টেকনাফে জনবান্ধব এসিল্যান্ড আবুল মনসুর-এর বিদায়

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

বিশেষ প্রতিবেদক :

সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে জনগণের অভাব ও অভিযোগই কেবল শোনা যায় নিত্য। তবে তাদের মাঝে বতিক্রমও পাওয়া যায় অনেক জনকে। যারা নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে জনগণের আস্থারস্থল হয়ে ওঠে। নিজের আন্তরিক সুনামের সাথে সেবা প্রদানে হয়রানি থেকে মুক্তি দেন মানুষকে, নিজের সরকারি দপ্তরকে করে তোলেন জনবান্ধব। তেমনই একজন এসিল্যান্ড মুহাঃ আবলু মনসুর। টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাঃ আবলু মনসুর দায়িত্ব পালনকালে এখানে সবার কাছে জনবান্ধব কর্মকর্তা হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে তিনি সীমান্ত উপজেলা এই টেকনাফে ‘করোনাযোদ্ধ’ হিসেবে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আক্রান্ত থেকে মানুষকে রক্ষায় গ্রামে গ্রামে গিয়ে বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টাইনে নিশ্চিতের পাশপাশি পথে পথে প্রচারবিলিসহ সচেতনতা বাড়াতে সারা দিন-রাত কাজ করে গেছেন এসিল্যান্ড। পাশাপাশি সরকার ঘোষিত একাধিক লকডাউনে বাস্তাবায়নে মাঠে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপালন করে গেছেন।

আজ সেই জনবান্ধব কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাঃ আবলু মনসুর-এর বিদায়। তবে সব বিদায় আবার মন খারাপেরও নয়। চাকরি জীবনের ক্ষেত্রে এই বিদায় শব্দ কমন একটা বিষয়। সেই কমন বিদায়েরই আওতায় পড়েছেন কর্মগুণে সবার প্রিয় হয়ে ওঠা আবলু মনসুর। তিনি ২০১৯ সালে এপ্রিলের মাঝামাঝি টেকনাফে যোগদান করেছিলেন। ।

বৃহস্পতিবার তার কার্যালয়ে এক আলাপকালে জানতে চাওয়া হয় ভুমি সেবা কি মানুষের দৌড় গোড়ায় পৌছেছে? জবাবে এসিল্যান্ড মুহাঃ আবলু মনসুর বলেছেন, ‘সরকারের সকল কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন শেষ হলে সত্যিই মানুষ ঘরে বসে ভুমি সেবা পাবে। এরই অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্যদিয়ে এখন থেকে সেবা সুফল পচ্ছে মানুষ।’

আমার চাওয়া, মানুষ ভুমি অফিসে এসে নিজের কাজ নিজেই করুক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষ নিজের কাজ নিজে করলে, বুঝতে পারবে আসলে ভুমি অফিস কি পরিমান সেবা দিয়ে থাকে। আর ভুমি সেবা নিয়ে মানুষের যে একটি চিন্তা ছিল, অন্তত সেটি দূর করতে সক্ষম হয়েছি। পাশাপাশি ভূমি অফিসে মানুষের হয়রানি বন্ধে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। ’
এসিল্যান্ড বলেন, ‘বিশেষ করে জনগনের প্রত্যেকটি ফোন কল আমি গুরুত্বসহকারে নিয়ে সমস্যার তাৎক্ষনিক সমাধান করার চেষ্টা করেছি। এই করোনার সময়ে যাদের মিসকেসের শুনানি ছিল, ফোন করে তাদেরকে পরবর্তী তারিখ জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলার রের্কড পরিমান রিভউ মিস মামলা সমাধান করা হয়েছে। যে কোন মূল্যে জনগণকে যথাযথ সেবা প্রদানে আমরা বদ্ধপরিকর।’

এসিল্যান্ড আবুল মনসুর বলেন, মুজিববর্ষকে আমরা দূর্নীতিরোধে বিশেষ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছি। পাশপাশি মুজিবর্বষে প্রধানমন্ত্রী উপহারের ভুমি ও আশ্রয়হীন মানুষদের ঘরের তালিকায় যাচাই-বাচাই করে এখন থেকে ৩৯৭ জনের নাম পাঠানো হয়েছিল। ইতি মধ্য অনেকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়েছেন। এমন একটি মহান কাজে যুক্ত হতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি।

উপজেলা সহকারী কমিশনার কার্যালয় থেকে জানা গেছে, টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাঃ আবলু মনসুর দায়িত্ব গ্রহননের পর থেকে দুই জনগনের সেবা দেওয়া পাশপাশি সরকারের রাজস্ব খাতে ব্যাপক ভুমিকা রেখেছে। ২০২০-২১ গত অর্থবছরে ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ভুমি উন্নয়ন কর আদায় করা হয়েছে। এর মধ্য সরকারি সংস্থাদের কাছ থেকে সাড়ে ৪ কোটি এবং সাধারন খাতে প্রায় ৮৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়। পাশাপাশি মাদক বিরোধী মোবাইল কোর্টসহ হাজারখানেক অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে প্রায় ২৬ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করতে সক্ষম হন। যা টেকনাফের মাদক প্রলোভন এলাকায় যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সতেষ্ট ছিল। যা সর্ব মহলে প্রশংসা ছিল।

বেশ কিছু মানবিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। বিশেষ করে ১৯৯৮-৯৯ সালে ১৮ শতক জমি বন্দোবস্তি করেন টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে অসহায় বৃদ্ধ নারী ফিরুজা খাতুন। কিন্তু বিশ বছর ধরে এই নারী নামজারি খতিয়ান সৃজন করতে পারেনি। বিষয়টি এসিল্যান্ডের নজরে আসলে ফিরুজাকে ডেকে এনে তার নামে নামজারি খতিয়ান সৃজন করে দেয়। বিশ বছর পর হলে এসিল্যান্ড স্যারের সহতায় এই অসহায় নারী নিজস্ব ঠিকানা পেয়েছেন। করোনাকালে ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকা ছিল উল্লেখ করার মতো। দিন-রাত সমানে চষে বেড়িয়েছেন উপজেলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। সে সময় করোনায় আক্রান্তের মৃত্যু ভয়ে ঘর থেকে কেউ বের হচ্ছিল না।