অতিথি প্রতিবেদক : জঙ্গলী ফকির ডক্টর আলহাজ্ব গাজ্বী কামরুল ইসলামের হাতে রঙ্গিখালীর অজপাড়া গাঁয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রঙ্গিখালী দারুল উলুম ফাজিল(ডিগ্রী) মাদ্রাসা ও রঙ্গিখালী খাদিজাতুল কোবরা (রা:) মহিলা দাখিল মাদ্রাসা। ১৯৭৭ এবং ২০০১ সনে পৃথকভাবে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা দুটি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন পুরো দেশ জুড়ে। পুরুষ মাদ্রাসাটি ২০০৪ সনে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ট প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা লাভ করেন। জ্ঞানের বাতিঘর জঙ্গলী ফকিরের হাতে ধরে রঙ্গিখালী এবং আশেপাশের এলাকায় শিক্ষার আলো জ্বলতে শুরু করেছেন।
পদ লিপ্সু কুচক্রী মহল কিছুতেই থেমে নেই। ওদের অপৎপরতায় কারণে-অকারণে গাজী কামরুল ইসলাম রঙ্গিখালীতে নেই। তিনি চেয়েছিলেন রঙ্গিখালী একটি আদর্শ গ্রাম হবে। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন রঙ্গিখালী রঙ্গে ইলাহী হবে। কিন্তু নিয়তি! তাঁর স্বপ্ন বাস্তবে রূপান্তরিত হতে পদে পদে পদলিপ্সুদের কালো থাবা বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। তবুও এমপিও ভুক্ত রঙ্গিখালী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসাটি চলছে। বেসরকারী মহিলা মাদ্রাসাটি কোনমতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। ২০০৫ সন পরবর্তী সময়ে মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ফারুকী নামের একজন সুপার মাদ্রাসাটির দায়িত্ব নেন। তিনি খেয়ে না খেয়ে অনেকটা বিনা বেতনে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। কিন্তু ক্ষমতালোভী স্থানীয় কতিপয় জনবিচ্ছিন্ন লোক নানাভাবে তাঁর কর্মকান্ডে বাঁধা সৃষ্টি করছেন। তারা যুগের পর যুগ কমিটিতে থাকতে চান। মাদ্রাসাটি নন-এমপিও। তাই স্থানীয় জনসাধারণ এবং দানশীল ব্যক্তিদের সমন্বয়ে তিনি মাদ্রাসাটি পরিচালনা করে আসছেন।
যখন সুপার ফখরুলের নেতৃত্বগুণে মাদ্রাসাটি উন্নতির পথে ধাবিত হচ্ছেন। তখনি কুচক্রী মহল তাঁর পেছনে লেগেই আছে। কখনো কমিটির বিরোধ। আবার কখনোই শিক্ষক-কর্মচারী দিয়ে নানান তালবাহানা সৃষ্টি করছে। তারপরও অভিজ্ঞ সুপার প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে দিবারাত্রি কাজ করে যাচ্ছেন।
প্রসঙ্গক্রমে বলতে চাই,বছর দুয়েক আগে থেকে পুরুষ মাদ্রাসার জনৈক প্রিন্সিপাল নারী মাদ্রাসার বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারণেই উঠে পড়ে লেগেছেন। নারী শিক্ষার প্রসারে গাজী কামরুল নারী মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। খোদ প্রতিষ্ঠাতার নীতি আদর্শকে জ্বলাঞ্জলি দিয়ে প্রিন্সিপাল কামাল হোছাইন পুরুষ মাদ্রাসায় মহিলাদের গণহারে ভর্তি করাতে থাকেন। প্রতিষ্টাতা কর্তৃক প্রদত্ত নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে পুরুষ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল স্থানীয় পদলিপ্সুদের নারী মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছেন।
লেলিয়ে দেওয়া পদলিপ্সুরা মাদ্রাসার উন্নয়নে বাঁধাগ্রস্থ করছেন। কামালের লেলিয়ে দেওয়া বাহিনী চিহ্নিত পদলোভীরা (৩আগষ্ট) শনিবার দুপুরে সুপারকে লাঠি দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় পেঠালেন! এই কেমন মানবতা? যারা একজন সুপারকে সবার সামনে দরজা আটকিয়ে পেঠাতে পারেন। হায়েনার মত পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দিতে পারেন। তাদের কাজ থেকে জাতি কি আশা করতে পারেন। ওরা কি চাচ্ছেন? কাদের ইন্ধনে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটালেন? ফকির সাহেব হুজুর কি এমন স্বপ্ন দেখতেন? জঙ্গলী ফকির এখনো বেঁচে আছেন। তাঁর অবর্তমানে নারী মাদ্রাসাটি কোনমতে চলছে। এভাবে প্রতিষ্ঠান প্রধানের উপর হামলা বড়ই বেশী দুঃখজনক। সুপারের চোখের পানিতে কেঁদেছেন সাধারণ এলাকাবাসী,অভিভাবক,শিক্ষিকা এবং ছাত্রীরা। এলাকার সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ এবং নিন্দা জানাই। অবিলম্বে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
টেকনাফের বর্তমান ইউএনও একজন শিক্ষা-জনবান্ধব কর্মকর্তা এবং ওসি প্রদীপ কুমার দাশ অপরাধীদের আতংক। ইউএনও পুরো বিষয়টি জানেন। এই বিষয়ে তিনি এবং ওসি নিশ্চয় দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
আমরা আর কোন প্রতিষ্ঠান প্রধানের চোখের পানি দেখতে চায়না। আমরা এঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।
