টেকনাফে চাঁদার দাবীতে ব্যবসায়ীর বাড়ীতে সন্ত্রাসী “দাদা” বাহিনীর হামলা, লুটপাত : নারী-শিশুসহ একই পরিবারের ৫ জন আহত

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

নিজস্ব প্রতিনিধি, টেকনাফ :
টেকনাফে সন্ত্রাসী বাহিনীকে চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে স্বশস্ত্র হামলা ও লুটপাতের ঘটনা ঘটেছে। এতে পিতা-পুত্র-স্ত্রীসহ একই পরিবারের ৫ জন গুরুত্বর আহত হয়েছে। সন্ত্রাসীরা হামলার পর স্বর্ণালংকারসহ টাকা পয়সা লুটপাত করে নিরাপদে সটকে পড়ে। গত ৩১ মে সন্ধা ৭টার দিকে টেকনাফ পৌর এলাকার ধুমপ্রাংবিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের অবস্থা আশংকাজনক। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক ধুমপ্রাংবিল এলাকার মুদি দোকানদার নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মে সন্ধায় ইফতারীর পর নুরুল ইসলাম স্বপরিবারে পৌরসভার ধুমপ্রাংবিল এলাকায় নিজবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এসময় একই এলাকার সন্ত্রাসী দাদা বাহিনীর প্রধান মৃত কাশেম ড্রাইভারের ছেলে রফিক আলম প্রকাশ দাদা’র নেতৃত্বে তার ভাই শফিক আলম, মোঃ রুবেল, মকবুল হোসেন, রশিদের ছেলে হাশিম, মৃত ছৈয়দ করিমের ছেলে সোনা মিয়া, মোঃ হোসেনের ছেলে জহির ড্রাইভার, আব্দুস শুক্কুরের ছেলে ইমাম হোসেনসহ অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দা, কিরিচ নিয়ে তার বাড়িতে ঢুকে পড়ে। এসময় সন্ত্রাসী রফিক আলম আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা কেন পরিশোধ করে নাই বলে গৃহকর্তী সখিনা খাতুনকে জিম্মি করে ফেলে। একপর্যায়ে বাড়ির সবাইকে এলোপাতাড়ী মারধর ও দা দিয়ে কুপাতে শুরু করে। এতে গৃহকর্তা নুরুল ইসলাম, তার স্ত্রী সখিনা খাতুন, পুত্র বেলাল হোসেন, বেড়াতে আসা সদ্য এসএসসি পাশ করা শ্যালক নুর নবী গুরুত্বর আহত হয়। তাদের মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে দা দিয়ে কুপানোয় মারাত্মক জখমপ্রাপ্ত হয়। নুর নবীর কজ্বির দুটি আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনার পরদিন থানায় অভিযোগ দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা পুনরায় হামলা চালিয়ে নুরুল ইসলামের ভাই মোঃ রফিককে মাথায় কুপ দিয়ে মারাত্মক জখম করে।
এ ঘটনায় পুরো পরিবারটি বর্তমানে আতংকের মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছে।
এদিকে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, ধুমপ্রাংবিল এলাকায় রফিক আলম দাদার নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনীটি দীর্ঘদিন যাবৎ চাঁদাবাজি, হামলা, লুটপাত ও ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়ে আসছে। কিন্তু এলাকার লোকজন ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
এর আগেও সন্ত্রাসী বাহিনীটি গত কিছুদিন আগে একই ভাবে চাঁদার দাবীতে এখলাসের ছেলে ব্যবসায়ী হারুন ও আব্দুর রহমান নামে অপর একজনকে ছুরিকাঘাত করেছিল।
শুধু তাই নয় এই সন্ত্রাসী বাহিনীটি মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা, জুয়াসহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপেও জড়িত বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।
প্রশাসনের নাকের ডগায় টেকনাফ পৌর এলাকায় নীরবে এমন একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর উত্থান ঘটায় এলাকাবাসী আতংকের মধ্যে রয়েছে। এলাকার ভ’ক্তভোগী পরিবার গুলো এই সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের আইনেই আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি মাইন উদ্দিন জানান, সন্ত্রাসীরা যত বড়ই হোকনা কেন তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।