(ফলোআপ) : হোয়াইক্যংয়ে যৌতুক দিতে না পারায় অকালেই লাশ হল নাছিমা!

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম : প্রেম করে বিয়ের পর আসবাব পত্র দেওয়া হলেও যৌতুকের ৩০হাজার টাকা পরিশোধ করতে না পারায় হোয়াইক্যংয়ে অকালেই ঝরে যেতে হল নাছিমাকে। লাশ স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
জানা যায়, ৭ মার্চ বিকালে পোস্টমর্টেম শেষে মৃতদেহ উপজেলার উপকূলীয় বাহারছড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড নোয়াখালী পাড়ার ছৈয়দ আহমদের বাড়িতে আনা হলে হৃদয়-বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। মা, ৭ ভাই-বোন ও স্বজনদের আহাজারীতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। এরপর যাবতীয় কার্য্যক্রম শেষে বাদে আছর স্থানীয় গোরস্থানে জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে।
নিহত নাছিমার মা আমিনা খাতুন জানান,সংসারে ৪ ছেলে ও ৪ মেয়ের মধ্যে ৬ষ্ঠ নিহত নাছিমা। তাকে নিষেধ করা সত্বেও সম্পর্কের কারণে বিয়ে করে এবং আসবাবপত্র বাবদ ২২হাজার টাকা নেন। আরো ৩০হাজার টাকা দাবী করলেও সাংসারিক অভাব-অনটনের কারণে দিতে পারেনি। তাই এই নৃশংস ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে মর্মে বিবরণে বলেন,ঘটনার দিন সকালে নাছিমার শ্বাশুড়ি পাখি, জামাই কলিমুল্লাহ ও মামার শ্বাশুড় আবুল শামার পুত্র বাবুল মিলে ফোন করে দ্রæত ৩০হাজার টাকা এনে দিতে বলে। নাছিমার মা আমিনা খাতুন বলেন আমি ফেরী করে সংসার চালায়। টাকার খুবই অভাব তবুও ব্র্যাকের সাথে চুক্তিপত্র হয়েছে। আগামী সপ্তাহে টাকা পেলে আমি নিজেই আসব। ক্ষুদ্ধ কণ্ঠে মামা শ্বাশুড় জানান আজকের মধ্যে টাকা নিয়ে না আসলে ৩ঘন্টার মধ্যে তোমার মেয়ে মরা পাবে বলে লাইন কেটে দেন। এই ঘটনার প্রায় পৌনে ২ঘন্টা পর এক প্রতিবেশীর মুঠোফোনের মাধ্যমে নাছিমার মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর ঘটনাস্থলে এসে মেয়ের লাশ দেখে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মা। মেয়েকে দাফনের পর অজ্ঞান মাকে সুস্থ করার চেষ্টা করছে প্রতিবেশীরা।
স্থানীয় ইউপির ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার ইলিয়াছ বলেন,যা জানতে পারলাম যৌতুকের টাকার জন্য মেয়েকে খুন করা হয়েছে। তদন্ত স্বাপেক্ষ নৃশংস এই খুনের সুবিচার হওয়া দরকার।
নিহত নাছিমার মামাত দোলা ভাই রফিক সওদাগর বলেন,ভাই এই পৃথিবী এতই নিষ্ঠুর। সামান্য টাকার জন্য এই নির্মম মৃত্যু কারো কাম্য নই। তবুও একটি মহল খুনের ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য উঠে-পড়ে লাগায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উম্মোচন করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আইন-শৃংখলা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে টেকনাফ মডেল থানা সুত্র জানিয়েছে,এই ব্যাপারে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে নিহত নাছিমার পরিবার থেকে অভিযোগ উঠেছে, খুনীরা স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। নাছিমা খুনের সুবিচারের জন্য পরিবার আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, জনপ্রতিনিধি ও এবং সুশীল সমাজের সহায়তা কামনা করেছেন।