নিজস্ব প্রতিনিধি,টেকনাফ :: আত্মসমর্পণকৃত শীর্ষ ইয়াবা কারবারী নুরুল হুদা মেম্বারের পিএস ইয়াবা আব্দু শুক্কুর বর্তমানে লেদা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম এবং মাদক নির্মূল কমিটির সভাপতি! বিষয়টি স্থানীয় জনসাধারণকে বড় বেশী ভাবিয়ে তুলছে। এদিকে পুলিশের উপর হামলা,ডাকাতি,অপহরণসহ বিভিন্ন মামলার দাগী আসামী চাঁদাবাজ শুক্কুর কিভাবে কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম এবং মাদক নির্মূল কমিটির সভাপতি হয়েছে তা নিয়ে হাজারো মানুষের প্রশ্ন রয়েছে। হাজারো প্রশ্নের মাঝেও তিনি কমিউনিটি পুলিশিং এবং মাদক নির্মূল কমিটির সভাপতি পরিচয় দিয়ে এলাকায় সাধারণ মানুষকে যেনতেন হয়রাণী করছে। জানাযায়,আব্দু শুক্কুর উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের দক্ষিণ লেদার মৃত হামিদ আলীর পুত্র। ৫ ভাইয়ের মধ্যে সে মেজ। শুক্কুরসহ ৪ভাই ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত। গত ইউপি নির্বাচনের অনেক আগে নুরুল হুদা মেম্বারের সহযোগী হয়ে এই ব্যবসার প্রসার ঘটাতে থাকে। নুরুল হুদা মেম্বার আত্মসমর্পণ করলে এপিএস প্রতাপ শুক্কুর মেম্বারের যাবতীয় ব্যবসা দেখাশুনা করছেন। শুক্কুরের কনিষ্ট ভাই হামিদ হোছনও একজন বড় কাতারের ইয়াবা ব্যবসায়ী। ইতিমধ্যে তিনি প্রাণ বাঁচাতে সরকারের নিকট আত্মসমর্পণ করেছেন।
এলাকাবাসী জানায়,নুরুল হুদা মেম্বারের অনুপস্থিতিতে আব্দুস শুক্কুর মেম্বারগিরিও করছেন। একজন চিহ্নিত অপরাধী হয়েও ছলে কৌশলে কেমনে শুক্কুর কমিউনিটি পুলিশিং এবং মাদক নির্মূল কমিটির মত গুরুত্বপূর্ণ পদ আকঁড়ে রাখছে! এলাকাবাসী জানায়,লেদা তথা ৮নং ওর্য়াডের কমিউনিটি পুলিশিং এবং মাদক নির্মূল কমিটি শুক্কুরই ইচ্ছামত কমিটি গঠন করেছেন। কমিউনিটি পুলিশিং এবং মাদক নির্মূল কমিটিতে সদস্য করবেন মর্মে অনেকের কাছ থেকে মোটাংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। টাকা হাতিয়ে নিলেও প্রতাপ শুক্কুরের ভয়ে কেউ মুখ খুলছেনা। স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ জরুরী ভিত্তিতে চিহ্নিত অপরাধী ও নূরুল হুদা মেম্বারের পিএস আব্দু শুক্কুরকে লেদা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম এবং মাদক নির্মূল কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার দাবী জানান।
অভিযুক্ত আব্দুস শুক্কুর নিজেকে কমিউনিটি পুলিশিং এবং মাদক নির্মূল কমিটির সভাপতি দাবী করে বলেন,আমি কমিটির সভাপতি হলে সাংবাদিকদের সমস্যা কি? নুরুল হূদা মেম্বারের পিএস হলে আর কোন কমিটির সভাপতি হওয়া যাবেনা?
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় দু’য়েকজন জনপ্রতিনিধি জানান,দাগী শুক্কুর কেমনে কমিউনিটি পুলিশের পরিচয় দেই। তার মত অপরাধীরা মাদক নির্মূল এবং কমিউনিটি পুলিশিংয়ের পদ পদবীতে থাকলে কখনোই কাজ হবেনা।
লেদা ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কাদির হোছন জানান,শুক্কুর কখনো দলীয় পদে ছিলেন না। একজন অপরাধী দলীয় পদ পদবীতে না থেকেও কমিউনিটি পুলিশের মত গুরুত্বপূর্ণ পদে কেমনে সভাপতি? তা মোটেও বুঝা আসেনা! তিনি দাগী শুক্কুরকে বাদ দিয়ে নতুন করে স্বচ্ছ লোকদের দিয়ে কমিটি গঠনের দাবী জানান।
উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো: নূরুল হুদা জানান, এই ধরণের ছদ্মবেশী অপরাধী মাদক নির্মূল এবং কমিউনিটি পুলিশের কমিটিতে থাকার কোন এখতিয়ার নেই। ভুলবশত: হয়ত কমিটিতে ঢুকতে পারে। তিনি দ্রæত সময়ে শুক্কুরসহ ওই কমিটি বাদ দিয়ে কমিটি পূর্নগঠন করার কথা জানান।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ জানান, নুরুল হুদা মেম্বারের পিএস কখনো মাদক নির্মূল কমিটি বা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি বা কমিটিতে থাকতে পারেনা। ওসি নিজেই হতবাক যে,চিহ্নিত কারবারীর পিএস আব্দু শুক্কুর কিভাবে কমিউনিটি পুলিশিং এবং মাদক নির্মূলের মত কমিটিতে ঢুকে পড়লো। তিনি কমিউনিটি পুলিশ এবং মাদক নির্মূল কমিটি থেকে শুক্কুরকে বাদ দিবেন বলে জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রবিউল হাসান জানান,মেম্বারের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালনের কারো কোন এখতিয়ার নেই। জরুরী ভিত্তিতে তিনি বিষয়টি দেখবেন জানিয়ে এই প্রতিবেদককে বলেন,ভারপ্রাপ্ত মেম্বার পরিচয়ে যদি কেউ কোন প্রকল্প বা কোন ধরণের সুবিধাদি গ্রহণ করেন। তাকেসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
