পেকুয়ায় চিংড়িঘের দখলে দু’পক্ষের গোলাগুলিতে দুই প্রহরী নিহত ও ৭টি অস্ত্র উদ্ধার: আটক-১১

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া : কক্সবাজারের পেকুয়ায় ডেমুশিয়া জামে মসজিদ ওয়াকফ্ এস্টেট জমিতে চিংড়ি ঘের দখল বেদখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঘন্টাব্যাপী গোলাগুলির ঘটনায় চিংড়িঘেরের দুই প্রহরী নিহত হয়েছে। ওইসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন আরো ১০-১২জন। শনিবার বেলা ১১টার দিকে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বিলহাচুরা এলাকার আরিফুল ইসলাম ও জালাল উদ্দিন গংয়ের মধ্যে ঘটেছে এ গুলাগুলির ঘটনা। পুলিশ তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দেশে তৈরী সাতটি বন্দুক উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নারীসহ ১১জনকে আটক করেছে। জব্দ করা হয়েছে একটি নোহা গাড়ি।
স্থানীয় লোকজন জানান, গোলাগুলিতে নিহত নেজাম উদ্দিন পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বিলহাচুরা মৃত আবদুল মাবুদের ছেলে। তিনি সংঘাতে জড়িত আরিফুল ইসলাম গংয়ের পক্ষে লোক। অপর নিহত আজিজুল হক একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। তিনি প্রতিপক্ষ জালাল উদ্দিন গংয়ের পক্ষের লোক। পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জিয়া উদ্দিন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গুলি ও মারধরের আঘাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশের হাতে আটককৃতরা হলেন, চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের চরনদ্বীপ এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে আবদুল কাদের (৩২), চরনদ্বীপের হাফেজঘোনা এলাকার আবদুল করিমের ছেলে মোহাম্মদ নুর (৩২), চকরিয়া পৌরসভার বিনামারা এলাকার আবদুস শুক্কুরের ছেলে মোহাম্মদ ইকবাল (২৮), চকরিয়া পৌরসভার পালকাটা খোন্দকারপাড়া এলাকার কবির আহমদের ছেলে মিজানুর রহমান (২৫), চকরিয়া পৌরসভার করাইয়াঘোনার মোহাম্মদ ইসমাইলের ছেলে ওসমাণ গণি (২৪), চিরিঙ্গা ইউনিয়নের চরনদ্বীপ এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে মো. ইয়াহিয়া (৩৫), চকরিয়া পৌরসভার কাহারিয়াঘোনা এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে মোঃ শাজাহান (৩৮) ও পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বিলহাচুরা এলাকার ছেনুয়ারা বেগম (৩২)। আটক অপর তিনজনের নাম পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শনিবার বেলা ১১টার দিকে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বিলহাচুরা এলাকায় স্থানীয় ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলাম গংয়ের দখলে থাকা ওয়াকফের চিংড়িজমি দখল করতে প্রতিপক্ষ জালাল উদ্দিন গংয়ের লোকজন আক্রমন চালায়। এসময় দুইপক্ষের মধ্যে ঘন্টাব্যাপী ব্যাপক গুলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে দুইপক্ষের দুই জন নিহত হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলাম বলেন, আমার ভাই সাবেক ইউপি সদস্য মমতাজ উদ্দিনের ভোগদখলীয় চিংড়ি ঘের জবরদখল করতে সশস্ত্র হামলা চালায় একই এলাকার জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী। বহিরাগত সন্ত্রাসীসহ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তারা আমাদের উপর হামলা চালায়। এতে আমার ঘেরের দুই প্রহরী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অন্তত ৫-৭জন।
অপরদিকে প্রতিপক্ষের জালাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের দখলীয় চিংড়ি ঘের দখল করার জন্য আরিফ মেম্বারের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ব্যাপক গুলিবর্ষন করে। এসময় তাঁরা আমার পক্ষের একজনকে গুলি করে হত্যা করেছে। ঘটনার পরপর বাড়িঘর ভাংচুর করে ৫জনকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ট তদন্ত দাবী করছি।
পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষনিকভাবে জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রæত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি। এসময় ঘটনাস্থলে তল­াশি চালিয়ে সাতটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নারীসহ ১১জনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনায় আর কারা জড়িত পরে জানাতে পারবো। তবে দুইপক্ষের হেফাজতে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।##