নিজস্ব প্রতিনিধি, টেকনাফ |
টেকনাফ স্থল বন্দরে শ্রমিক সংকটের কারণে পণ্য লোড-আনলোডে দীর্ঘসূত্রিতায় লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। পাশাপাশি দীর্ঘদিন যাবৎ স্থল বন্দরের ভাঙ্গা জেটি ও পল্টুন মেরামত না হওয়ায় শ্রমিকদের পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। অনেক সময় ভাঙ্গা জেটি ও পল্টুনে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। অভিযোগ উঠেছে স্থল বন্দর পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ব্যবসায়ী ও শ্রমিক উভয়ে লোকসান ও ভোগান্তি পোহালেও তাদের যেন কোন মাথাব্যাথা নেই।
স্থল বন্দরের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন শ্রমিক সংকটের কারণে গত এক মাস আগে মিয়ানমার থেকে আমদানী হওয়া পণ্য এখনও ট্রলারেই ভাসছে। ট্রলার থেকে পণ্য খালাস করতে শ্রমিক পাওয়া গেলেও আবার ট্রাকে বোঝাই করতে শ্রমিক পাওয়া যায় না। সম্প্রতি বন্দরে শ্রমিকের এমন সংকট চললেও শ্রমিক সংকট সমাধানে কোন উদ্যোগ নেই।
এভাবে মিয়ানমার থেকে নিয়ে আসা ট্রলার পণ্য খালাস করতে না পেরে দীর্ঘদিন আটকে থাকছে বন্দরে। ফলে সেই ট্রলারের রক্ষনাবেক্ষন ও মাঝি মাল্লার খাওয়া দাওয়া সহ অন্যান্য খরচ মিলে সব খরচ পণ্যের উপর চাপছে। এতে সেই পণ্যের উপর লাভের পরিবর্তে লোকসানে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। এভাবে দিন দিন ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে ব্যবসায়ীরা লোকসান ও ভোগান্তি পোহাচ্ছে। তারপরও সমস্যা সমাধানে কোন উদ্যোগ নিচ্ছেন না তারা।
জানা গেছে টেকনাফ স্থল বন্দরের নিয়োজিত অধিকাংশ শ্রমিক রোহিঙ্গা। তারা লেদা আনরেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পে বসবাস করে থাকে। সেইসব ক্যাম্পে সরকারী বেসরকারী উদ্যোগে প্রচুর পরিমান ত্রাণ প্রদান করাই সেখানে থাকা শ্রমিকদের কাজের প্রতি অনিহা দেখা দিয়েছে। শ্রমিক সংকট চললেও বন্দর কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ গ্রহন করেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আমদানীকারক জানান, ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট কর্তৃপক্ষ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর মতো স্থল বন্দরের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে শুধু বিভিন্ন চার্জ আদায় করেই শুধু কিন্তু ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের সুবিধার্তে তথা বন্দরের ব্যবসা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে তারা টাকা পয়সা খরচ করতে রাজী না।
ব্যবসায়ীরা আরো জানান, বন্দরের অব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের কথা বললেই সেই ব্যবসায়ীকে নানা ভাবে হয়রানী ও বাকা চোখে দেখা হয়। তাই কেউ প্রকাশ্যে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চাইনা। আবার এই কারণে সংবাদকর্মীদের কাছেও অভিযোগ করলেও নাম প্রকাশে তাদের অনিহা।
এব্যাপারে টেকনাফ স্থল বন্দর পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট এর ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, শ্রমিক সংকট ছিল তবে তা এখন কেটে গেছে, এখন প্রতিদিন পণ্য বোঝাই করে ৭০-৮০টি যানবাহন চট্টগ্রাম ও ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে।
ভাঙ্গা জেটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জেটি নই পল্টুনের সাথে জেটির সংযোগ লাগানো মুরিং ভেঙ্গে যাওয়ায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে এই ব্যাপারে পরীক্ষা নিরীক্ষার কাজ চলছে।
