চকরিয়ায় ভুসম্পদ লুটে নিতে বেপরোয়া দাপুটে চক্র ; সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়া উপজেলার পুর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নে হঠাৎ করে গরীব শ্রেণীর লোকজনের ভুসম্পদ দখলে নিতে অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন স্থানীয় দাপটশালী চক্র। সময়ে নিজেরা, আবার ক্ষেত্র-বিশেষে ভাড়াটে লাঠিয়াল দিয়ে চলছে নিরীহ লোকজনের পৈত্রিক ও খরিদা জমি দখলের এই অপতৎপরতা। এতে কেউ বাঁধা দেয়ার চেষ্ঠা করলে তাকে প্রকাশ্যে মারধর করা হচ্ছে। বাড়াবাড়ি করলে দেওয়া হচ্ছে প্রাণে মারার অথবা এলাকা ছাড়ার হুমকি। মঙ্গলবার ১ ফেব্রয়ারী সকাল দশটার দিকে অনুরূপ পৈত্রিক ও খরিদা জমি দখল চেষ্ঠার ঘটনা ঘটেছে ইউনিয়নের পুর্ববড় ভেওলা মৌজায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জমি মালিক পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের ইলিশিয়া লাল ব্রীজ এলাকার নুরুল কাদের এর ছেলে নুরুল ইসলাম মানিক বুধবার ২ ফেব্রয়ারী চকরিয়া থানায় ১২জনকে আসামি করে একটি এজাহার জমা দিয়েছেন।
এজাহারে বিবাদি করা হয়েছে পুর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের সদ্য সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল আরিফ দুলাল, তাঁর ভাই বাদল মিয়া, সহযোগি রেজাউল করিম, ফরিদুল আলম, খাইরুল বশর, আবু তাহের, নবাব মিয়া, বাবুল, আজিজ, রিয়াজ উদ্দিন, শফিউল কাদের ও আবুল হাসেমকে। এছাড়াও এজাহারে ৭-৮জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখানো হয়েছে।
এজাহারে বাদি নুরুল ইসলাম মানিক বলেন, পুর্ববড় ভেওলা মৌজার বিএস ১১৫৪, ৫২৮ খতিয়ানের বিএস ৭৮২০, ৭৮১৯, ৭৮৩০, ৭৮৩১, ৭৮৩৩, ৭৫০৯ আন্দরদাগের মোট ৭৫ দশমিক ০৯ একর জমি তাঁর পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তি। উল্লেখিত জমিতে আদালতের চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আদেশও আছে।
বাদি এজাহারে আরও দাবি করেন, উল্লেখিত জমির বিপরীতে প্রতিবছর সরকারি খাজনা পরিশোধপুর্বক চাষাবাদের মাধ্যমে বৈধভাবে ভোগদখলে রয়েছেন। এছাড়াও উল্লেখিত জমির ব্যাপারে সিনিয়র সহকারি জজ চকরিয়া আদালতে অপর মামলার (২৮২৯/২১) আদেশে চিরস্থায়ী চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আদেশও বহাল রয়েছে। কিন্তু অভিযুক্ত আসামিরা উল্লেখিত জমির বিপরীতে কোনধরণের বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও শুধুমাত্র পেশিশক্তির জোরে উল্লেখিত জমি দখলের অপচেষ্ঠা চালিয়ে আসছে।
জমি মালিক নুরুল ইসলাম মানিক অভিযোগ করে বলেন, অপচেষ্ঠার অংশহিসেবে সর্বশেষ মঙ্গলবার ১ ফেব্রƒযারী সকাল দশটার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জমিতে অনাধিকার প্রবেশ করে দখলের চেষ্ঠা চালায়। চাষাবাদ না করতে চাপ প্রয়োগ করে আমার লোকজনকে। খবর পেয়ে আমি জমিতে গিয়ে বাঁধা দিলে সেখানে উপস্থিত দাপটশালী পক্ষের লোকজন আমাকে প্রাণে হত্যার হুমকি দেন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে তাদের মারমুখি আচরণ দেখে আমি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হই।
বাদি নুরুল ইসলাম মানিক বলেন, হামলাকারীদের নানাধরণের হুমকি ধমকির মুখে বর্তমানে জমিতে চাষাবাদ করতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এই অবস্থায় নিরুপায় আমার পৈত্রিক ও খরিদা সম্পত্তি রক্ষাকল্পে আইনী সহায়তা চেয়ে চকরিয়া থানার ওসির কাছে অভিযোগ দায়ের করেছি।
চকরিয়া থানার ওসি মুহাম্মদ ওসমান গনী বলেন, জমি-জমা সংক্রান্ত ঘটনার জেরে মালিক নুরুল ইসলাম মানিক বাদি হয়ে একটি এজাহার দিয়েছেন। সেটি তদন্তের জন্য থানার এসআই মাইন উদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পেলে পরবর্তীতে আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ##