চকরিয়ায় বিচারের নামে মোবাইলে ঢেকে নিয়ে কুপিয়ে ও গুলিতে হত্যা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৪ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়ায় আধিপত্য বিস্তার ও বনভুমি দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি বনদস্যু বাহিনীর হাতে নৃশংস ভাবে খুন হয়েছেন আমির হোসেন (৪৪) নামের এক দিনমজুর। তাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ডুমখালী এলাকায় ঘটেছে এ ঘটনা। তবে এলাকাবাসি জানিয়েছে, নিহত আমির হোসেন স¤প্রতি জেল থেকে জামিনে এসেছেন। তার বিরুদ্ধে বেশ কটি মামলা রয়েছে। নিহত আমির হোসেন পূর্ব ডুমখালী গ্রামের মৃত কবির আহমেদের ছেলে।
নিহতের ভাগিনা নুরুল ইসলাম বলেন, সোমবার রাত ৮টার দিকে মামা আমির হোসেন ও আমি মালুমঘাট স্টেশনে বাজার করা অবস্থায় স্থানীয় বনদস্যু আবদুর রহমান ফোন করে আমির হোসেনকে বিচারের কথা বলে ডুমখালী খেলার মাঠে আসতে বলে এবং সেখানে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদর এবং মেম্বার আব্দুস সালাম উপস্থিত আছেন বলেও জানায়।
নিহতের অপর ভাগিনা বাবু বলেন, ফোন পেয়ে মামা আমির হোসেন ও আমি (বাবু)) মোটর সাইকেল চালিয়ে ডুমখালী খেলার মাঠে যাই। আমরা মাঠের কাছে পৌঁছলে সেখানে চেয়ারম্যান ও স্থানীয় এমইউপি আবদুস সালামকে দেখতে পাই।
ওইসময় আমার মামা আমির হোসেন মোটরসাইকেল থেকে নামার সাথে সাথে চেয়ারম্যান মেম্বারের সামনে বনদুস্য আবদুর রহমান ও সহযোগি সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা ধারালো দা দিয়ে আমার মামা আমির হোসেনকে কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে সালাহউদ্দিন আমার মামাকে পেছন থেকে গুলি করেন। এসময় ঘটনা দেখে আমি ভয়ে ওখান থেকে পালিয়ে আসি।
আমির হোসেনের বড় ভাই আহমদ হোসেন বলেন, স¤প্রতি অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে পক্ষে কাজ না করার জেরে পরিকল্পিত ভাবে আমার ভাইকে ঢেকে নিয়ে স্থানীয় ইউসুফ আলীর পুত্র আবদুর রহমান (৩০) ও ফরিদুল আলমের ছেলে সালাহউদ্দিন (২৭) সহ দুর্বৃত্তরা নির্মমভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে। আমি খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ফেসবুক লাইভে ঘটনা বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন ইউপি চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদর। তিনি বলেন, আমি ঘটনার সময় ওখানে (ঘটনাস্থলে) উপস্থিত ছিলাম না। কেউ যদি একথা বলে থাকেন তাহলে সেটি আমাকে ফাঁসানোর জন্য কতিপয় মহলের চক্রান্ত।
ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ঘটনার অনেক আগে পরিষদ থেকে একটি বিষয় নিয়ে আমি সহকারি পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) স্যারের সঙ্গে দেখা করতে চকরিয়া উপজেলা সদরে যাই। পরে ঘটনা শুনে পুলিশসহ আমি ঘটনাস্থলে আসি। মুলত ঘটনাটি বনভুমি দখল ঘিরে দুইদল ডাকাত সংঘাতে জড়ালে
চকরিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জুয়েল ইসলাম বলেন, নিহত আমির হোসেনের পিঠে দুটি গুলি ও মুখে দুইটি কোপের দাগ রয়েছে। প্রাথমিক সুরতহাল রির্পোট শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গতকাল সকালে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সহকারি পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) মো.তফিকুল আলম ও চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী সোমবার রাতে ও গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. তফিকুল আলম বলেন, কী কারণে ঘটনার সুত্রপাত তাঁর বিষয়ে পুলিশের অনুসন্ধান চলছে। এখানে যারাই জড়িত থাকুক কেউ পুলিশের হাত থেকে রেহাই পাবেনা।
চকরিয়া থানার ওসি চন্দ্রন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছেন। আশা করি সহসা ঘাতকদের গ্রেফতারে আমরা সফল হবো। নিহতের পরিবার মামলার ব্যাপারে থানায় আসছেন। এজাহার পাওয়া গেলে মামলা রুজু করা হবে। ##