এম.জিয়াবুল হক : চকরিয়া উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নে বসতভিটা দখলে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক গৃহবধূসহ দুইজন আহত হয়েছে। শনিবার রাতে ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের হাঁসের সিকদার পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন আক্রান্ত পরিবারের সরওয়ার আলমের স্ত্রী খাদিজা বেগম ও আবু সিদ্দিকের ছেলে হুমায়ুন কবির। বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
হামলার ঘটনায় আক্রান্ত পরিবারটি গৃহকর্তা সরওয়ার আলম বাদি হয়ে চকরিয়া থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন। এতে বিবাদি করা হয়েছে একই এলাকার বদিউল আলমের ছেলে নেচারুল হক ছুট্টো, আহালুর ছেলে সোহাগ, আজগর আলীর ছেলে মামুন ও মোহাম্মদ তাজুল, মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে মোহাম্মদ সেলিম ও মহিউদ্দিন এবং নেচারুল হকের স্ত্রী হামিদা বেগম।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, বিএমচর ইউনিয়নের হাঁসের সিকদারপাড়া গ্রামে দুইপক্ষের মধ্যে বসতভিটার সীমানা বিরোধ নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত সালিশী বৈঠক চলে আসছিল। এছাড়াও বিষয়টি নিয়ে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা (জি.আর ৫১৯/১৯) চলমান রয়েছে।
আক্রান্ত পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেছেন, শালিসী বৈঠক ও আদালতে মামলার রায় ডিগ্রি হবার আগে সর্বশেষ শনিবার রাতে প্রতিপক্ষের লোকজন জোরপূর্বক বাড়িভিটা দখলে পরিকল্পিতভাবে সরোয়ার আলমের বাড়িতে হামলা চালায়। ওইসময় বাঁধা দিতে গেলে তাদের এলোপাতাড়ি ধারালো অস্ত্রের কুপে আহত হন সরওয়ার আলমের স্ত্রী খাদিজা বেগম ও আবু সিদ্দিকের ছেলে হুমায়ুন কবির। ঘটনার সময় আহতদের শোর-চিৎকারে প্রতিবেশি লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে পরিবার সদস্যরা আহতদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহত হুমায়ুন কবির বলেন, হামলাকারীরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলা ছাড়াও একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
আমাদের বসতভিটায় তাদের কোন প্রকার সত্ত¡ না থাকার পরেও দুর্লোভের বশবর্তী হয়ে বাড়িভিটা দখলে আমার পরিবারকে ইতিপূর্বে বিভিন্ন ধরনের হাঁকাবাঁকা ও হুমকি দিয়ে আসছে। এরই জেরে সর্বশেষ শনিবার আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে গাছ কেটে বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ কাজ শুরু করে। ওইসময় আমরা বাঁধা দিতে গেলে কুপিয়ে আমাকে এবং একজন নারীকে জখম করে। ঘটনার সময় তাঁরা বাড়ি থেকে নগদ টাকা, মোবাইল , স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নিয়ে যায়। হামলার ঘটনায় চকরিয়া থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছি।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের বলেন, হামলার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এটি তদন্তের জন্য মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ##
