডলারের মধ্যে। উদ্যোগটি স্বাস্থ্য এবং পানি, স্যানিটেশনও হাইজিনসেক্টরের অত্যন্ত প্রয়োজনীয়সমস্যাগুলিসমাধানে সহযোগিতা করবে।
সার্ফ তহবিল কক্সবাজারসদরেএকটিনতুন২০০শয্যাবিশিষ্টকোভিড১৯ গুরুতরতীব্রশ্বাস-প্রশ্বাস সংক্রমণ (এসএআরআই) আইসোলেশন চিকিৎসাকেন্দ্র (আইটিসি) স্থাপনেরপাশাপাশি,রোহিঙ্গাশরণার্থীদের কাছাকাছিউখিয়াউপজেলায় এসএআরআই-আইটিসি কেন্দ্রসমূহ সচলরাখতেসহায়তাকরবে।কক্সবাজারজেলায়কোভিড১৯ মহামারীর প্রভাব কমিয়ে আনতে এবং শরণার্থীওস্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনবাঁচাতে এসএআরআই-আইটিসিবিশেষভাবে প্রয়োজন। কক্সবাজারজেলায়সরকারী ভাবেপরিচালিতস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতেনিরাপদ পানি, স্যানিটেশনএবংহাইজিন ব্যবস্থার উন্নয়নে এই তহবিল সহায়ক ভূমকা রাখবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত হ্যান্ডওয়াশিং-স্টেশন স্থাপন, সাবান ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে কোভিড১৯ এর বিস্তার কমাতে সাহায্য করবে।
কোভিড১৯ মোকাবেলায়, সার্ফের ২ কোটি ৫০ লক্ষ্ মার্কিন ডলার বৈশ্বিক তহবিলের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দকৃত এই অর্থ- সম্মুখসারী থেকে কর্মরত এনজিওগুলোর জন্য বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। যারা মানবিক সাড়াদানে জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্য, পানি, স্যানিটেশন এবং হাইজিন সেক্টরের কাজ করছেন, বিশেষ করে তাদের জন্য একটি ভিন্নধর্মী উদ্ভাবনী উদ্যোগ; যা কোভিড১৯ মোকাবেলায় বৈশ্বিক সাড়াদান পরিকল্পনায়স্থান পেয়েছে। এই ব্যতিক্রমীবহু-দেশীয়বরাদ্দটিআন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার প্রশাসনিক সহযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ের এনজিগুলোর মধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের কাছাকাছি থেকে কাজ করা সংস্থাগুলোকে সহযোগিতার মাধ্যমে তহবিলটি সরাসরিভাবে কার্যকরমানবিকসহায়তাপ্রদানেভূমিকা রাখবে ।
সার্ফ সেক্রেটারিয়েটের দিকনির্দেশনা অনুযায়ীএনজিওগুলোর প্রযুক্তিগত দক্ষতা, বাস্তবায়নসক্ষমতা, কর্মএলাকাএবং কোভিড১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায়সংযোযিত যৌথ মানবিক সাড়াদান পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে একটি কমিটির মাধ্যমে বাছাই করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে তহবিলটি সরবরাহকরা হয় এবং দ্রুততম সময়ে বরাদ্দ নিশ্চিত করতে,প্রক্রিয়াটিজরুরিভিত্তিতে বাস্তাবায়ন করতে হয়েছে। বাছাই প্রক্রিয়ায় জেন্ডার এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রয়োজনকেওঅগ্রাধিকারদেওয়াহয়েছে। উপরোক্ত মানদন্ডের পাশাপাশি গ্রাণ্ডবার্গেইন এবং স্থানীয়করণ বিষয়ক জাতিসংঘের সমন্বিত পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীননির্দেশিকাঅনুযায়ী, জাতীয় এনজিওগুলোর জন্য সরাসরি তহবিল বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘবাংলাদেশ কোভিড-১৯সাড়াদানে জাতীয়এবংস্থানীয়সংস্থাগুলিরকাজেরপ্রশংসাকরে। পাশাপাশিপরিকল্পনা অনুযায়ীপারস্পরিকসক্ষমতাবাড়াতেমানবিকসহযোগিতা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে জাতীয়সংস্থাসমূহের অগ্রাধিকারে আস্থা রাখে। এইপরিবর্তনেরে উদ্দেশ্য- ন্যায্যঅংশীদারিত্ব, তহবিলের উপযুক্ত ব্যবহারএবংজাতীয়ও স্থানীয়সংস্থাগুলিরনেতৃত্ববাড়াতেসমন্বিত প্রয়াস।এর মাধ্যমেকোভিড১৯ মহামারীতে আক্রান্তবাংলাদেশেরসকলসম্প্রদায়েরমানুষের দীর্ঘমেয়াদীসমাধানহতেপারে।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরসহযোগিতায় দ্রুতএবংঅন্যতমকার্যকরমাধ্যমএই সার্ফ।প্রতিষ্ঠার পরথেকে ১০৪টিদেশওঅঞ্চলেলক্ষাধিক মানুষকে সাড়ে ছয় বিলিয়ন-এর বেশি মার্কিন ডলার সহায়তাদিয়েছে এই তহবিলটি। এটি সম্ভব হত না, যদি না তারা তহবিল বরাদ্দে উদারএবংধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারতেন।