নাইক্ষ্যংছড়িতে আগুনে ৭ দোকানসহ বসত ঘর পুড়ে ছাঁই ; দগ্ধ-১- দেড় কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি :: নাইক্ষ্যংছড়ি সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন হিরু-মণি মার্কেটে ৭টি দোকানসহ বসত ঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টা ৪৫মিনিটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নেভাতে গিয়ে মার্কেটের মালিক খোকন আকবর নামের ১ জন অগ্নিদগ্ধ ও ২জন অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এসব অজ্ঞান ও আহত ব্যক্তিদেরকে প্রথমিক চিকিৎসা পাওয়ার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
মার্কেটের মালিক হিরু-মণি ও খোকন জানান, শুক্রবার দিবাগত রাতের কোন এক সময় আগুনের সূত্রপাত হয়। মার্কেটের রুপন ইলেকট্রনিক দোকানের বৈদ্যুতিক সর্টসার্কিট হয়ে আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ৭ টি দোকানসহ বসত ঘর পুড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মার্কেটের রুপন চন্দ্র নাথ ও শহিদুল­াহর ইলেকট্রনিক্সের দোকান, প্রেসক্লাব সাধারন সম্পাদক আবুল বাশার নয়নের কম্পিউটার সেন্টার ও অফিস, মো: নুরুল ইসলাম ওরফে নুরুর মুদির দোকান, বাপ্পী শর্মার সেলুনের দোকান, মোজাফ্ফর আহমদের ষ্টেশনারী ও লাইব্রেরী ও নুরুল ইসলামের ফার্মেসীর দোকান ও মার্কেট মালিকের বসত ঘর সহ সাতটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে নগদ টাকা, মোটরসাইকেল ২টি ও বিভিন্ন মালামালসহ দেড় কোটি টাকার অধিক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশ, বিজিবি ও স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরে কক্সবাজার ও উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাব সভাপতি শামীম ইকবাল চৌধুরী জানান, প্রেসক্লাবের নিজস্ব কোন ভবন না থাকায় প্রেসক্লাব সাধারন সম্পাদক আবুল বশর নয়নের অস্থায়ী অফিস করে ল্যাপটপ, টিভি, আসবাব পত্র সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট সংরক্ষিত ছিল। বর্তমানে আগুনে পুড়ে সব কিছু ছাই হয়ে গেছে। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার শাফায়েত হোসেন জানান, মার্কেটের বৈদ্যুতিক শট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় একটি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন স্থাপন করার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। কারন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন থেকে ৩০/৩৫ কি: মি: দূরত্ব হওয়ায় তাৎক্ষুণিক ভাবে আগুণের গতি রোধ করা সম্ভব হয়নি না। তাই বড় ধরণের ক্ষয় ক্ষতি হয়ে যায়।
খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সরওয়ার কামাল ও থানা পরিদর্শক (ওসি) শেখ মো: আলমগীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন কালে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার ও মার্কেটের মালিককে সুযোগ-সুবিধা প্রদানের চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন।