নিজস্ব প্রতিনিধি, টেকনাফ টুডে ডটকম :
মাদকসেবী ছেলের নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে হু হু করে কেঁদে উঠলেন সোনা মিয়া। কাঁদতে কাঁদতে জানালেন, দীর্ঘদিন ধরে ছেলের হাতে কিভাবে নির্যাতিত হয়ে আসছিলেন। আদরের সন্তানের হাতে মার খেয়ে শরীরের ব্যাথা ভূলে থাকলেও মনের ব্যাথা কিছুতেই ভূলতে পারছেন না। হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে যেই সন্তানকে কোলে পিটে করে বড় করেছেন সেই সন্তান আজ বলছে ঘর ভিটা লিখে দাও নাহলে তোমাদের খাইয়েছি তার মূল্য দাও। বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন তিনি। সোমবার বিকালে টেকনাফ থানা প্রাঙ্গনে দেখা হয় পৌরসভার নাইট্যংপাড়া এলাকার এই অসহায় বৃদ্ধের সাথে।
জানা গেল, ছেলের নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে মাসখানেক আগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হলেও পুলিশ সেই মাদকসেবী ছেলেকে খুঁজে পাচ্ছিল না। তাগাদা পেয়ে পুলিশের একটি টীম গ্রেফতারী পরোয়ানা নিয়ে সেই মাদকসেবী আব্দুল্লাহকে প্রকাশ কসাই আব্দুল্লাহকে গ্রেফতারে অভিযান চালালেও আটক করতে পারেনি তাকে। পুলিশের অভিযানের খবর পেয়ে পালিয়ে যায় কসাই আব্দুল্লাহ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কসাই আব্দুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা সেবন করে আসছে। একসময় কসাই হিসাবে সে বেশ নাম কুড়ালেও মাদকসেবন এবং বহু বিবাহের কারণে তার সেই ব্যবসা লাঠে ঠে। একে একে ৬টি বিয়ে করে সে। স্ত্রীদের ও একইভাবে নির্যাতন চালাতো বলে জানা গেছে।
এছাড়া কয়েক বছর আগে ছেলের মারধরে আহত হয়ে তার মা মোস্তফা খাতুন মারা যায় বলে অভিযোগ করেছেন পিতা। এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল তার ঘরভিটা কুক্ষিগত করতে মাদকসেবী ছেলেকে সহায়তা করে যাচ্ছেন বলেও জানালেন তিনি। এব্যাপারে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
