চকরিয়ায় কৃষিজমি কেটে পুকুর খননে মাটি লুট দুইটি স্কেভেটর দুটি ডাম্পার জব্দ, শ্রমিক আটক

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া :
পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে চকরিয়া উপজেলার পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের ঈদমনি লালব্রীজ এলাকায় জমির শ্রেণি পরির্তন করে কৃষিজমি কেটে পুকুর খনন পুর্বক মাটি লুটের বাণিজ্যে মেতেছে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র। কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় পরিবেশ বিধ্বংসী এই ধরণের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলেও পরিবেশ অধিদপ্তর জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনধরণের প্রদক্ষেপ নেয়নি। অবশ্য বিষয়টি চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসলে সর্বশেষ বুধবার ১৭ ফেব্রুয়ারী সকালে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো.তানভীর হোসেনের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযানের সময় মাটি লুটে জড়িত মূলহোতারা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে একজন শ্রমিককে আটক এবং জব্দ করা হয়েছে খনন কাজে ব্যবহৃত দুটি স্কেভেটর ও পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি ডাম্পার গাড়ি। পরে আটক শ্রমিককে মুছলেখা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।
এলাকাবাসি দাবি করেন, কয়েকমাস ধরে উপজেলার পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের ঈদমনি লালব্রীজের অদূরে এবং কোনাখালী ও বিএমচর ইউনিয়নে কতিপয় চক্র ফসলি ও সমতল শ্রেণীর জমির মাটি পরিবর্তন করে স্কেভেটর দিয়ে পুকুর খনন করে যাচ্ছে। পরে খননকৃত এসব মাটি অন্যত্র বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রভাবশালী চক্রের লোকজন।
অভিযোগ উঠেছে, জমির শ্রেণী পরিবর্তন করা পরিবেশ আইনে নিষিদ্ধ থাকলেও বিষয়টির আলোকে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনধরণের ভুমিকা ছিলনা। এই সুযোগে জড়িত সিন্ডিকেট চক্রের লোকজন প্রকাশ্য দিবালোকে দিব্যি স্কেভেটর দিয়ে কৃষিজমি কেটে ২০ ফুটের বেশি গভীরে গিয়ে গর্ত করে মাটি উত্তোলন অব্যাহত রাখে। এঅবস্থার কারণে ওই এলাকায় ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসি বলেন, জমি থেকে উত্তোলনকৃত মাটি গাড়িতে পরিবহনের কারণে উপকূলীয় আঞ্চলিক মহাসড়কটি ক্ষত ক্ষত জমাট বেধেছে। ওই এলাকার মানুষ ধুলোর যন্ত্রণায় অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন। এরই প্রেক্ষিতে সংক্ষুদ্ধ এলাকাবাসি বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে সর্বশেষ বুধবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালায়। অভিযানকালে পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আবুল মনছুর আহমদ, চকরিয়া থানার এসআই মাইন উদ্দিন তালুকদার, সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স, আনসার, ভূমি অফিসের বিভিন্ন কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর হোসেন বলেন, ঈদমনি লালব্রীজ এলাকায় কৃষিজমি কেটে ভূ-গর্ভস্থ থেকে মাটি উত্তোলনের মাধ্যমে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে আসছিলেন কতিপয় চক্র। মাটি লুটের কারণে কৃষিজমি পুকুরে পরিণত হচ্ছে। এইধরণের পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
তবে ওইসময় জড়িত মূলহোতারা পালিয়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে এক শ্রমিককে আটক করা হয়। এসময় জব্দ করা হয়ে দুটি স্কেভেটর ও অবৈধভাবে বালু পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি ডাম্পার গাড়ি।
তিনি বলেন, আটক শ্রমিককে মুছলেখা মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পর আবারো অপতৎপরতা শুরু করলে কঠোরভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে পরিবেশ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবে।##