ডেস্ক |
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে একান্ত বৈঠক হয়েছে শুক্রবার দুপুরে। নিউইয়র্কের লোটে প্যালেস হোটেলে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ভারতের এনআরসিসহ (জাতীয় নাগরিকপঞ্জি) বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেন দুই নেতা।
অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আসামের এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেছেন নরেন্দ্র মোদি। তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন ইস্যুর ব্যাপারেও বাংলাদেশের শঙ্কার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজ করছেন। নরেন্দ্র মোদি আগামী বছরের মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশ সফরে আসবেন বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে সুসম্পর্ক রয়েছে, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। এনআরসি ও অন্য অমীমাংসিত দ্বিপক্ষীয় ইস্যুগুলো নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলে নরেন্দ্র মোদি যেভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেছেন, সেটাও আশাব্যঞ্জক। তবে এনআরসির বিষয়টি যদিও এখনও উদ্বেগের কারণ ঘটায়নি, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, দুই দেশের মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে, অনেক আগেই যেগুলোর নিষ্পত্তি হওয়ার কথা ছিল। বিশেষত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি এখন পর্যন্ত না হওয়াটা দুঃখজনক।
মাঝখানে তিস্তা চুক্তি হয় হয় করেও হয়নি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আপত্তির কারণে। এরপর অনেকদিন কেটে গেছে; কিন্তু তিস্তাসহ দুই দেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন ইস্যুটি নিষ্পত্তিতে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। কিছুদিন আগে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর ঢাকায় এসে বলেছেন, অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন নিয়ে ফর্মুলা খোঁজা হচ্ছে।
আমাদের কথা হল, ফর্মুলা উদ্ভাবন করতে করতেই যদি মাসের পর মাস, বছরের পর বছর সময় লেগে যায়, তাহলে উদ্বিগ্ন না হয়ে পারা যায় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অক্টোবরে ভারত সফর করবেন, ৫ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে দুই নেতার বৈঠক হবে আবার। আমরা আশা করব, সেই বৈঠকে দুই দেশের অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর ব্যাপারে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে। অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর অন্যতম একটি হল সীমান্তে হত্যা। এই ইস্যুটিরও নিষ্পত্তি হওয়া দরকার।
ভারত আমাদের বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী। দেশটির সঙ্গে আমাদের রয়েছে ঐতিহাসিক সম্পর্ক, বিশেষত মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত আমাদের জন্য যা করেছে, সেজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। দুই দেশের এই সম্পর্ক আরও গভীর করার জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক সহমর্মিতা। নিউইয়র্কে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে যে আন্তরিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে অবশ্যই। অক্টোবরের বৈঠকটির দিকে আমরা আগ্রহভরে তাকিয়ে আছে।
