বিশেষ প্রতিবেদন : টেকনাফে নয়াপাড়া পাড়া শরণার্থী ক্যাম্প শান্তিপূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে উগ্রপন্থী সংগঠনের অস্ত্রবাজ, অপহরণকারী, ভাড়াটে খুনী, বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সোর্স পরিচয়ে মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণকারী, আর্ন্তজাতিক লবিংয়ে জড়িত প্রযুক্তিবিদসহ চিহ্নিতদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি আইন-শৃংখলা বাহিনীর কঠোর ভূমিকার দাবী উঠেছে। অন্যথা যেকোন মুহুর্তে আইন-শৃংখলা বাহিনীসহ সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের এইচ বøকের বাসিন্দা লাল বুইজ্জার পুত্র কমান্ডার জুবায়ের তথা নুর আলম ডাকাত। নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের বি-বøকের বাসিন্দা ছৈয়দ উল্লাহ এক সময়ের আনসার কমান্ডার খুন, অস্ত্র ও বুলেট লুট মামলার আসামী, মিয়ানমারে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলাকারী গ্রæপের সদস্য। যার নেতৃত্বে রয়েছে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত বিশাল বাহিনী। শালবাগানসহ পাশ^বর্তী জাদিমোরা, নয়াপাড়া, মোচনী, লেদা, আলীখালী, রঙ্গিখালীসহ বিভিন্ন লোকালয়ে আতংকের নাম নুর আলম ডাকাত। রোহিঙ্গা বস্তির পাশাপাশি যার পাহাড়ী আস্তানায় রয়েছে নিজস্ব স¤্রাজ্য। এই স¤্রাজ্যে নতুন করে যুক্ত হয়েছে মাদক বিরোধী অভিযানে ফেরারী হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় অবৈধ অস্ত্র্রধারীরা। যার ফলে রোহিঙ্গা বস্তি আর পাহাড় কেন্দ্রিক এই স¤্রাজ্যে মাদক চোরাচালান, অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্য, চুক্তিভিত্তিক ভাড়াটে খুনী, ডাকাতি-ছিনতাই এবং অবৈধ সীম ব্যবহার করে হুমকি-ধমকির ঘটনায় অব্যাহত রয়েছে। এদিকে নুর আলম ডাকাত এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পক্ষে কথা বলায় তার বিরুদ্ধে সুবিধাভোগী বিশেষ মহলের অপপ্রচার বলে দাবী করেন।
এদিকে নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের সি-বøকের আব্দুস সালামের পুত্র হাসান প্রকাশ কমিটি হাসান। উগ্রপন্থী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য, বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থা সমুহের সোর্স পরিচয় বহন করে সে বিভিন্ন দোকান-পাট, হুন্ডি, বিকাশ ও কলিং ফোন বাণিজ্যের আড়ালে অহরহ অবৈধ সীম বাণিজ্য তুঙ্গে রেখেছে। গত বছর এই বাণিজ্যের আধিপত্য নিয়ে খুনের ঘটনা ঘটেছে। ক্যাম্প সংশ্লিষ্টদের সাথে সখ্যতা রেখে বিশেষ একটি গ্রæপ সৃষ্টি করে রাজত্ব ধরে রেখেছে। এই গ্রæপের কতিপয় সদস্য বিভিন্ন অপরাধীদের হুমকি-ধমকি দিয়ে নানা অপরাধ করে বেড়ানোয় সাধারণ রোহিঙ্গারা চরমভাবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। অনেকে প্রাণনাশের ভয়ে নীরবে এসব সহ্য করে চলেছে। ক্যাম্পে নিয়োজিত আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলে কিছুদিন গা ঢাকা দেয়। এরপর বদলী হয়ে গেলে আবারো পুরনো অপকর্মে ফিরে। এইভাবে চলছে তাদের কমিটি হাসানের রাম-রাজত্ব। অপরদিকে নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের বি-বøকের বাসিন্দা ছৈয়দ উল্লাহ এক সময়ের আনসার কমান্ডার খুন, অস্ত্র ও বুলেট লুট মামলার আসামী। পরে মোটাংকের বিনিময়ে চার্জশীট থেকে বাদ যাওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত ছিল। চোখে পড়ার মতো তার আয়ের কোন উৎস না থাকলেও চলছে রাজার হালে। উন্নত মোবাইল সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞ, ক্যাম্প প্রশাসন, কর্মরত সংস্থার কর্মচারীদের সাথে সখ্যতা, বিভিন্ন দেশ ও স্থান থেকে আগত সাংবাদিকদের সাথে সম্পর্ক এবং বহিঃবিশে^ অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা এনে রোহিঙ্গাদের সহায়তার নামে সংগঠিত করে আসছে। বাহ্যিক অর্থ সংগ্রহ করে যোগান দিয়ে স্বশস্ত্র গ্রæপ সমুহকে জিইয়ে রাখছে বলে একাধিক সুত্রের অভিযোগ।
গত ২/৩ মাস আগ হতে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, ভাড়াটে হিসেবে গুম ও খুন, মাদকের বড় বড় চালান ছিনতাই, মাদক চালানের লেন-দেনের বকেয়া টাকা উদ্ধার কাজে এই চক্রের সদস্যরা সরাসরি জড়িত বলে বিভিন্ন সুত্র থেকে অভিযোগ উঠছে। চলতি বছরের গত জুন মাসের শেষের দিকে রহিম উল্লাহ-রশিদুল্লাহ নিখোঁজ হয়। ২২দিন নিখোঁজ থাকার পর নাফনদী হতে রশিদুল্লাহর রক্তাক্ত ও বিক্ষত লাশ উদ্ধার করেন। ১৬ জুলাই হিরের আংটির জন্য এইচ বøকের তজল আহমদের পুত্র কেফায়ত উল্লাহ (৩০) কে গুম। শেষের দিকে মিয়ানমার সীমান্ত হতে ৬ লাখ ইয়াবার চালান ছিনতাই। মোচনীর মোজাহেরের পুত্র দেলোয়ারকে অপহরণ করে। চলতি মাসের শুরুতে রাতে দুই গ্রæপের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। উক্ত বিষয়ে নয়াপাড়া ক্যাম্প পুলিশের আইসি মোঃ কবির হোসেন জানান, এসব অপরাধীদের অপকর্ম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে কোন মূল্যে তাদের নির্মূল করতে হবে অন্যথায় ক্যাম্প এবং ক্যাম্পের আশে পাশের এলাকা পুরোটাই অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক অপরাধীদের কোন ধরণের আশ্রয় দেওয়া হবেনা জানিয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, নুরুল আলমসহ তার সহযোগীদের ধরতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত আছে। এদিকে নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, নুরুল আলম এবং কমিটি হাসানের নেতৃত্বে গঠিত অপরাধচক্র দমনে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। উক্ত শরণার্থী ক্যাম্পের চিহ্নিত অপরাধীদের যেকোন মূল্যে আইনের আওতায় আনার জন্য আইন-শৃংখলা বাহিনী কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
