মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
টেকনাফ মডেল থানায় অতীতে যে সকল অফিসার ইনচার্জ (ও’সি) কর্মরত ছিলেন, তাদের মধ্যে বর্তমান নবনিযুক্ত অফিসার ইনচার্জ (ও’সি) রনজিত কুমার বড়–য়া অন্যতম। তিনি অতীতে জেলার মহেশখালী, চকরিয়া, কক্সবাজার সদর ও টেকনাফ থানায় সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে ছিলেন। সম্প্রতি টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ও’সি) মোঃ মাঈনুদ্দীন খান অন্যত্র বদলী হলে, তার স্থলে এ থানায় যোগদান করেন, জাতিসংঙ্গ শান্তি পদক ও আইজিপি ব্যজপ্রাপ্ত ও’সি রনজিত কুমার বড়–য়া। ২০১৪ সালে তিনি এ থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায়, ইয়াবার দুর্গে অভিযান চালিয়ে কৃতিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে সকলের কাছে প্রশংসিত হয়েছিলেন। তার আমলে ৩ জন তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছিল। এর পর থেকে ইয়াবা ব্যবসার ধস নামে। পরে ২ মাসের মাথায় তাকে বদলী করে এবং এর পর থেকে মাদকের সযলার ঘটে। তার এ আচানক বদলী নিয়ে সীমান্ত এলাকার সচেতন মহলকে রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে। একজন পুলিশ অফিসারের স্থান কাল ভেধে যে সব যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা প্রয়োজন তার মধ্যে তিনি অন্যতম। তিনি একজন চৌকুশ মিষ্ঠভাসী এবং সকল স্থরে সেবা প্রার্থীদের সেবা প্রদানের যোগ্যতা তার মধ্যে সমারোহ। বর্তমানে তিনি ২ সন্তানের জনক। ও’সি রনজিত কুমার বড়–য়া এ থানায় যোগদানের পর থেকে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে এবং ইয়াবা ব্যবসা অনেকাংশে থমকে গেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পরিবেশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে। অনেকেই ক্রসফায়ারের ভয়ে এলাকাছাড়া হয়ে গেছে। বর্তমানে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকায় প্রকাশ্যে তেমন একটা দেখা যাচ্ছেনা। গত ১লা মার্চ (বৃহস্পতিবার) ও’সি রনজিত কুমার বড়–য়ার সাথে আলাপচারিতাকালে তিনি বলেন, আইন শৃংখলার স্বার্থে মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক নিয়ন্ত্রন করতে পারলেই এটি নির্মোল করা যাবে। কোন মতেই মাদক/ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ছাড় দেয়া যাবেনা। মাদকের কারণে সীমান্ত এলাকায় আইন শৃংখলা পরিস্থিতি ঘোলাটে করে রাখছে। এ কারণে পুলিশকে ব্যস্ত থাকতে হয়। এর রোধে পুলিশের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্থরের লোকদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সহযোগিতা ব্যাতীত পুলিশের একা প্রক্ষের এটি রোধ করা সম্ভবপর নয়। দেশের একজন নাগরিক হিসাবে এর যথেষ্ঠ দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। মুষ্ঠিমেয় ইয়াবা ব্যবসায়ীর অপকর্মের জন্য জাতী তার কেশারত দিবেনা। তিনি আরো বলেন, মাদকের বিষয়টি আমার নয়। এটির মূল দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন, মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর। এর কারণে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে সদাসর্বদা এ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। সম্প্রতি টেকনাফ মডেল থানার ও’সি মোঃ মাঈন উদ্দীনের বিদায় এবং ও’সি রনজিত কুমার বড়–য়ার বরণ সভায় টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ বলেন, মরণনেশা ইয়াবা নিয়ন্ত্রন করতে হলে থানায় মামলার তদবীরকারী দালাল নির্মোল করা প্রয়োজন। সাবরাং ও বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান যথাক্রমে নুর হোসেন ও মাওঃ আজিজ উদ্দিন বলেন, নবনিযুক্ত অফিসার ইনচার্জ (ও’সি) রনজিত কুমার বড়–য়া এ থানায় অতীতে দায়িত্ব পালন করে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি তার নকেদর্পনে। সুতারাং এ নিয়ে তাকে তেমন বেগ পেতে হবে না। দেশ ও জাতীর স্বার্থে ইয়াবা/মাদক নিয়ন্ত্রনে আমরা সর্বাত্তক সহযোগিতা দিয়ে যাবো। ইনশে আল্লাহ।
