গিয়াস উদ্দীন ভুলু, টেকনাফ ।
কিছুতেই থামছে না টেকনাফের নাফনদী দিয়ে ইয়াবা পাচার। অথচ এই নদী পথ দিয়ে ইয়াবা পাচার ঠেকাতে সরকার বিভিন্ন প্রকার কৌশল অবলম্বন করে যাচ্ছে। কিন্তু পাচার প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। ইয়াবা পাচার প্রতিরোধে টেকনাফ ও মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা নাফ নদীতে বহুদিন যাবত নৌকা চলাচল ও মাছ শিকার বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এই প্রদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন। এদিকে নাফ নদীতে মাছ শিকার বন্ধ হওয়ায় প্রায় ১০ হাজার জেলে পরিবারে নেমে এসেছে অভাব অনটন ও অশান্তি।
কিন্তু এই কঠোর প্রদক্ষেপ নেওয়ার পরও এই নাফ নদী ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত মিয়ানমার থেকে প্রবেশ করছে লক্ষ লক্ষ ইয়াবা।
সেই ধারাবাহিকতায় টেকনাফ ২ বিজিবি সদস্যদের হাতে ধরা পড়ছে কোটি কোটি টাকার ইয়াবা। সুত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের নেয় ২ বিজিবি সদস্যরা গতকাল ১৮ ফেব্রুয়ারী পৃথক অভিযান চালিয়ে একটি কাঠের নৌকাসহ ১লাখ ৩০হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই ইয়াবা গুলোর সাথে জড়িত কাউকে আটক সক্ষম হয়নি বিজিবি।
২ বিজিবি সুত্রে জানা যায়, ১৮ ফেব্রুয়ারী ভোর ৪টায় টেকনাফ হ্নীলা বিওপির কোম্পানী কমান্ডার আতাউর রহমান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হ্নীলা ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়ার আনোয়ার প্রজেক্ট এলাকায় লবণ মাঠে অভিযানে গেলে ২জন লোক একটি পুটলা নিয়ে যাওয়ার সময় চ্যালেঞ্জ করা মাত্র ইয়াবা পোটলা গুলো মাটিতে ফেলে পালিয়ে যায়। এরপর ঘটনাস্থল তল্লাশী করে বিজিবি সদস্যরা পরিত্যক্ত অবস্থায় এই ইয়াবা গুলো উদ্ধার করে। পরবর্তীতে তা টেকনাফ ব্যাটালিয়ন সদরে নিয়ে গণনা করে ৬০ লক্ষ টাকা মূল্যের ২০হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। অপর দিকে গত ১৭ ফেব্রুয়ারী গভীর রাতে একই বিওপির বিশেষ টহল দল মিয়ানমার হতে ইয়াবার একটি বড় চালান আসার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হ্নীলা ওয়াব্রাং এলাকায় অভিযানে গিয়ে ওঁৎ পেতে থাকে। কিছুক্ষণ পর একটি কাঠের নৌকা নিয়ে ২/৩জন কিনারায় পৌঁছলে বিজিবি সদস্যরা চ্যালেঞ্জ করলে ইয়াবা পাচারে জড়িতরা লাফ দিয়ে সাতার কেটে ওপারে চলে যায়। এতে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানায় বিজিবি। এই অভিযানে ইয়াবা পাচারে ব্যাবহ্রত একটি নৌকাটি জব্দ করে। এরপর ঐ নৌকাটি তল্লাশী করে এক বস্তা ইয়াবা উদ্ধার করে। গণনা করার পর ঐ বস্তা থেকে ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা মূল্যের ১লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।
টেকনাফ ২ বিজিবি অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল আরিফুল ইসলাম জানান, নাফ নদীতে মাছ শিকার বন্ধ হওয়ার পর কিছুদিন অত্র এলাকা দিয়ে ইয়াবা পাচার অনেকটা কমে আসছিল। কিন্তু পাচারকারী তাদের ব্যাবসা অব্যাহত রাখার জন্য নিত্য-নতুন কৌশলে তাদের অপকর্ম চালু রেখেছে। তবে ইয়াবা পাচার প্রতিরোধে আমাদের সদস্যরা সব সময় সজাগ রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসাবে সীমান্ত প্রহরী বিজিবি সদস্যরা লক্ষ লক্ষ ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হচ্ছে।
