নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়া উপজেলার বদরখালীতে বসতভিটার জায়গা দখলে হামলার তাÐব চালিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। ওইসময় বাঁধা দিতে গেলে একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও বিবাহিত দুই মেয়েকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে।
আহতরা হলেন বদরখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের কলেজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা প্রবাস ফেরত মোহাম্মদ হোছাইন (৬০), তাঁর স্ত্রী শরিফা বেগম (৪৭), বিবাহিত মেয়ে জিসান সুলতানা (২০) ও আনিছা খানম মুন্নি (২৩)।
এ ঘটনায় আক্রান্ত পরিবারের গৃহকর্ত্রী বাদি হয়ে ১১জনকে আসামি করে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেছেন। এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন একই গ্রামের মৃত নজির আহমদের ছেলে আনিছুর রহমান মানিক, তাঁর স্ত্রী মর্জিনা বেগম, আক্তার আহমদের স্ত্রী ইছমত সোলতানা রুমি, ইমাম হোসেনের স্ত্রী আয়েশা খাতুন, মৃত ফতেহ আলীর ছেলে ইমাম হোসেন, তাঁর ছেলে শাহহাজান, আবু রিসাফ, আবুল বশরের স্ত্রী নাছিমা বেগম, ইমাম হোসেনের মেয়ে তছলিমা আক্তার সুইটি, ফতেহ আলীর ছেলে মকবুল হোছাইন ও মতিউর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ আলী।
ভুক্তভোগী পরিবারটির গৃহকর্ত্রী শরিফা বেগম জানান, তাঁর স্বামী মোহাম্মদ হোছাইন ১৫বছর আগে উচিতমুল্যে জায়গা ক্রয়ের পর বদরখালী কলেজপাড়া এলাকায় বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। আরএস ১/৩ খতিয়ানের পনের গÐা চার অংশের ওই জমির আগের মালিক বদরখালী সমিতির মালিকানাধীন ২নং বøকের বাসিন্দা হেদায়েত আলীর ছেলে তজুম উদ্দিন। তিনি উল্লেখিত জমির বিপরীতে তাঁর নামীয় শেয়ারের জমি সমিতির ১৯৯৭ সালের ১২ জানুয়ারী তারিখের কার্যকরী পরিষদের সভার ৭(২) প্রস্তাবমুলে ও হস্তান্তরনামা দলিলমুলে আমার স্বামী মোহাম্মদ হোছাইনের নামে নাদাবী প্রদান করেন।
বাদিতে আর্জিতে বলেন, উল্লেখিত জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে আমার পরিবার শান্তিপুর্ণভাবে বসবাস করে আসছি। কিন্তু গেল বছরধরে অভিযুক্তরা আমার বসতভিটার অংশে জমি জোরপুর্বকভাবে জবরদখলের অপচেষ্ঠা চালিয়ে আসছে। এ অবস্থায় অভিযুক্তরা ২০২১ সালের ১৪ জুন ও একইবছরের ২৪ সেপ্টেম্বর দেশীয় অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দখলের উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এ ঘটনায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ৬জনকে আসামি করে একটি মামলা (নং ১১০৮/২১) করি। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারধীন।
বাদি শরিফা বেগম জানান, গত ১২ অক্টোবর আমার স্বামী মোহাম্মদ হোছাইন দীর্ঘবছর প্রবাস জীবন শেষে বাড়ি ফিরেন। ওইদিন বাড়িতে আমার বিবাহিত মেয়েরাও বেড়াতে আসেন। ওইদিনই অভিযুক্তরা আসামি দলবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ফের আমার বাড়িভিটার জমি দখলের চেষ্ঠা করে। তাঁরা জোরপুর্বক আমার ভিটার জমিতে গেইট নির্মাণের জন্য প্রস্তুতি নেয়। এসময় খবরপেয়ে প্রথমে আমার স্বামী মোহাম্মদ হোছাইন বাঁধা দিতে গেলে আসামিরা তাকে কাঠের বাটাম ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। পরে আমি তাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে আসামিরা আমাকেও মারধর করে। ঘটনার দৃশ্য দেখে বাবা-মাকে আসামিদের কবল থেকে উদ্ধারে এগিয়ে আসলে বাড়িতে বেড়াতে আসা আমার বিবাহিত দুই মেয়ে আনিছা খানম মুন্নি ও আবিদা হোসেনকে শারীরিকভাবে লাঞ্চনা করে আসামিরা। ঘটনার সময় দুই মেয়ের পরণে থাকা স্বর্ণালঙ্কারও লুট করে হামলাকারীরা।
হামলার এ ঘটনায় গৃহকর্ত্রী শরিফা বেগম সর্বশেষ ২৪ অক্টোবর চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্টেট আদালতে প্রতিপক্ষের ১১ জনের নাম উল্লেখ্য করে একটি সিআর মামলা (নং ১২৫৭) দায়ের করেছেন। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তপুর্বক প্রতিবেদন দিতে চকরিয়া থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। থানার এসআই মোরশেদুল ইসলাম বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন।
ভুক্তভোগী বাদি শরিফা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আদালতে মামলা দেয়ায় বর্তমানে অভিযুক্ত আসামিরা তিনি ও তাঁর পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছেন। মামলা তুলে না নিলে পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলবে বলে প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছেন। এই অবস্থায় তাদের অব্যাহত হুমকির মুখে তাঁর স্বামী বাড়ি থেকে বাইরে যেতে সাহস পাচ্ছেনা। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী পরিবারটি পুলিশ প্রশাসন ও আদালতের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ##
