টেকনাফ বাজারে বিক্রি হচ্ছে এখনো মানহীন-ভেজাল পণ্য

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

বিশেষ প্রতিবেদক :
আদালতের নির্দেশে ৫২টি মানহীন পণ্য বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা ও সর্বশেষ আরো ২২টি মানহীন পণ্যের বিরুদ্ধে যখন বিএসটিআই ব্যবস্থা গ্রহন করেছে এমনি পরিস্থিতিতে টেকনাফ বাজারে এখনো মানহীন বিভিন্ন খাদ্যপণ্য বিক্রির অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা।

দুই দফায় উক্ত ৭৪টি পণ্যের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও টেকনাফের কিছু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৌশলে সেসব পণ্য ভোক্তাদের বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ ভোক্তাদের। তবে ভালো ব্যবসায়ীরা শুরু থেকে আদালতের নিদেশ মেনে সেসব পণ্য বিক্রি থেকে বিরত থেকেছেন।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিন টেকনাফ পুরাতন বাস স্টেশন এলাকায় অবস্থিত প্রায় প্রতিটি মুদি দোকান গুলো পরিদর্শনকালে বিএসটিআই অননুমোদিত বগুড়ার মানহীন খোলা লাচ্ছা সেমাই প্রকাশ্যে বিক্রি করতে দেখা গেছে। নাইম-রিমন নামের এসব লাচ্ছা সেমাইয়ের প্যাকেটে বিএসটিআইয়ের কোন সীল দেখা যায়নি।

এব্যাপারে জানতে চাইলে বিক্রেতারা জানান, বিএসটিআই অনুমোদন না থাকলেও ঈদ বাজারে দরিদ্র শ্রেনীর মানুষের চাহিদা মেটাতে খোলা সেমাই বিক্রি করেছেন তারা। ঈদ বাজারে বিক্রি না হওয়া অবশিষ্ট সেমাই ঈদের পরেও বিক্রি করছেন বলে জানান।

টেকনাফ বাস স্টেশন এলাকায় ব্যবসা করেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া এলাকার একজন ব্যবসায়ী বগুড়া থেকে এনে টেকনাফ বাজারে এসব মানহীন সেমাই সরবরাহ করেছেন বলে জানান উক্ত ব্যবসায়ীরা। শুধু তাই নই অবৈধ নানা ব্যবসায় উক্ত ব্যবসায়ী জড়িত বলে জানা গেছে।

এছাড়া উপরের বাজারের সেলিম সওদাগর, হ্নীলা এলাকার শেখ আহমদ নামে আরো দুই ব্যবসায়ী এসব সেমাই বগুড়া হতে এনে টেকনাফ ও হ্নীলার বাজারে সরবরাহ করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

শুধু তাই নই টেকনাফের মোদি দোকান গুলোতে এরকম আরো বহু মানহীন পণ্য বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগে ভোক্তাদের।

এব্যাপারে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান জরুরী বলে মনে করছেন তারা।
এব্যাপারে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. রবিউল হাসান জানান, শীঘ্রই বাজার পরিদর্শন করে এসব মানহীন ভেজাল পণ্য বিক্রয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য গত ১১ই জুন দ্বিতীয় দফায় আরো ২২ পণ্যে নিম্নমান পাওয়ায় বাজার থেকে তুলে নিতে নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।
প্রথম দফা ৫২ পণ্যের পর দ্বিতীয় দফায় অবশিষ্ট ৯৩টি পণ্যের মধ্যে ২২টির নমুনা নিম্নমানের পেয়েছে বিএসটিআই। এরমধ্যে দু’টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল, ১১টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত এবং ৮টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স না থাকায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপর একটি প্রতিষ্ঠানের (ড্যানিশ ফুডস লি., নারায়ণগঞ্জ) লাইসেন্স আগেই বাতিল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ জুন) বিএসটিআইয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
দ্বিতীয় দফার ২২ পণ্যের মধ্যে রয়েছে হাসেম ফুডসের কুলসন ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই এবং এস এ সল্টের মুসকান ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ, প্রাণ ডেইরির প্রাণ প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের ঘি, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের রাঁধুনী ব্র্যান্ডের ধনিয়া গুঁড়া ও জিয়ার গুঁড়া, চট্টগ্রামের যমুনা কেমিক্যাল ওয়ার্কসের এ-৭ ব্র্যান্ডের ঘি, চট্টগ্রামের কুইন কাউ ফুড প্রোডাক্টসের গ্রিন মাউন্টেন ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল, চট্টগ্রামের কনফিডেন্স সল্টের কনফিডেন্স ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ, ঝালকাঠির জে কে ফুড প্রোডাক্টের মদিনা ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই, চাঁদপুরের বিসমিল্লাহ ফ্যাক্টরির উট ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ ও চাঁদপুরের জনতা সল্ট মিলসের নজরুল ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ। এসব পণ্যের লাইসেন্স স্থগিত করেছে বিএসটিআই। থ্রি স্টার ফ্লাওয়ার মিলের থ্রি স্টার ব্র্যান্ডের হলুদের গুঁড়া ও এগ্রো অর্গানিকের খুশবু ব্র্যান্ডের ঘি নিম্নমানের হওয়ায় কোম্পানি দু’টির লাইসেন্স বাতিল করেছে। আরও আটটি প্রতিষ্ঠান বিএসটিআইয়ের কোনো লাইসেন্স ছাড়াই পণ্য বাজারজাত করছিল। তাদের নাম প্রকাশ না করে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়োমিত মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএসটিআই।