বিশেষ প্রতিবেদক : আজ প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমে ২৪টি সীমান্ত চৌকিতে উগ্রপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রæপের স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা এবং হতাহতের ঘটনার ৩বছর পূর্ণ হয়েছে। এই ঘটনার জন্য মুসলিমদের উপর নিপীড়ন-নির্যাতন বাড়লেও মূলত সেনা নিয়ন্ত্রিত দেশটির আমলারাই কৌশলে লাভবান হয়েছে।
২০১৭ সালের ২৫আগষ্ট রাতের প্রথম প্রহরে দেশটির উক্ত এলাকায় বসবাসরত রোহিঙ্গা মুসলমানদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখা “আরসা” উগ্রপন্থী সংগঠনের স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিম রাজ্যের পাহাড়ের পূর্ব পাশে রাশিদং রাজারবিল, বড়ছড়া, আন্দাম, ধুপমাইল, কুল্লুং, শীতাইক্যা, মন্ডুর মেরুল্লা, হাসছুরাতা, বাগঘোনা, তালাসখ, রাবাইল্যা, ঝিমংখালী, কুয়াংছিপং, তুমব্রæ, ক্যাংবং, বুচিদংস্থ টংবাজার, মিংনিশি, পীরখালী, মগডিল, বলী বাজার, ফৈরা বাজার, কুয়ারবিল, মন্ডুর হাইন্ডার পাড়াসহ ২৪টি এলাকার সীমান্ত চৌকি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। এতে সন্ত্রাসী, সামরিক-বেসামরিক এবং সাধারণ লোকজন হতাহত এবং সরকারী অস্ত্র লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
যা নিয়ে মিয়ানমার জান্তা সরকারের সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন আমলারা বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক জাতিগত রূপ দেওয়ায় মুসলিম নিপীড়ন বেড়ে যায়। যার ফলে বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঢল নামে। যা নিয়ে উভয় দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের অবনতির আশংকা উঠে। কিন্তু বাংলাদেশের কৌশলী ভূমিকার কারণে এখনো এই সম্পর্ক টিকে রয়েছে। আর রোহিঙ্গার এই ঢল বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে মিয়ানমার সীমান্ত চৌকিতে স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলার ৩ বছর উপলক্ষ্যে ঐ ঘটনায় নিহতদের স্মরণে সীমান্ত ও নিরাপত্তা বাহিনীর স্ব স্ব ঘাঁটি বা ক্যাম্পে কর্মসূচী পালন করছে বলে জানা গেছে।
