টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি।
টেকনাফে মুরগির খামারও রক্ষা পায়নি ওসি প্রদীপের হাত থেকে। গত ৪ জুলাই কক্সবাজারের টেকনাফ মহেষখালিয়া পাড়া এলাকায় একটি মুরগির খামারে হামলা চালিয়ে খামারের মুরগি ও ডিম লুট করা হয়। এসময় আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয় খামার মালিকের বাড়িতে। ঘুষের দাবি টাকা না পেয়ে এমন কান্ড ঘটায় ওসির টীম।
রোববার এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নজির আহমদ। তিনি টেকনাফের মহেষখালিয়া পাড়ার বাসিন্দা। তিনি জানান, ‘গেল ৪ জুলাই ওসি প্রদীপের একটি দল রাতে বাড়িতে এসে দরজার খুলতে বলেন। এতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ পরের দিন এসে ঘর ভাংচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এমন ভয়ঙ্কর ঘটনা পৃথিবীতে আর হয়েছে কিনা জানা নেই। তাতে মন গলেনি ঘর থেকে বের করে আমার স্ত্রীকে মারধর করে গুলি চালিয়ে চলে যান। এসময় পাশের ঘরে থাকা বৃদ্ধ মা অজ্ঞান হয়ে যায়।
তিনি বলেন, এলাকার চৌকাদিরের মাধ্যমে আমার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় পরের দিন ওসি দলবল নিয়ে তিন বন্ধুর ব্যবসা প্রতিষ্টান মুরগির খামারে হামলা চালায়।
এতে খামারে থাকা ৩ হাজার মুরগি ও ১২ হাজার পিস ডিম লুট করে নিয়ে যাবার সময় খামারে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফলে খমারটি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। শুধু তাই নই মিথ্যা মামলায়ও আসামী করা হয়।
লোনের মাধ্যমে এই খামার করতে গিয়ে আমাদের ১০ লাখ টাকার ঋণগ্রস্ত হয়েছি। জানিনা এই লোকসান কিভাবে পুষিয়ে নিতে পারবো। পুলিশ এই এলাকার অনেক লোকজনের কাছ থেকে ঘুষ বাণিজ্যে করেছেন। স্থানীয়দের কাছে এ বিষয়ে আরও তথ্য পাবেন। সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি এসব ঘটনায় তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক।
স্থানীয় সৈয়দুল আলম বলেন, ‘রাতে পুলিশের একটি দল এসে নজির আহমদের ঘরে গুলি চালিয়ে ভাংচুর চালায়। এসময় ঘরে থাকা লোকজনকে মারধর করে বের হয়। এসময় ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর চালিয়ে লুটপাট চালায়। পুলিশ দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় ঘুষ বাণিজ্যে চালিয়ে যাচ্ছিল। যা এলাকার অনেক লোকজন ভুক্তভোগী। প্রদীপ গ্রেফতার হওয়া পর এসব ভুক্তভোগী নির্যাতনের মুখ খুলতে শুরু করেছেন।
