ফলোআপ : অস্ত্র-ইয়াবাসহ আটক ইয়াবা কিং সাইফুলের দুই ভাই কথিত সাংবাদিক সহোদর কারাগারে

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago
সাংবাদিক ইউনিটির সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন শুক্রবার অস্ত্র-ইয়াবাসহ আটক রাশেদুল করিম

বিশেষ প্রতিনিধি :
ইয়াবা ও অস্ত্রসহ আটক ইয়াবা কিং খ্যাত হাজী সাইফুল করিমের দুইভাইয়ের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। শনিবার (৪মে) পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেছেন। মামলা দায়ের করে তাদেরকে কারাগারে প্রেরণের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানান টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ।

ওসি জানান, ইয়াবা কিং হাজী সাইফুল করিমের দুই ভাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী রাশেদুল করিম ও মাহাবুবুল করিমকে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে আটক করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক বাড়ি থেকে ১০ হাজার পিচ ইয়াবা এবং চারটি দেশীয় বন্দুক ও ১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। আটকের পর শনিবার তাদের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কক্সবাজার কোর্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ পারভেজ তালুকদার জানান, শনিবার সন্ধ্যার ৭টার দিকে হাজী সাইফুল করিমের দুইভাইকে কোর্ট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন টেকনাফ থানা পুলিশ। তাদেরকে প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হবে।

ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, মাদক বিরোধী সাড়াশি অভিযান শুরু হলে ইয়াবা কিং খ্যাত ইয়াবা ডন সাইফুল করিম আত্মগোপনে চলে যান। তবে তার সিন্ডিকেটের অনেকে বিভিন্নভাবে সক্রিয় রয়েছে। আটক তার দুইভাইও সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত।

জানা গেছে, ধৃতরা সাংবাদিকতার আড়ালে দীর্ঘদিন যাবৎ সাইফুলের ইয়াবা ব্যবসায় সহযোগীতা দিয়ে আসছিল। এদের মধ্যে রাশেদুল করিম টেকনাফ বার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম নামে একটি অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক ও টেকনাফ সাংবাদিক ইউনিটি নামে একটি সাংবাদিক সংগঠনের যুগ্ন সম্পাদক। অপরদিকে মাহবুবুল করিম ওয়ান নিউজ বিডি নামে অপর একটি অনলাইনের সম্পাদক ও প্রকাশক।

u 3333 TEKNAF TODAY - সীমান্তের সর্বশেষ খবর

টেকনাফ থানার একজন কর্মকর্তার সাথে সাংবাদিক ইউনিটির নেতা হিসাবে অন্যদের সাথে ফুল দিচ্ছেন রাশেদ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইয়াবা কারবারী হলেও অত্যন্ত প্রভাব প্রতিপত্তি নিয়ে রাশেদ সহ তার অন্য ভাইয়েরা রাজকীয় ভাবসাব নিয়ে অহংকারের সাথে চলাফেরা করতো। তাদের চলাফেরায় যেন মাঠিতে পা পড়তো না। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পুলিশ ও আইন শৃংখলা বাহিনীর উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে সাংবাদিক ইউনিটি নামে একটি সাংবাদিক সংগঠনের সাথে তারা হরদম উঠাবসা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজির হতো। ফলে স্থানীয় ইয়াবা বিরুধী সাংবাদিক ও সচেতন মানুষ তাদের ইয়াবা কারবারের সব কিছু জানলেও কখনো প্রকাশ করার সাহস পেতনা বরং তারা ভয়ে কোনঠাসা হয়ে থাকতো।

বিশেষ করে কক্সবাজারের একটি প্রভাবশালী সাংবাদিক সংগঠনের কতিপয় নেতার সাথে এই সাংবাদিক ইউনিটির ছিল দহরম-মহরম সম্পর্ক। সাংবাদিক ইউনিটির সভা-সেমিনার, বনভোজন সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই সাংবাদিক সংগঠনের সেই নেতারা প্রশাসনিক ও আইন শৃংখলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে হাজির হতেন। আর সেই সব অনুষ্ঠানে মধ্য মনি হয়ে থাকতেন রাশেদ ও তার ভাই স্বজনরা। আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা তারা ভাইরাল করতেন। ব্যাপক প্রচার পেত সেসব অনুষ্ঠান। ফলে সাধারন মানুষের মাঝে একটা ভুল ধারনা ও ভয়ের সৃষ্টি হতো। ফলে তারা কখনো মুখ খোলার সাহস পেত না। অথচ আইন শৃংখলা বাহিনীর কর্মকর্তারা সাংবাদিক সংগঠন হওয়ায় তাদের ইয়াবা কানেকশনের কথা কখনো সন্দেহ করতেন না।

তবে কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনের নির্দেশনায় টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাস শুক্রবার রাতের অভিযানে তাদের সাজানো ইয়াবা সাম্রাজ্য তছনছ করে দিলেন।

এমনকি অনেক সময় ইয়াবার চালান হাত বদলের তথ্য জানা থাকলেও তা আইন শৃংখলা বাহিনীর কাছে প্রকাশের সাহস পেতনা। এই সাংবাদিক ইউনিটি নামের সংগঠনটির আরেক সদস্য কয়েক বছর পূর্বে
ইয়াবাসহ আটক হয়েছিলেন। আরেক সদস্য বর্তমানে হুন্ডি ব্যবসার অভিযোগ ও মামলা নিয়ে পলাতক রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে সাইফুল পরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় চলতো সাংবাদিক ইউনিটি নামে সংগঠনটি। আবার এই সংগঠনের পৃষ্টপোষকতায় সাইফুল পরিবারের ইয়াবা ব্যবসা নিরাপদ থাকতো। রাশেদুল করিম ছাড়াও তার অপর ভাই জেড করিম এই সংগঠনের উপদেষ্টা।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এই সংগঠনের সব সদস্যই ইয়াবা কারবারের পৃষ্টপোষকতায় জড়িত নয়। অনেকে না জেনে আবারৈ অনেকে না বুঝে সংগঠনটির সাথে জড়িত রয়েছে। আবার অতীতে অনেকে ইয়াবা ব্যবসার পৃষ্টপোষকতা ও সাইফুল পরিবারের সম্পৃক্ততা বুঝতে পেরে সংগঠন ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছিলেন। এমনকি শুক্রবার যখন টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস সাইফুল করিমের বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছিলেন তখনও এই সংগঠনের উপদেষ্টা পরিচয়ে একজন অভিযান বন্ধ করতে আবদার করেন বলে জানা গেছে। মূলত ‘গ’ আদ্যক্ষরের সেই সাংবাদিক নেতা নিজ ব্যক্তি স্বার্থে কৌশলে অন্যদের ব্যবহার করতেন।

সবকিছু বুঝতে পেরে বর্তমানে এই সংগঠনের সৎ সাংবাদিকরা ভবিষ্যত ঝামেলা এড়াতে সংগঠন ছাড়ার কথা ভাবছেন বলে জানা গেছে।

uuuuuuunnnn TEKNAF TODAY - সীমান্তের সর্বশেষ খবর