বিশেষ প্রতিবেদক : মায়ানমার সীমান্তে বিদ্রোহী ও সরকারী বাহিনীর মধ্যে অব্যাহত লড়াইয়ে সীমান্তে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও টেকনাফ সীমান্তে সর্ববৃহৎ মাদকের চালান খালাস করে ভাগ-বাটোয়ার মাধ্যমে লুটপাটের ঘটনায় মাফিয়া জগতে তোলপাড় চলছে। মাদকের চালান খালাসে সম্পৃক্ত প্রধান হোতা শফিকসহ সিন্ডিকেটের অপরাপর সদস্যরা লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেছে।
জানা যায়,গত ১৬এপ্রিল রাত ৮টারদিকে মায়ানমারের আকিয়াব জেলার মন্ডু সুধাপাড়ার জনৈক নুরুল আমিনের নেতৃত্বে ৮জনের মাদক কারবারী সিন্ডিকেট ১১কোটি টাকা মূল্যমানের ১২লাখ ৪০হাজার ইয়াবার চালান বাংলাদেশ সীমান্তে সক্রিয় মাদক কারবারীদের জন্য প্রেরণ করে। প্রতি লাখে ২লাখ টাকা কমিশনের ভিত্তিতে এই সর্ববৃহৎ মাদকের চালান খালানের দায়িত্ব নেয় টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা জাদিমোড়ার জাদির পাদদেশে বসবাসরত ঈমান হোসানের পুত্র শফিক,মোঃ নুর এবং স্কুল পাড়ার সামনের নাগুর পুত্র রহিম বাদশা ও হেলালের নেতৃত্বে স্থানীয় ১৫/২০জনের সীমান্ত অপরাধী সিন্ডিকেট সদস্যরা। এই মাদকের চালান খালাসের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঐসময় উক্ত এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করলেও এই মাদকের চালানের হদিস মিলেনি। আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা চলে যাওয়ার পরে মাদকের চালান খালাসকারী সিন্ডিকেট চক্রের সদস্য আবু ছিদ্দিকের পুত্র শামসু, আব্দুল গফুরের পুত্র আব্দুর রহমান, মৃত লাল মিয়ার পুত্র মোঃ সেলিম, আজিজ, মোঃ হোছনের পুত্র আব্দু সালাম, শামসুর পুত্র শাহ আলমসহ অন্যরা মিলে এই মাদকের সর্ববৃহৎ চালানটি ৪ভাগে ভাগ করে লুটে নেয়। এবিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে মাদকের চালান লুটপাটকারী সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দেয়। এই ধরনের ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসনসহ মাদক জগতে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় আরো একটি স্বশস্ত্র মাদক কারবারী গ্রুপ ঘটনাস্থলে গিয়ে মহড়া দিয়ে আতংক সৃষ্টির পর মাদকের চালান উদ্ধারে নিরুপায় হয়ে ফেরত যায় বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার পর নাফনদী নির্ভর বেকার জেলে ও সাধারণ মানুষের মনে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা বলেন,বিভিন্ন জনের সাথে তাদের সখ্যতার আড়ালে এসব মাদক কারবারী চক্রের অপতৎপরতার ফলে আমরা নদীতে মাছ শিকার করতে পারছিনা। অনেকে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনযাপন করছি। দেশ ও জাতির শত্রু এসব মাদক কারবারীদের সনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানাচ্ছি।
এ অপকর্মের ঘটনা নিশ্চিত করার জন্য ওপারের মাদক কারবারী সিন্ডিকেটের নির্ভরযোগ্য সুত্রের নিকট জানতে চাইলে, উপরোক্তদের হাতে সর্ববৃহৎ মাদকের চালান লুটপাটের কথা স্বীকার করে বলেন, চলতি বছরের গত ১৮মার্চ সকালে কক্সবাজার র্যাব-১৫ এর চৌকষ একটি আভিযানিক দল হ্নীলা পূর্ব জাদিমুড়ার ইমান হোছনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার পুত্র ইয়াসিন আরাফাত ওরফে কালু (২১) কে ২লাখ ইয়াবাসহ আটক করে। এই মামলায় শফিক আসামী হওয়ার ভয়ে মায়ানমারের মন্ডুতে ৫/৬ দিনের জন্য পালিয়ে যায়। পরিস্থিতি শান্ত হলে লাইন-ঘাট ক্লিয়ার করে বাংলাদেশে চলে যায় শফিক। ইতিমধ্যে সে বিভিন্ন খরচ বাবদ প্রতি ১লাখ ইয়াবা চালান খালাসে ২লাখ টাকা করে নিয়ে দুই বার কাজ করে দেয়। ১৬এপ্রিল রাতে ১২লাখ ৪০হাজার ইয়াবার চালান খালাস করে তারা ৪ভাগ করে লুটপাট করে নেয়।
উক্ত বিষয়ে অভিযুক্ত শফিক ও রহিম বাদশার বক্তব্য জানার জন্য বার বার চেষ্টা করেও মুঠোফোন সংযোগ না থাকায় তাদের কারো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে স্থানীয় মেম্বারের সাথে আলাপকালে জানান,মাদকের চালান লুটপাটের বিষয়টি আমি স্থানীয় লোকমুখে শুনেছি। হয়তো এ বিষয়ে আইন-শৃংখলা বাহিনী যথাযথ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মুহাম্মদ ওসমান গণি জানান,মাদক প্রতিরোধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি প্রয়োগে টেকনাফ থানা পুলিশ অটল রয়েছে। এধরনের মাদকের চালান পাচার,খালাস কিংবা আত্মসাৎ সহ মাদকের সাথে সম্পৃক্ত কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। অভিযুক্তদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে মাদক উদ্ধারে চেষ্টা চালানো হবে।
এলাকার সাধারণ মানুষ সীমান্ত জনপদ টেকনাফে মাদকের চালান প্রেরণকারী, খালাসকারী ও গ্রহণকারীদের সনাক্ত করে এসব অপরাধ কর্মকান্ড দমন পূর্বক সাধারণ মানুষের দিনযাপন ও বসবাসের উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকারের উর্ধ্বতন মহলসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ###
