টেকনাফে বৈধ বাণিজ্যের চেয়ে অবৈধ চোরাচালান বাণিজ্য বৃদ্ধি

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন- পর্ব ১০

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
টেকনাফ সীমান্তে বৈধ ব্যবসার চেয়ে অবৈধ কালো ব্যবসা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বৈধ ব্যবসা চোরাচালান বাণিজ্যের কাছে ধরাশায়ী হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তথ্য মতে চোরাচালান তথা কালো ব্যবসা থেকে টেকনাফ সীমান্তের জনগনকে বিমুখ করতে তৎকালীন সরকার ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ মিয়ানমার পর্যায়ে সীমান্ত বাণিজ্যের নামে স্থল বন্দর কার্যক্রম চালু করে। এর পর থেকে টেকনাফ স্থল বন্দর হাঁটি হাঁটি পা পা করে রাজস্ব আয়ের অগ্রগতি হলেও ইয়াবা নামক চোরাচালানের কাছে হার মানছে।

টেকনাফ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) চলতি অর্থবছর মার্চ/১৮ মাসে স্থল ও জলপথে পৃথক চোরাচালান বিরোধী অভিযানে ৬৪ কোটি ১৬ লাখ ৫ হাজার টাকার মূল্যের অবৈধ মাদকদ্রব্য ও বিভিন্ন চোরাইপণ্য উদ্ধার করে। এর মধ্যে ৬৩ কোটি ২০ লাখ ৪ হাসার ৬শত টাকার মূল্যের ১৯ লাখ ৮৭ হাজার ৬১১পিস ইয়াবা জব্দ করে থাকে। এর সাথে জড়িত ৩০ জনকে আটক ও ২ জনকে পলাতক দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় ৫৪টি মামলা হয়েছে। অন্যান্য পণ্যে ১৬ লাখ ৫ হাজার ৭৫০ টাকার মূল্যের বিয়ার গাজা বিদেশী মদ ও ছোলাই মদ জব্দ করে। একই সময়ে টেকনাফ কোষ্ট গার্ড ২১৯ কোটি ৬২ লাখ ৬৫ হাজার বিভিন্ন মাদক দ্রব্য ও চোরাইপণ্য জব্দ করে। এর মধ্যে ইয়াবা জব্দ শীর্ষে।

অপর দিকে একই সময়ে স্থল বন্দরের রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান টেকনাফ শুল্ক বিভাগ আমদানিতে ৪৬৯ বিল অব এন্টির বিপরীত ১৫ কোটি ৮৬ লাখ ৩৯ হাজার টাকার রাজস্ব আয় করে। যাহা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনরিয়ার) লক্ষ্যমাত্রা ৭ কোটি ৭১ লাখ টাকার চেয়ে অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করেছে। আমদানি পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য চাউল, মাছ, বরই, তেতুল, বনজদ্রব্য, কাঠ, গরু, মহিশ এর পাশাপাশি ১ কোটি ৮৭লাখ ৬৪ হাজার দেশীপণ্য মিয়ানমারের রপ্তানী হয়েছে।

টেকনাফ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও স্থল বন্দর শুল্ক বিভাগের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী বৈধ আয়ের চেয়ে জাতীয় অর্থনীতি ধংসকারী অবৈধ ব্যবসা চোরাচালান চারগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। এ নিয়ে সীমান্তের সচেতন মহল শংকায় ভোগছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, টেকনাফ স্থল বন্দরের কতিপয় ব্যবসায়ী ও সি,এন্ড,এফ ব্যবসায়ী সীমান্ত বাণিজ্যের ব্যবসার বদৌলতে তাদের দৃশ্যপঠ পাল্টে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে সীমান্ত বানিজ্যের ব্যবসা থেকে যা আয় হচ্ছে তার বহুগুন সম্পদ তারা কিভাবে অর্জন করছে এবং বিপুল টাকার মালিক বনে যাচ্ছে তা দুর্নীতি দমন বিভাগকে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টেকনাফ স্থল বন্দরের একজন বৈধ ব্যবসায়ী জানান, এ বন্দরে বৈধ ব্যবসার আড়ালে অনেকে অবৈধ উপায়ে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেলেও বৈধ পথে আসলে অত অল্প সময়ে এতো বিপুল টাকার মালিক হওয়ার সুযোগ নেই।

এদিকে টেকনাফ স্থল বন্দরের আশপাশে এবং নাফ নদী ও সাগর উপকূলে সম্প্রতি চোরাচালান বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে স্থল বন্দরের উপরও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। অর্থনীতির চাকা স্বচল করতে হলে চোরাচালান নামক মাদকদ্রব্য মরণ নেশা ইয়াবা আরো কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।