হুমায়ূন রশিদ : টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযান ও বন্দুক যুদ্ধে রোহিঙ্গাসহ দুই পাচারকারী নিহত হয়েছে। এসময় বিজিবির দুই সদস্য আহত হলেও অপর একটি অভিযানে কাঠের নৌকাসহ ৬লাখ ৪০হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
১জুন সকাল সাড়ে ১০টায় টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের হলরোমে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল ফয়সাল হাসান খান জানান, ভোররাত আড়াই টারদিকে মিয়ানমার হতে ইয়াবার একটি বড় চালান আসার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিনি বিশেষ একটি টহল দল নিয়ে কে,কে খালে টহলে যায়। কিছুক্ষণ অবস্থানের পর হঠাৎ ৫/৬জন লোক একটি হস্তচালিত নৌকা নিয়ে বাংলাদেশ সীমানায় প্রবেশ করলে বিজিবি টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। তখন মাদক কারবারীরা নৌকাটি ফেলে গুলিবর্ষণ করতে করতে পার্শ্ববর্তী কেওড়া বনে পালিয়ে যায়। এসময় বিজিবি টহল দলের দুই সদস্য মোঃ আল ইমরান ও আব্দুল আউয়াল আহত হলেও বিজিবি টহল দলও আতœরক্ষার্থে পাল্টাগুলি বর্ষণ করে।
উভয়পক্ষের প্রায় ৪-৫মিনিট গোলাগুলির পর কে,কে খালের বিজিবি ডিউটি পোস্টের ২শ গজ পূর্বে কাঁদায় দুই ব্যক্তি পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহের শরীরে গামছা দিয়ে বাঁধা ৫০ হাজার পিস করে ২টি ইয়াবা পুটলা ও ২টি ধারালো কিরিচ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার এসআই সুজিত দে সর্ঙ্গীয় পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরীর পর নিহতরা মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার মন্ডু থানার নাগাকুরার রাইম্যাবিলের সুলতান আহমদের পুত্র আব্দুল গফুর (৪০) ও টেকনাফ কেরুনতলীর মৃত শরীফ আহমদের পুত্র মোঃ সাদেক (২৩) বলে পরিচয় নিশ্চিত করে। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
অপরদিকে গত ৩১মে রাত সোয়া ৯টায় টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল ফয়সাল হাসান খানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল দমদমিয়াস্থ ওমরখালে অভিযান চালিয়ে ডুবন্ত নৌকাসহ ৫লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে। যা পরবর্তীতে প্রকাশ্যে ধ্বংস করার জন্য ব্যাটালিয়ন সদরে জমা রাখা হয়েছে।
এই ব্যাপারে টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল ফয়সাল হাসান খান জানান, বন্দুক যুদ্ধের ঘটনায় তদন্ত স্বাপেক্ষে পৃথক মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং উদ্ধারকৃত ইয়াবা ব্যাটালিয়নে জমা রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।
