টেকনাফের ‘পাঁচ রোহিঙ্গা শিবিরে তিন পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত’

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

টেকনাফ প্রতিনিধি |

রোহিঙ্গা শিবির কক্সবাজারের টেকনাফে ‘রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের’ গুলিতে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যার পর উত্তেজনা নিরসনে রোহিঙ্গা শিবির এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করবে সরকার। এ লক্ষ্যে জাদিমুরা, শালবাগান, নয়াপাড়া, আলীখালী ও লেদা শিবির এলাকায় তিনটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এ সময় তার নেতৃত্বে একটি দল এসব রোহিঙ্গা শিবির ঘুরে দেখেন। পুলিশ সুপারের সঙ্গে ছিলেন— শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের প্রতিনিধি ও টেকনাফের জাদিমুরা শালবাগান শিবিরের ইনচার্জ মোহাম্মদ খালেদ হোসেন, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) এর কক্সবাজারের সিনিয়র লিয়াজো অফিসার মোহাম্মদ বায়েজিদ, টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) এবিএমএস দোহাসহ অনেকে।

মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের জানমালের নিরাপত্তা ও বিভিন্ন অপরাধ দমনসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই পাচঁটি শিবিরে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব শিবিরে তিনটি ক্যাম্প স্থাপনের জায়গা নির্ধারণ করা হচ্ছে। অতিদ্রুত ক্যাম্প স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হবে।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এত অল্প সময়ে বিশ্বের কোনও দেশ এই সংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়নি। মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের আমরা খাবার, আশ্রয় ও চিকিৎসাসেবা দিয়েছি। যেকোনও কিছুর বিনিময়ে রোহিঙ্গা শিবিরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের মুখোমুখি করা হবে।’

এদিকে, স্থানীয়রা দাবি করেছেন পুলিশ ক্যাম্প করার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে দ্রুত শিবিরে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করতে হবে। জাদিমুরা, শালবাগান, লেদা, নয়াপাড়া ও আলীখালী শিবির দিন দিন ভয়ানক হয়ে উঠছে। এসব শিবিরের আশপাশের স্থানীয়রা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলম বলেন, ‘কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের দ্রুত রাখাইনে ফেরত পাঠানো দরকার। এর ব্যত্যয় ঘটলে শুধু উপজেলা নয়, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা দুঃসহ হয়ে যাবে।’

উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, ‘যতদিন তাদের ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না ততদিন তাদের এক জায়গায় রাখতে হবে। এর জন্য রোহিঙ্গা বস্তির চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ জরুরি। নতুবা এই গোষ্ঠীটি যেকোনও স্থান দিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে যেতে পারে।’

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট ) রাতে টেকনাফের জাদিমুরা রোহিঙ্গা শিবিরে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে গুলি করে হত্যা করে ‘রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা’। এরপর থেকে ওই এলাকার স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।