এম.জিয়াবুল হক : চকরিয়া পৌরসভা এলাকায় রাতের ব্যবধানে একটি বাগানে সৃজিত প্রায় তিন শতাধিক ম্যালেরিয়া গাছ উধাও হয়ে গেছে। তবে গাছের সঙ্গে লাগানো খুঁিট সমুহ বহাল রয়েছে। বাগান মালিকের অভিযোগ, জমি নিয়ে স্থানীয় একটিপক্ষের সঙ্গে তাঁর বিরোধ রয়েছে। এরই জেরে আদালতে মামলা হলে দীর্ঘ শুনানীর পর মামলার সর্বশেষ রায় তাঁর পক্ষে এসেছে। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিপক্ষের লোকজন ক্ষুদ্ধ হয়ে রাতের আধাঁরে বাগানে হানা দিয়ে সৃজিত গাছের চারা গুলো তুলে নিয়েছে। বুধবার রাতে চকরিয়া পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের হালকাকারা সওদাগরপাড়া এলাকায় ঘটেছে এ ঘটনা। অভিযোগ পেয়ে গতকাল শুক্রবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা কৃষি বিভাগের একটি টিম।
অভিযোগে হালকাকারা সওদাগরপাড়া গ্রামের হাজী নুরুল হোসেনের ছেলে রুবেল জানান, আমাদের বসতঘরের পাশে প্রবাসী বড়ভাই জাহেদ খোকনের মালিকানাধীন ৯ শতক জমি রয়েছে। চারিদিকে সীমানা বেস্টনী নির্মাণের মাধ্যমে প্রায় ২০/২২ ধরে ওই জমি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখলে রয়েছেন। উল্লেখিত জমিতে আছে ২০ বছরের অধিক সময়ের একাধিক নারিকেল গাছ।
জমি মালিক প্রবাসে থাকার কারণে নতুন বাড়ি নির্মাণ না করে উল্লেখিত জমিতে প্রায় ছয়মাস পূর্বে অন্তত তিনশতাধিক ম্যালেরিয়া (ইউক্লিপ্টার্স) গাছের চারা লাগিয়ে বাগান সৃজন করেছেন পরিবার। ইতোমধ্যে লাগানো গাছের আকৃতিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
জমি মালিকের ছোটভাই রুবেল দাবি করেন, রেজিষ্ট্রি মূলে ক্রয়কৃত ও ভোগ দখলীয় জমি নিয়ে আমার ভাইয়ের সঙ্গে স্থানীয় একটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ শুনানী শেষে আদালতে মামলায় চুড়ান্ত ডিক্রী পান প্রবাসী জাহেদ খোকন।
তিনি অভিযোগ করেন, মামলায় আদালতের রায় জমি মালিকের পক্ষে আসায় এতে ক্ষুদ্ধ হন প্রতিপক্ষের রুহুল আমিন ও আজিজ গংয়ের লোকজন। মুলত ক্ষোভ ও প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে অভিযুক্তরা বুধবার রাতে সীমানা বেস্টনীর ভেতর ঢুকে বাগানের তিনশতাধিক ম্যালেরিয়া গাছের চারা তুলে নিয়েছে। কিছু গাছ পাশের একটি নালায় ফেলে দিয়েছে।
বাগান মালিকের ভাই রুবেল বলেন, ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার ভোরে প্রতিবেশি লোকজনের চেচামেচি ও হট্টগোল শুনে ঘুম থেকে পরিবারের সবাই জেগে উঠে দেখি বাগানের সব গাছ সাবাড় হয়ে গেছে। এ ঘটনায় আমাদের প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান বাগান মালিকের ভাই রুবেল।
এদিকে বাগানের গাছ সাবাড় করে দেয়ার ঘটনাটি মালিকপক্ষ চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে অভিযোগ করেন। এরই প্রেক্ষিতে শুক্রবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি টিম।
